জি্বনের বাদশা পোস্ট একটা দিছেন Deja Vu। আমার হঠাৎ করে মনে হল মোড়ের মাথায় ফেলে আসা চেনা খাম্বার কথা। এর পর থেকে যত জিংক কোটেড খাম্বা দেখেছি মনে হয়েছে চেনা চেনা মনে হয়, তুই কি আমার পাড়ার সেই খাম্বা।
এই চেনা মনে হওয়ার যেন শেষ নেই, চেহারা না মিললেও, মাঝে মাঝে হৃদ্যতার জায়গা থেকে মনে হয় বুঝি কনফুসিয়াসরে চিনি।
ক.
আমার মায়ের এক খালাতো বোন ঠিক আম্মার মত দেখতে, আমরা অনেকবার ভুলে বলে ফেলেছি '
' আম্মা চলো যাই ''।
খ.
প্রথম র্বষ ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার ঠিক আগে ফিজিক্সের একদম নতুন ইয়ারের একটা মেয়ে এসে বলল, '' আচ্ছা আমাদের ওরিয়েনটেশন কোথায় ''। আমি পড়লাম মহাফাঁপরে এত চেনা কেন মনে হয়, কেন আজকেই পরীক্ষা হতে হবে।
গ.
নটরডেম কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। শনিবার দিন ল্যাব শেষে ফিরছি, আসার পথে সুইস প্লাসে গিয়ে চিকেন বান কিনছি, বাসায় গিয়ে আমি আর দোস্ত খাব। বাইরে বেরিয়ে রিকশা ডাকতে যাবো দেখি, সুইসের বাইরে নীল জামা পরা একজন। কেন যে এত পরিচিত লাগল জানি না। দেখছি, দেখছি ..........দেখছি, এক সময় সামনের গাড়িটা র্হন দিতে দিতে বিরক্ত হয়ে, পা বরাবর চালিয়ে দিল। ডান দিকে ঝাঁপ দিলাম। পেছন থেকে আসছিল সাইকেল। আমি, সাইকেল, সাইকেল চালক ঐ জায়গায় রাস্তায় পড়ে যা তা অবস্থা।
কেন এত চেনা মনে হয়,
তবুও হায় সে যে চেনা নয়।
ঘ.
আমাদের সাইন্স লাইব্রেরীর আশে পাশে প্রচুর কপোত-কপোতী বসে থাকত। একদিন লাইব্রেরীর পেছনে দুই বন্ধু সিংগারা খেতে যাচ্ছি। দেখলাম আমার পরিচিত এক বোরখাওয়ালী বান্ধবী বসে আছে, সম্ভবত বন্ধুর অপেক্ষায়। আমি ভাবলাম যাই কথা বলে আসি। ঐ মেয়ের নাম ধরে ওদের পেছনে গিয়ে, কেমন আছ ? বলামাত্র সে চোখ দুইটা যেরকম করে তাকাল, আমার রক্ত পানি।
পরে আমার দোস্ত পুরা পথ গালি দিল, ওর ধারণা আমি এটা একটা ফাজলামি করছি, আর কিছু না। ওরে বোঝাতেই পারিনা, যে আমার চেনা চেনা মনে হচ্ছিল।
ঙ.
কমর্াস ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, আমার ভাইয়ের এম বি এ র্ভতি পরীক্ষা। এক ছেলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, ও এসে বলল আমাকে
চিনে। আমি ওরে কোনোভাবেই মনে করতে পারিনা। আমি বলি আমি চিনিনা। সে বলে আমাকে চেনে। কি ভেজাল।
ছ .
শুধু কি আমার মনে হয়, তা না। এই কিছুদিন আগে, ওয়ালমর্াটে বাজার করার সময় দুই মেক্সিকান আমারে দেখে তাদের দেশী ভাবছে। ওরা আমারে কি সব বলে । মেক্সিকানে আমার বিদ্যা এখনো , লে সিয়েন্তো, পারা মুই এই টুকুই। কি করা ওরা আবার ইংলিশ একেবারেই বোঝে না। শেষে দফা রফা যেটা হল, সেটা হচ্ছে আমি আমার হাত দিয়ে ফুটবলের শেপ করে বুঝালাম যে , ম্যারাডোনার দেশ তোমাগো হারাইয়া দিছে, তোমাদের কি মন খারাপ? ওরা যা বুঝল তা হচ্ছে, একজন বলল, " I know english better, he '' । আমি হালাপিনো(মেক্সিকান কাঁচা মরিচ) ব্যাগে নিয়া ফুটলাম।
আমরা সবাই সবাইরে চেনা ভাবি, এ ভাবে ওরে চিনে, ও ভাবে এরে চিনে।
কিন্তু এ মন যে নিজেরেই চিনে না।
দেখ না মন ঝাঁক মারিয়ে
কর না দুনিয়াদারী
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




