
বহুদিন পর, দেখা হলো বন্ধুর সাথে।
মাঝে পার হয়ে গেছে দশটি বসন্ত।
আমরা বসলাম টেবিল জুড়ে।
খেলাম বিভিন্ন খাবার।
চুমুক দিলাম কফিতে, কখনও বা ধোঁয়া ওঠা চায়ে। বার বার।
টুকটাক কথা হচ্ছিল। ঝর্নার জলের মত হাসি গড়িয়ে পড়ল।
আশপাশের টেবিলের তীর্যক দৃষ্টি আমরা উপেক্ষা করলাম।
এগিয়ে চলল আড্ডা। হাসি। ঠাট্টা।
বন্ধুটি গিটার বাজাতো। এখনও বাজায়।
দেখতে সেই একইরকম আছে।
বদলায়নি একটুও।
সেই ছিমছাম পেটানো শরীর।
ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, চুলগুলো কপালে ঝোলানো।
গিটারে আজও ঝড় তুলতে পারে, বরং আরও বেশি।
কার্লোস রোমেল - ডাকতাম আমরা। সান্তানার সাথে মিল করে - কার্লোস রোমেল।
গিটারের কারুকাজে আমাদের বিস্মিত করত।
মনে আছে,
একবার দু'জন মেয়ে প্রোগ্রাম শেষে ওর সাথে কথা বলেছিল।
গিটারকে কথা বলাতে পারলেও নিজে পটু ছিল না কথা বলায়।
লজ্জায় জড়োসড়ো হয়ে গিয়েছিল।
এদিকে আমার মধ্যপ্রদেশ স্ফীত হয়েছে।
মাথার চুল হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।
খোঁচা খোঁচা দাড়িতে রূপালী ঝিকিমিকি।
বন্ধু কিন্তু চিরতরুন এখনও।
আমি জানতে চাইলাম তার রহস্য।
সে হাসল। সস্নেহে তাকাল তার গিটারের দিকে।
আর তারপর আমার মুখের দিকে ফেরাল হাসিমাখা দৃষ্টি।
আমি উত্তরটা পড়ে নিলাম।
স্ত্রী- সন্তান নিয়ে আমি জড়িয়ে গেছি আষ্টেপিষ্ঠে।
এইই আমার জীবন। বৈচিত্রহীন। একই দ্বায়িত্বের পুনরাবৃত্তি।
আর সে,
আজও সঙ্গী করে রেখেছে তার গিটার।
ইচ্ছে হলেই ঝংকার তুলতে পারে পারিপার্শিকতা ভুলে গিয়ে।
তার গিটার তারুন্যের সুর বাজিয়ে চলেছে আজও।
#কাব্যতাড়না
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০১৭ রাত ১০:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




