২।আপনি মুসলমান ।জানা মতে নিয়মিত নামাজ পরেন এবং শিক্ষিত।আপনার জানার কথা দেশে যদি একটি মানুষও অভুক্ত থাকে তবে আল্লাহর কাছে তার জবাবদিহি করতে হবে রাষ্ট্র পরিচালককে।দেশে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অনাহার দিন কাটায়।আপনার হিসেবটা চিন্তার বিষয়।
৩।আপনি কি মন্ত্রীদের কাছে বাধা?কারণ আপনার মন্ত্রীরা কোন কিছু তোয়াক্কা না করে যখন যা মুখে আসছে বলে যাচ্ছে অনায়াসে।মৃত্যু নিয়ে করছে তামাশা।কি করে এরা এতো সাহস পায় আপনি থাকতে?
৪।আপনার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যেদিন বলেন দেশের আইন শৃঙ্খলা ভাল -সেদিন গন-পিটুনিতে মানুষ মারা যায়, যে দিন অর্থ মন্ত্রী বলে শেয়ার বাজার ভাল -সেদিন শেয়ার বাজার ধস, যে দিন বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন -জিনিষ পত্রের দাম কমে যাবে সে দিনই বেড়ে যায়।আমরা সাধারণ মানুষ জানতে চাই সমস্যাটা কোথায়? এরা যদি অযোগ্য হয় তবে সরিয়ে দিচ্ছেন না কেন?
৫। যে মন্ত্রী নিজের নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে সে কি আদৌ সুস্থ? অন্যান্য দেশে রেল এক্সিডেন্ট করলে সাথে সাথে রেল মন্ত্রী পদত্যাগ করে।কিন্তু রেল দুর্ঘটনায় লাইন ম্যানেরই অপারগতাই বেশি থাকে।তবু মন্ত্রী সব দায় নিজের কাঁধে নিয়ে সরে পরেন।কারণ তাদের নৈতিকতা ভাল, ব্যক্তিত্ব ভাল, আত্মসম্মান বোধ ভাল।কিন্তু শুধু আপনার নেতা নয় দেশের অন্যান্য দলের নেতাদেরও একই আত্মসম্মানের বোধের অভাব।দেশে আজঅব্ধি (মাত্র কজন)ছারা কোন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে দেখলাম না, মাথায় হাজার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও।তাহলে আপনিই বলুন যাদের নৈতিকতা নেই তারা আমাদের ভাল রাখবে কি করে?এতো কথা,এত কিছু ঘটে গেল, আপনার দলিও লোকজনের কটাক্ষ, তবু আপনার যোগাযোগ মন্ত্রী এখনও পদত্যাগ করে নি।তাহলে এর আত্মসম্মান বোধ বলে কিছু আছে?
৬।প্রধান মন্ত্রী, আপনি পরিবর্তনের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছেন।আমরা অনেক বেশি আশাবাদী ছিলাম।কিন্তু জয়নাল হাজারি, তাহের,শামিম ওসমান(যে কিনা আপনার সাংসদকেই অপমান করে) এখনো বাহু উঁচিয়ে আছে।বলতে পারেন যে এদের নির্দিষ্ট অভিযোগ খুঁজে পাওয়া যায়নি(রাজনৈতিক ডায়লগ হলে)।তাহলে বলতে হয় তারেক কোকো ভাল মানুষ। তাহেরের ছেলে, সাজেদা চৌধুরীর ছেলেকে ফাঁসির আসামী হওয়া সত্যেও ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, শেয়ার বাজারের পরিণতি আমরা আজও জানি না।এই আপনার পরিবর্তন?
৭।আপনার প্রতিটা বক্তৃতায় বিরোধীদলের কুৎসা থাকে।এ ছাড়া কি আর কোন প্রসঙ্গ নেই?
