somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আসিফ ইকবাল তােরক
সুন্দর চেহাড়া মানুষকে মুখোশ দেয় আর সুন্দর মন মানুষকে সুন্দর করে! কুৎসিত মনকে সুন্দর চেহারা দিয়ে স্বল্প সময় আড়াল করা যায় কিন্তু বেশিক্ষন লুকিয়ে রাখা যায় না।

ঘুড়ে আসলাম কালভার্ট ক্লিফস স্টেট পার্ক থেকে। (ছবি ব্লগ)

২৩ শে মে, ২০১৭ সকাল ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি যখন অন্য কোনো দেশে বেড়াতে যাবেন তখন কেবল মাত্র ঐ সব দেশের আইকনিক ল্যান্ডমার্কগুলো দেখেই চলে আসবেন। যেমন লন্ডনের টাওয়ার ব্রীজ, প্যারিসের আইফেল টাওয়ার কিংবা নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টি। কিন্তু আপনি যখন স্থায়ী ভাবে কোনো জায়গায় বসবাস করা শুরু করবেন তখন আস্তে আস্তে সেখানকার আশেপাশের অনেক অজানা জায়গার খোজ পাবেন যেখানে আপনি টুরিস্ট হিসেবে হয়ত কখনই যেতেন না শুধু মাত্র না জানার কারনে। আজকে সেইরকমই একটি সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাবো আপনাদের।



জায়গাটির নাম হচ্ছে কালভার্ট ক্লিফস স্টেট। আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে মাত্র ৬৩ মাইল দূরে গাড়িতে করে যেতে মাত্র দেড় ঘন্টার মত সময় লাগে। জায়গাটা লুসবাই এ অবস্থিত এবং স্টেট এর নাম হচ্ছে কালভার্ট, সাউথ মেরিল্যান্ডে অবস্থিত। একই সাথে পার্ক, হাইকিং ট্রেইল, জলাভূমি আর সী-বিচ এর টোটাল প্যাকেজ।



গতকালই গিয়ে আসলাম জায়গাটায়। প্রত্যেকটি গাড়ির জন্য মাত্র পাঁচ ডলার এন্ট্রি ফী। কেউ চাইলে আবার ৩০ ডলার দিয়ে বাৎসরিক মেম্বারশিপও করে নিতে পারে আনলিমিটেড এন্ট্রির জন্য। আমরা সকাল ১০.৩০ এ রওনা দিয়ে ১২ টার আগেই পৌছে যাই আমাদের গন্তব্যে। ঢুকার সাথে সাথেই পরে সুন্দর একটা রিসাইকেলড টায়ার পার্ক, টয়লেট এবং পার্কিং এর জায়গা। অপ্রয়োজনীয় টায়ার দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাচ্চাদের খেলার জিনিস আছে পার্কটিতে যে জন্য বাচ্চাদের বেশ পছন্দের জায়গাও বটে। পার্কটিতে ময়লা ফেলার কোনো জিনিস নেই তাই কোনো ময়লা থাকলে পলিথিনের ব্যাগে ভরে সাথে করে নিয়ে আসতে হয়। অল ইন অল আউট মানে হচ্ছে যা নিয়ে ঢুকবেন তা নিয়েই বের হবেন।



এখান থেকে হাইকিং এর জন্য তিনটি রুট রয়েছে। হলুদ, নীল এবং লাল। হাইকিং ট্রেইল এর শেষেই রয়েছে সী-বিচ। যদি সী-বিচ এ যাওয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে লাল হাইকিং ট্রেইল ফলো করাই ভালো কারন এটাই সবচেয়ে ছোটো রুট। যেতে দুই মাইল এবং আসতে দুই মাইল। আমরাও লাল হাইকিং ট্রেইলটা ধরে হাটা শুরু করলাম।হাইকিং ট্রেইলটা অনেক সুন্দর। দুই পাশে জন্গল মাঝখান দিয়ে ট্রেইল।



আপনি যদি ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন তাহলে অনেক তাহলে অনেক সুন্দর সুন্দর অবজেক্ট পাবেন ছবি তুলবার জন্য। যেমন বিভিন্ন জংলী ফুল, প্রকৃতি, গাছ পালা, জলাশয় আর ভাগ্য ভালো থাকলে দুএকটা কাঠবিড়ালীও পেয়ে যেতে পারেন। আমি অনেকগুলো ছবি তুলেছি বিভিন্ন ধরনের ফুল আর যাওয়ার রাস্তা আর জলাশয়ের।



প্রায় ৪৫ মিনিট হাটার পরে আমরা অবশেষে বীচে এসে পৌছালাম। একেবারেই শান্ত সমুদ্র। যদিও সমুদ্র সৈকত হিসেবে এটা অনেক ছোট এবং সামারের উইক্যান্ডে অনেক বেশি ভিড় জমে যায়, তারপরও সময় কাটানোর জন্য বেশ ভালো যায়গা। সমুদ্র সৈকতটা পেট ফ্রেন্ডলি তার মানে আপনি আপনার পোষা কুকুর বিড়ালকে সাথে নিয়ে যেতে পারবেন। এই সমুদ্র সৈকতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে এখানে ফসিল পাওয়া যায় ভাগ্য ভালো থাকলে হাংগরের দাতও পেয়ে যেতে পারেন। সৈকতে অনেক শামুক আর ঝিনুকের ভাংগা খোলস ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।



আমিও কিছুক্ষন পানিতে ফসিল আর হান্গরের দাত খুজলাম কিন্তু কপাল খারাপ কিছুই পেলাম না। এর পর হতাশ হয়ে কিছুক্ষন সমুদ্রে পানিতে পা ভিজিয়ে হাটলাম আর আশেপাশে ঘুরে ফিরে জায়গাটা দেখলাম। কিছু ছবি তুলে আর সৈকতের বালিতে কিছুক্ষন বসে থেকে আবার ফেরার জন্য লাল হাইকিং ট্রেইলটা ধরলাম। বেলা তখন বিকেল চারটা। আবার ৪৫ মিনিটের হন্টন শেষ করে পার্কিং লটে ফিরে আসলাম। অসম্ভব সুন্দর একটা দিন কাটিল। পরিশেষে বলতে হবে পরিবার আর বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে ঘুরার জন্য খুব সুন্দর জায়গাটা



যারা যেতে চান তাদের জন্য কিছু উপদেশঃ-
১) জলাশয় আর জন্গল এর কারনে অনেক পোকা মাকড় থাকে তাই অবশ্যই সাথে কারে বাগ স্প্রে নিয়ে যাবেন।
২) পাঁচ ডলার এন্ট্রিফী প্রত্যেক গাড়ির জন্যে।
৩) যদি গরম থাকে তাহলে শনি রবিবার ওভার ক্রাউডেড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪) সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার জন্য ২ মাইল ২ মাইল চার মাইল হাটার প্রস্তূতি নিয়ে আসতে হবে।
৫) ফসিল হান্টিং এর জন্য আদর্শ জায়গা।

ইউটিউবে ভ্রমনের ভিডিওটি দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন: Click This Link তাহলে এতটুকুই থাকুক অন্য আরেকদিন দেখা হবে। সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১৭ সকাল ৯:৪৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×