আমাদের পত্রিকাগুলো একটা আলোচিত বিষয় পেলে বড়জোর এক সপ্তাহ, দু-সপ্তাহ বা এক মাস ধরে নানা আবেগঘন শিরোনাম প্রচার করে। আহতের পাশে, নির্যাতিতের পাশে বসে থাকা করুণ মুখশ্রী মা সহ ছবি ছাপে। পত্রিকা বিক্রি হয়। আমরা পরোটা-ওমলেট সাজানো নাশতার টেবিলে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকাই এবং খুব মেকি একটা করুণ আর্তনাদ করি। ঠিক দৈনিক পত্রিকার ছাপাখানার মতোই আমাদের আবেগ-আবদার একটা জলভর্তি বাক্সে জমা হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে সেই বাক্স ভরে যায় (কারণ আগে থেকেই কানায় কানায় আবেগপূর্ণ যে!) এবং আমেদের 'বাঙালি খুবই আবেগপ্রবণ জাতি' টাইপ আবেগ ফুরোতে সময় লাগে না। আমরা ভুলে যাই এক একটা মায়ের কান্না, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অবৈধ মাতৃকাধর্ষণ, পবিত্র ভূমিতে বেশ্যাখানা, কোরআন-বাইবেল রক্ষার নামে নিরীহ নিপীড়ন, পুলিশের মাধ্যমে পাচারকৃত নারী, পতিতালয়গুলোতে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ব্যবসা, সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, গেস্টহাউসগুলো কলগার্ল পরিচালনা গোষ্ঠীদের দখলে... সবই ভুলে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব। কেন আমরা ১৯৭১ কে ভুলে যাই নি? ১৯৫২ কে ভুলে যাই নি? ১৯৬৯ কে ভুলি নি? ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভুলিনি? আরে! ভুলে গিয়েছি বলেই তো একদিনের জন্য ঈদের মার্কেটিং করতে হয়, ভুঁড়িওয়ালা লম্পট ফ্যাশন ডিজাইনারগুলো কিছু বাল-ছাল মার্কা পোশাক ডিজাইন করে হাতে ধরিয়ে দেয়... এই তো আমরা!
বরিশাল, মে ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- অস্ত্র মামলায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আহত ঝালকাঠির কলেজ ছাত্র লিমনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলার রাতে তাকে ঝালকাঠি জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
জেলার মো. আমানুল্লাহ বলেন, লিমনকে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। তাকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়েছে।
অবশেষে দেশের দ্বিতীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ক্রসফায়ারে সন্ত্রাসী উৎপাদনকারী দেশ জাতির চিরমঙ্গলকামী গুলি করে পা-কাটা রেপিড একশান ব্যাটালিয়ান (নামটা শুনলেই বাঙালির বুক গর্বে ফুলে ওঠে! নিরর্থক একটা নাম!) নিরীহ যুবক লিমনকে জেল হাজতে পাঠিয়েই ছাড়লো। সরকার এবারো চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দিলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনও এহেন নির্দয় কর্ম করে নিজের মাতৃত্ববোধের প্রশ্ন তুললেন। প্রধানমন্ত্রী নারী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও নারী তাহলে এদের নিশ্চয়ই ছেলে-মেয়ে আছে যেহেতু বিবাহিত? প্রশ্ন হলো লিমনকে এরা নিজের ছেলে ভাবতে পারে নি? লিমন দারিদ্র্যের প্রতীক বলে তাকে রাস্তার ময়লা ভাবতে হয়েছে? Poverty Symbol লিমন এর গা দিয়ে হয়তো গন্ধ আসে... আর সংসদ ভবনের মন্ত্রী-এমপি নামধারী কুত্তাগুলো দামি পারফিউম হয়তো মাখে কিন্তু তাদের মুখের গন্ধে যে এইসব লিমনরা টিকতেও পারবে না সেটা মন্ত্রী-এমপিদের থুথু-ছেটা বিকৃত মুখ দেখলেই বুঝা যায়! সত্যিই সেলুকাস! বিচিত্র এই বাংলাদেশ। নির্দোষকে জেলহাজতে ঢুকতে হয় আর কালো সন্ত্রাসী বাহিনীর সন্ত্রাসীরা আনন্দে নিরাপদে আরো এক লিমনের সর্বনাশ করার জন্য ঘুরে বেড়ায়। আড়ালে রয়ে যায় গডফাদাররা, রিয়েল মাদারফাকাররা (এখানে এরচাইতে সুন্দর শব্দ আর খুঁজে পাচ্ছি না!)
সত্যিই আমরা বড় নপুংশক জাতি! ২০ কোটি মানুষ মাত্র একজন লিমনকে বাঁচাতে পারলো না... লড়তে পারলো না নপুংসকদের বিরুদ্ধে!
ঋণস্বীকার :
বিডিনিউজ২৪.কম
Click This Link
একদল নপুংসক, কালো সন্ত্রাসবাহিনী আর হতভাগা Poverty Symbol!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।