somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার একাডেমি লাইফের ভ্রমনকাহিনী-২

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরদিন খুব সকালে উঠলাম৷ কারন নীলগিরি যাওয়ার প্লান আজ৷নীলগিরি শুনেছি বান্দরবান শহর থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলো দুরে আর যেতে হয় নাকি সাধারনত চান্দের গাড়ি চড়ে৷ পকেটে টাকাও বেশি নাই আর আজই ফিরতে হবে চিটাগাং এ৷ অবশ্য এ সবকিছু মাথায় রাখলে নীলগিরি যাওয়া হবে না৷ আর নীলগিরি যাওয়া না হলে বান্দরবান ট্যুর মোটামুটি ব্যর্থ ৷ তাই আপাতত সবকিছু মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আমরা চারজন চলে আসলাম বান্দরবান শহরের হিলবার্ড নামক স্থানে৷ এখান থেকে নীলগিরির পথে চান্দের গাড়ি যায়৷ এসব গাড়ি চৌদ্দ পনেরো জন নিয়ে চার-পাঁচ হাজার টাকায় নীলগিরি যায় এবং আসে৷ এত টাকা শুনেতো পুরো হতাশ হয়ে গেলাম৷ কারন সবার মিলেও এত টাকা নাই আমাদের কাছে৷ আর কিছুক্ষন পর শেষ গাড়ি যাবে নীলগিরির পথে৷ যখন আশা প্রায় ছেড়েই দিলাম তখন দশজনের এক পার্টি আসলো নীলগিরি যাবার জন্য৷ হাফ ছেড়ে বাঁচলাম আর উঠে পড়লাম চান্দের গাড়িতে৷ এক দম্পতিকে দেখলাম মনে হয় হানিমুন কাপল নীলগিরি যাবে কিন্তু দুজনের যাওয়ার মত কোন যানবাহন পাচ্ছে না বলে বেশ হতাশ মনে হয় ৷ মায়া লাগলো তাদের এই অবস্থা দেখে৷ আমাদের গাড়িতে জায়গা থাকলে আমাদের সাথে যাবার আমন্ত্রন জানানো যেতো৷ ধুর একটু জায়গাও অবশিষ্ট নাই! সবাই উঠে পড়তেছে৷ আর আমি যখন বসে বসে সুইট কাপলের দিকে তাকিয়ে এসব ভাবছিলাম আর ভাবছিলাম এরকম আমি কখন আসবো B-) তখনই চান্দের গাড়ি স্টার্ট হল আর আমাদের যাত্রা শুরু হল চান্দের দেশে মানে নীলগিরির পথে৷ শহর থেকে বের হতেই আস্তে আস্তে পথের দুপাশে পাহাড়ী বন বাড়তে লাগলো আর রাস্তা সোজা থেকে সর্পিল হতে থাকল৷ আকাঁবাঁকা পথের পাশে মাঝে মাঝেই গভীর খাদ৷ একটু ভুল হলেই মৃত্যুর হাতছানি ভেবে হালকা ভয়ই লাগলো ৷এরই মাঝে আমরা কজন গান ধরলাম৷ কখনো জাগরনের গান কখনো কমেডি বা রোমান্টিক গান চললো৷ সবার চেয়ে আমাদের চারজনের বয়স কম ছিল বলেই হয়ত মজাও বেশি করছিলাম আমরা তারপর আবার আমাদের ভ্রমনের মাঝে ঘরপালানো একটা ভাব আছে৷ কোন পর্যটকদেরগাড়ী ওভারটেক বা পাশ দিয়ে গেলেই ত্রাহি চিৎকারে ভ্যাবাচ্যাকা খাচ্ছিল পর্যটকরা৷ তবে মজা বেশিক্ষন স্থায়ী হল না৷ আকাঁবাঁকা লম্বা পথের জার্নি বলেই কিছুক্ষন পর গাড়ির ইন্জিনের শব্দ আর সা সা ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছিল না আর৷ মাঝে চিম্বুকে থামলো আমাদের গাড়ি৷ চিম্বুকে উঠে যত দূর চোখ যায় শুধু সবুজ পাহাড় পাহাড়৷ হালকা কুয়াশার মাঝেদূরে সাংগু নদীটা যেনো একটা রুপালী ফিতা৷অনেক পর্যটকের সমাগম চিম্বুকের উপর৷ এক বিদেশি দম্পতি তাদের কিশোর কিশোরী সন্তান নিয়ে চিম্বুক দেখতে এসেছে৷ তারা চিম্বুকে এসে বেশ মুগ্ধ তা তাদের মুখের ভাব দেখেই প্রকাশ পাচ্ছিল৷ কিছুক্ষন পর আমরা আবার চান্দের গাড়িতে নীলগিরির দিকে যাত্রা শুরু করলাম৷মাঝে মাঝে পাহাড়ী বসতভিটে আর তাদের জীবনযাত্রা চোখে পড়ছিল৷
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:৪৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: বাহাদুর পাকিদের আসল চেহারা (রিপোস্ট)

লিখেছেন অর্ক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×