৮।উপরের কথা গুলো মেনে নেয়ার বা হজম করার মানসিকতা খুব কম মানুষের আছে।আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তো নেই বললেই চলে।কিন্তু আপনি যেনে রাখুন আপনি যদি পরাজিত হন তবে উপরের কারণ গুলোর জন্যই হবেন।কিন্তু গত নির্বাচনে যারা বাধ্য হয়ে এতো দিন বিএনপি করেছিল এবং সেই মুখোস ছুড়ে ফেলে দিয়ে গত নির্বাচনে আপনার দলের হয়ে কাজ করেছে, আপনি যদি আগামী ক্ষমতা আসতে না পারেন তবে তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ? যাদের দৌড় মসজিদ পর্যন্ত তাদের করুন পরিণতি হবে?তারা কি বাড়ি ঘরে থাকতে পারবে? কারণ আমি দেখছি দল বদল হলে মানুষের কি করুন ,ভয়াবহ পরিণতি হয়।আপনার না হয় থাকার স্থান আছে, সম্মান আছে, কিছু করতে গেলে ভাবতে হবে, কিন্তু তারা, তাদের কি হবে? এইসব সাধারণ নেতাদের মেরে ফেলা হলে আপনি না হয় শোক জানাবেন কিন্তু যার পরিবার থেকে মানুষটা চলে যাচ্ছে বা যাবে তাকে তো ফিরিয়ে দিতে পারবেন? আপনার তো পরিবার হারানর যন্ত্রণার কথা ভুলে যাওয়ার কথা নয়।এরাই কিন্তু বার বার আপনার কথায় রাস্তায় এসে দাঁড়ায় বা দাঁড়িয়েছে।আপনার কেউ এদের রক্ষা করতে পারবেন না।কারণ আপনার ক্ষমতা শেষ, সব শেষ।কিছু করতে পারবেন না,কিচ্ছু করতে পারবেন না।
আপনি প্রধান মন্ত্রী হয়েছেন সুবিধা পেয়েছেন কিন্তু তারা ত সুবিধা পায় নি।বিরোধী থাকা কালে আপনাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল আপনি ভুলে গেছেন।মেরে ফেলা হয়েছে শাহ এমএস কিবরিয়া, আহসাউল্লায় মাষ্টার।একবার ভাবুন যেখানে একজন বিরোধী দলিও নেতাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়, শাহ এম এস কিবরিয়া, আহসাউল্লায় মাষ্টারকে মেরে ফেলা হয় তাহলে পরবর্তীতে আপনার দল ক্ষমতা আসলে না পারলে লীগের অস্তিত্ব এরা রাখবে?
৯।আপনি আপনার বাবার স্বপ্ন ভুলে যাবেন না।আপনি যে পথ অবলম্বন করছেন তা অন্যান্য দলও করছে।তাহলে মুল পার্থক্য কোথায়?
১০।দেশে প্রচুর আইডিয়া বাজ আছেতাদের সহায়তা নিতে বিশ্বাস করি আগামী কিছু দিনের মধ্য সমস্যা সমাধানের একটা পথ তারা দেখাতে পারবে।
আপনি হয়তো আপনার আসে-পাশে তোষামোদকারীদের কারণে জানতে পারছেন না দেশের মানুষ এখন কি বলছে।এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে আপনার দলের অবস্থান কি হবে?কিন্তু আমরা যারা একেবারে মানুষের সাথে মিলে থাকি তারা দেশের অবস্থা সম্পর্কে জানি।
এখন সিদ্ধান্ত আপনার।যারা তখন আপনাকে সাপোর্ট দিয়ে ভুল করেছিল তাদের বাঁচাবেন নাকি মেরে ফেলবেন।
আপনাদের কাছে আমাদের জীবনের দাম নেই।তারেক, মিশুক মুনির চলে গেল।কয়েক দিন উত্তেজনা চলবে।তারপর সব নিভে যাবে।একই পরিণতি আমারও হতে পারে,প্রস্তুত আছি।কারণ এখন তো বিনা বিচারে------।এতো ক্যামেরার চোখ থাকা সত্ত্ব্যেও লিমনে ঘটনার জন্য কেউ স্বাস্তি পেয়ে বলে জানি না।
বাবা যুদ্ধ করে স্বাধীন করছেন কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিলেন স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।সে দায়িত্বটা আমাদেরই নিতে হচ্ছে আগামীতে।কারন আপনারা বার বার আমাদের সাথে খেলে যাচ্ছেন।তরুণদের রক্ত উষ্ণ হতে দিয়েন না।দেশের সকল অর্জন হয়েছে এই তরুণদের দিয়েই।শুধু একটা জীবনের প্রয়োজন।আর তা যদি আমার যায় আপত্তি নেই।মৃত্যু একবারই।
প্রস্তুত আছি।গুলিটা মাথা বরাবর করতে বইলেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

