
আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।
চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা,
একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।
কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক,
রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক।
আমাদের ছোট নদী
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ ছিলোনা, খুব সম্ভব ১৯৮১তে আমাদের গ্রামে ও বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পাই। কিন্তু বিদ্যুৎ বিহীন বাড়িতে থাকতে কখনো কোনো অসুবিধা হয়নি। আজও গ্রামে এমনকি ঢাকা শহরের বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ চলে গেলে আমার কখনো অসুবিধা হয় না। আমি সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ পরপর বাড়িতে যাই একবার। আমার কাছে মনে হয় বাড়িতে আমি যতোটুকু সময় ঘুমোতে পারি ঢাকাতে সেভাবে ঘুম হয় না। বাড়িতে এক ধরনের আলস্য কাজ করে - এতে করে হয়তো ঘুম ভালো হয়। দীর্ঘ ঘুমের পর জেগে উঠে লম্বা শ্বাস নিয়ে মনে হয় গ্রামের বাতাস এখনও কতোটা নির্মল আর আরামদায়ক। ভোরে ঘুম ভাঙ্গে চাপ কল চাপার শব্দে আর হাঁস মুরগি পাখির ডাকে।
আশ্চর্য হয়ে একটি বিষয় আমি সব সময় লক্ষ্য করি একই চালের ভাত গ্রামে এক ধরনের স্বাদ আর ঢাকাতে আরেক ধরনের - এটি চুলার কারণেও হতে পারে। চাপ কলের পানির স্বাদ একমাত্র চাপকল থেকে তুলে খাওয়াতেই পাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকায় ডাবের পানি আর গ্রামের বাড়ির ডাবের পানি যে কতো পার্থক্য তা বলা বাহুল্য। এ বছর করোনা প্রকোপের কারণে দীর্ঘদিন বাড়িতে যেতে পারিনি - প্রবল মনোকষ্ট নিয়ে ঢাকাতে অপেক্ষা করেছি। বাড়ির কাছাকাছি গেলেই মনে এক ধরনের শান্তি কাজ করে, এই শান্তির আবেশ নিয়ে আবার ঢাকা ফিরে আসি। আমার কাছে প্রায়ই মনে হয় গ্রাম গ্রামের বাড়ি আমাকে ডাকছে, - আমি বাড়িতে না যাওয়া পর্যন্ত মনে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করে। বাড়িতে যাওয়ার পর মনে হয় বাড়ির গাছগুলোও আমাকে দেখে জানতে চায় আমি কেমন আছি?

বাড়ির পুরোনো মাটির চুলা। এই চুলার রান্না যে কোনো ফাইভ স্টার হোটেলের রান্নার চাইতে কোনো অংশে কম নয় বরং আরও ভালো বলা চলে। আমাদের গ্রামে এখনও গ্যাস নেই, মাটির চুলাতে রান্না হয়, এছাড়া কেউ কেউ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করেন।















আত্মকথা: - পাখির যেমন নিজ নিজ নীড়ে ফেরার তাড়া থাকে ঠিক তেমনই মানুষেরও নিজ নিজ বাড়ি ফেরার তাড়া থাকে, আর এই কারণেই হয়তো ঈদ সহ নানান সরকারি বন্ধে আমরা দেখতে পাই বাস ট্রেনে উপচে পরা ভিড় করে মানুষ নিজ নিজ আপন নীড়ে ফিরছেন - নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি ফিরছেন। বৃষ্টি পছন্দ করেন না বাংলাদেশে এমন মানুষ পাওয়া বিরল, কিন্তু বাড়ির বাইরে কখনো যদি বৃষ্টিতে আটকা পরেছি সব সময় একই চিন্তা মাথায় কাজ করেছে কখন বাড়ি ফিরবো, বৃষ্টির সৌন্দর্য তখন গায়েও লাগেনি।
গ্রাম নিয়ে আরও লিখবো আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। সামহোয়্যারইন ব্লগের সকলকে অগ্রিম ২০২১ নববর্ষের শুভেচ্ছা রইলো।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার:
সামহোয়্যারইন ব্লগ। নির্বাচিত পোষ্টে “উক্ত লেখাটি” স্থান দেওয়াতে সামহোয়্যারইন ব্লগ কর্তৃপক্ষকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
বিশেষ ধন্যবাদ: (যাদের ব্লগিং দেখে ছবি ব্লগ করার আগ্রহ পেয়েছি)
ছবির যাদুকর ব্লগার কাজী ফাতেমা ছবি
ব্লগার মরুভূমির জলদস্যু
ছবি: স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

