somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বট বৃক্ষ ছায়া তলে

২৫ শে জুন, ২০১১ রাত ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাল বিকেল পাঁচটায় বটতলার সেই জায়গায় দেখা কর।আমি তমার অপেক্ষায় থাকবো।
ইতি তোমার সুমন

কলেজ থেকে ফেরার পথে সুমন ফারজানার সামনে চিঠিটা ফেলে যায় সাইকেল মাড়িয়ে।এদিক ওদিক তাকিয়ে ফারজানা সেটি তুলে নেয় দ্রুত।
বিকেল পাঁচটা।গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এসে পাশে বসে পরে ফারজানা।জায়গাটা এমন যে আস পাশ থেকে কারো দেখার উপায় নেই।নিরিবিলি কথা বলার জন্য এ জায়টা ঠিক করে রেখেছে তারা।সমাজের চোখা লোকের অভাব নেই যাদের নজরই থাকে খারাপের দিকে।
তুমি জান মা প্রায়ই এই বট গাছটার কথা বলে।
ফারজানা ,কি বলে?
বাবার সাথে মায়ের পরিচয় হয় এখানেই।সেদিন নাকি খুব বৃষ্টি হচ্ছিল।মা ছিল নানার সাথে।বৃষ্টি থেকে বাচতে আশ্রয় নেয় এই গাছটার নিচে।মা ঠাণ্ডায় কাপতে ছিল।বাবার হাতে ছাতা থাকলেও বৃষ্টির বেগ এতো বেশি ছিল যে বাধ্য হয়ে এখানে আসে।মায়ের কাঁপুনি দেখে বাবা ছাতাটা বাড়িয়ে দিয়ে ছিল।আর সে খান থেকেই শুরু।
আর শেষটা তুমি।
সুমন হেসে বলে, ঠিক বলছ।


মঞ্জু সব ঠিক আছে তো?
জি বস, সব ঠিক আছে।
শোন রহিম মেম্বারের বাড়ি গিয়ে তার দরজায় নক করবি।তোর দুই পাশে দুজন দুজন চারজন আড়ালে থাকবে।গিয়ে বলবি আমি দূর থেকে এসেছি মেম্বারের সাথে কথা বলতে চাই।খোলা মাত্রই চার জন ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ডুকে বেদে ফেলবি সবাইকে।আমরা কয়েক জন বাহির পাহারা দিবো আর কয়েক জন ভিতরে ডুকে যাবে সাথে সাথেই।কাজ শেষ হলে এই বট গাছের নিচে আসবি।
দরজা না খুললে?
কুঠার দিয়ে ভেঙ্গে ফেলবি।কিন্তু সেটা করতে হবে খুব দ্রত।

কিরে চাঁদ গাছে কি করিস?
মটর সাইকেল চালাই।তুই চালাইলে আয়।
না আমি উপরের মোটা ডালটায় ঘর বানাবো।
ওঠ তাইলে।চাঁদ খুব কষ্ট করে উঠে যায় গাছে।তারা বলে তুই ঘর বানা আর আমি তোর ঘরে মটর সাইকেলে করে যাবো।
আচ্ছা আসিস।
তারা ডালে বসে বলে, ভো......ভো......ভো.........
মাথার উপর দিয়ে চলে গেল একটা এরোপ্লেন।দুজনেই হা করে চেয়ে রইল সেদিক।একেবারের মাথা ঘার ঘুড়িয়ে যত দূর পর্যন্ত দেয়া যায় চেয়ে রইলো।চলে যাওয়ার পর চাঁদ বলে জানিস প্লেনের মধ্য ছোট ছোট মানুষ থাকে।
তারা বলে, না হলে ঢুকবে কি ভাবে? পুতুলের মত তাই না?
হম।
ওরা কি আমাদের মত খায়?
না।ওরা ওষুধ খায়।কিন্তু কোথায় যায় জানি না।খুব সম্ভব চাদের দেশে।
চাঁদ আর তারাদের বয়সী রাখাল মতি এসে দাড়ায়।তারা দেখতে পেয়ে বলে, কিরে তুই ?
তোরা খেলিস?
হম।প্লেনটা দেখছিস।
দেখছি।আমার দিকে একবার চাইছিল।আমিও তোদের সাথে খেলবো।
তারা, কিন্তু গরু ত অন্যের ক্ষেতে গিয়ে ফসল খাবে।
একেবারে উপরের ডালে বসলে সব দেখা যায়।সেখানেই থাকবো।

