somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার একাডেমি লাইফের ভ্রমনকাহিনী-১

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখন একাডেমিতে সেকেন্ড ইয়ারের ক্যাডেট ৷ আমাদের উপরে একটা সিনিয়র ব্যাচ আর নিচে একটা জুনিয়র ব্যাচ৷সিনিয়রদের হাতে একাডেমির সর্বময় ক্ষমতা ৷তারা যেকোন ইনডিসিপ্লিন ধরতে সদা ব্যাস্ত তবে আমরা কজন সিনিয়রদের ফাঁকি দিয়ে বিকেলে প্রায়ই বেড়িয়ে পড়তাম কাছে গ্রামের পথে তবে ফিরতে হবে সন্ধ্যার আগে এটা মাথায় রেখে৷ শুক্র,শনি অফডে আর এই কদিন প্লান থাকতো দূরে কোথাও যাওয়ার৷আর সেবার ছিল শুক্র,শনি আর বুদ্ধিজীবি দিবস নিয়ে তিনদিন অফডে৷ তাই বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আমি চিন্তাভাবনা শুরু করলাম কোথায় যাওয়া যায় এই অল্প সময় দূরে কোথাও৷ নীলগিরির নাম শুনেছি এর আগে অনেক আর বান্দরবান চিটাগাং থেকে দু আড়াই ঘন্টার পথ৷তাই আমাদের এডভেঞ্চার টিমের সবাইকে প্রস্তাব দিলাম বান্দরবান যাবার৷যেই ভাবা সেই কাজ ৷ক্যাডেট ক্যাপটেন স্যারের কাছ থেকে দুদিনের অনুমতি পেলাম৷ ভাবলাম সমস্যা নাই একদিন বেশি লাগলে হালকা পানিশমেন্টই খেতে হবে ৷নো রিস্ক নো গেইন B-) পরদিন সকালেই বান্দরবানের বাসে উঠলাম আমরা চারজন আমি,মাহমুদুল,নাজির আর আকরাম ৷দুপুরে পৌছলাম বান্দরবান৷হোটেলে না উঠে আগে বালাঘাটার স্বর্নমন্দিরে চলে গেলাম৷ আদিবাসী ছাড়াও দেশে বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকেমুখর স্বর্নমন্দির এলাকা৷ ছবি তুললাম অনেক৷ মন্দিরে ঢুকতে পারলাম একটু পরে তার আগে কাছে একটা কুপের কাছে গেলাম ৷কূপটার নাম মনে হয় দেব কূপ আর এখান থেকে স্বর্নমন্দিরটা বেশ সুন্দর লাগছিল৷ স্বর্নমন্দিরে যখন গেলাম তখন দুপুর হয়ে গেলো৷ মন্দিরটা পাহাড়ের চূড়ায় হওয়ায় উপর থেকে বান্দরবান শহরটা দেখতে পেলাম৷ সবুজের সাথে উঁচু পাহাড়ের সৌন্দর্য্য, আমরা সত্যিই বিমোহিত হলাম৷স্বর্নমন্দির থেকে ফিরে শহরে এসে স্বস্তা দেখে একটা হোটেলে উঠলাম৷ স্টুডেন্ট মানুষ হিসেব করে খরচ করতে হয়৷বিকেলে চলে আসলাম মেঘলা,নীলাচল৷ এখানে পাহাড়ের মাঝে লেক, ঝুলন্ত সেতু, চিড়িয়াখানা সবমিলিয়ে দারুন একটা বিকেল গেলো৷মেঘলায়৷মেঘলায় শীতের বিকেলের সোনাঝরা রোদ্দুরের পাহাড়ী সৌন্দর্য দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ৷মেঘলা থেকে বেড়িয়ে সামনে নির্মানাধীন আরেকটা পার্কেও ঢুকে পড়লাম৷এখানে বেশ নির্জন৷লেখা দেখে বুঝলাম এটা একটা স্মৃতি পার্ক৷সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরলাম৷ সন্ধ্যার পর বান্দরবান শহর দেখতে বেড়িয়ে পড়লাম৷সাংগু নদীর উপর ব্রিজটার উপর কিছুক্ষন দাড়ানোর পর হাটতে হাটতে পুলিশ লাইনের সামনে চলে আসলাম৷এখানে একটা মনুমেন্টের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় এক লোক কানের কাছে "মাল লাগলে পিছনে আসেন "বলায় চমকে তাকালাম৷ দেখলাম লোকটা চলে যাচ্ছে৷বুঝলাম মেয়ে বা মহূয়ার আমন্ত্রন যা এই পর্যটন এলাকা খুব স্বাভাবিক৷আমন্ত্রন প্রত্যাখ্যান করে দাড়িয়ে আমরা কিছুক্ষন হাসলাম৷ আকরামের ঘুম পাওয়ায় নাজিরের সাথে ওকে পাঠিয়ে দিলাম৷হোটেলে নাজির আর আকরাম দুজনই খুব আরামপ্রিয় প্রকৃতি আর আমরা দুজন ঘুরতে এসে হোটেলে বসে থাকা টাইপ না৷ আমি আর মাহমুদুল রাতের বান্দরবান শহর দেখতে দেখতে অনেক দূর একটা আবাসিক এলাকায় চলে আসলাম৷ দুটা ছেলে রাস্তায় ব্যাডমিন্টন খেলছিল আর এক আদিবাসী তরুনী মেয়ে বাসার সামনে বসে খেলা দেখছিল৷ আমরাও দাড়িয়ে ওদের খেলা দেখছিলাম৷ওদের একজন বাসা দিয়ে ডাক দেয়াতে চলে যাওয়ায় অপরজন আমাদের দিকে তাকিয়ে খেলবো কিনা জানতে চাইলো৷মাহমুদুল গেলো খেলতে আর আমি দাড়িয়ে ওদের খেলা দেখতে লাগলাম আর মাঝে মাঝে তরুনীর দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল৷ আর তরুনীও এদিকে তাকাতে চোখাচোখি হল কয়েকবার৷এর মাঝে মাহমুদুল খেলতে ডাকলো৷কতক্ষন খেলার পর দেখলাম মেয়েটা চলে গেছে৷ মাহমুদুলও যে ব্যাপারটা খেয়াল করছিলো তা ওর কাছে পরে শুনলাম৷এই শালায়ও টাংকি মারছিলো খেলতে খেলতে ৷ কিন্তু বিনানোটিশে চলে যাওয়ায় ওরও আশাভঙ্গ৷রাত হয়ে যাওয়ায় হোটেলে চলে আসতে হল৷আর এভাবেই একটি আদিবাসী প্রেম শুরু হতে হতে সারা হয়ে গেলো৷

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:২৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: বাহাদুর পাকিদের আসল চেহারা (রিপোস্ট)

লিখেছেন অর্ক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×