চাচা তুমি যখন ছোট তখন এই গাছটা কত বড় ছিল?
এক রকমই দেখতেছি রোটন।কোন পরিবর্তন হয় না।শুধু কয়েকটা ডাল মরে গেছে আবার কয়েকটা জন্ম নিয়েছে।
এই গাছে নাকি অনেক ঘটনা ঘটতো?
শুনছি তয় দেখি নাই।যুদ্ধের সময় তিন দিন এই গাছে লুকিয়েছিলাম।একটা ঝাপরী ডাল ছিল, বাহির থেকে কিছু দেখা যেতো না।কিন্তু কেমনে জানি পাক বাহিনী টের পাইলো।আইসা হামলা চালাল।তোর বারেক চাচা সেই যুদ্ধে মারা যায়। ওরা এতো গুলি চালাই ছিল যে অই ডালটা পরে মইরা যায়।আমরা বেশি ছিলাম না।বারো জন।আর পাক আঁচিল ত্রিশ জনের মত।কিন্তু আমাগো সাথে পারে নাই।
আব্বা বারেক চাচার কথা প্রায়ই কয়।
তখন তোর আব্বার বয়স দশের মতন।

এই সুমন শুনছিস?
কি?
বট গাছটা নাকি কেটে ফেলা হবে।
বলিস কি?
হ্যাঁ।আমি তো সেজন্যই সে দিকে যাচ্ছি।
চলতো।
চেয়ারম্যান বিশাল বাহিনী নিয়ে এসেছে গাছ কাটার জন্য।আর গাছটা ঘিরে রেখেছ গ্রাম বাসি।সুমন এগিয়ে গিয়ে বলে কি শুরু করছেন আপনারা?
চেয়ারম্যান তোমরা পোলাপান সর।বড়দের মধ্য নাক গলাও কেন?
রোটন, বলে আপনারা বাধ্য করছেন।
ডাকাত সরদার পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে কথা শুনছে।সে এর প্রতিবাদ করে পারে না কারণ চেয়ারম্যান প্রায়ই তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় ধরা খেলে।কিন্তু এখন থেকে তার আশ্রয় স্থল ধংস হচ্ছে।দেখা ছাড়া কিছু করার নেই।
সুমন বলে আপনারা ফিরে যান।না হলে এখানে রক্ত বন্যা বয়ে যাবে।
চেয়ারম্যান গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ফিরে যায়।কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে সবাই দেখে এলাকা একেবারে ফাকা।গাছের চিনহও নেই।সবাই কষ্টে মুখ ভার করে রাখে।যেন এ গ্রামে মানুষ মরার মড়ক লেগেছে।
রোটন সুমনকে এসে বলে দেখ আমরা এতো মানুষে এর প্রতিবাদ করলাম কিন্তু গাছ কাটা থেকে ফিরাতে পারলাম না। এখানে আমাদের কত সৃতি, কত ইতিহাস।গরমে এই বটের ছায়া তলে আশ্রয় নিয়েছি, আশ্রয় নিয়েছিল মুক্তি যোদ্ধারা, ছেলেরা পড়ন্ত বিকেলে খেলা করেছে।
সুমন বলে, দেখ এই বট বৃক্ষের সাথে যদি পুরো দেশের তুলনা করি তবে একই দেখত পাবো।আমাদের সাধারণ মানুষের এতো চাওয়া পাওয়া ,চিন্তা চেতনা কিন্তু ওনারা যা বলেন তাই হয়।ওনাদের যা করার করেই যায়।ওনাদের টাকা আছে ক্ষমতা আছে, ওনাদের কথা মানুষ খুন করতে পারে এমন মানুষও আছে।কিন্তু আমাদের শুধু জনতা আছে।যা ক্ষমতার কাছে মূর্ছা যায়।


৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রবাদ প্রবচন ও আলী ভাইয়া, জী এস ভাইয়া, খায়রুলভাইয়া ও সত্যপথিকভাইয়াদের পোস্ট..... এই আমি অপ্সরা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২২


এই অপ্সরা শুধু একটা নিকই না। জীবনের একটা অংশের নাম। জীবনটা শুরু হয়েছিলো যবে থেকে তার পর ৫/৬ বছর থেকেই জীবনের নানা ক্ষনের নানা মানের উদ্দেশ্য বিধেয় ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×