somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

বিচিত্র পেশাঃ ২

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[অনেক দিন ধরে ভাবছি, বিচিত্র পেশা নিয়ে একটা সিরিজ লিখবো। পথে ঘাটে হাঁটতে গেলে সাধারণত এই ধরনের পেশার মানুষের দেখা মিলে। এই বিচিত্র পেশার মানুষদের সাথে আমি কথা বলে আনন্দ পাই, তাদের ছবি তুলি মোবাইলে। ভাবছি এই মানুষ গুলোকে অনলাইনের পাতায় নিয়ে আসবো। তবে কিছু ভুল করছি, অনেকের নাম, মোবাইল বা ঠিকানা রাখা সম্ভব হলেও তা করতে পারি নাই।]

আজকের বিচিত্র পেশার মানুষটার নাম মোঃ রুবেল মিয়া। তিনি রাস্তার ধারে চোখের সামনে এক ধরনের বিশেষ ভাজিয়া বিক্রি করে থাকেন এবং বিশেষ করে শীতের সন্ধ্যায় তার এই ভাঁজিয়া (তিনি একটা নাম বলেছেন, তা আমি এই সময়ে মনে করতে পারছি না) অনেকেই পছন্দ করে থাকেন। রামপুরা, মধুবাগ, মগবাজার এলাকাতে তিনি ঘুরে ঘুরে এই ভাঁজিয়া বিক্রি করে থাকেন।


বেশ কয়েকদিন আগে রুবেলের সাথে কথা হয়েছিল। আমাকে দেখলে বেশ সন্মান করে, আমি অনেক আগে একবার খেয়েছিলাম, ভাল লেগেছিল। তার এই ভাজিয়ার বিশেষত্ব হল, তিন পদের ডাল বাটা, নানান পদের মশলা (মশলা গুলো আমাকে বলে দিয়েছে, কিন্তু আমি প্রকাশ করছি না। হা হা হা), লবন এবং ভাঁজার আগে ছোট চিংড়ি গায়ে লাগিয়ে নিয়ে থাকেন। কখনো চিংড়ি বেটেও দিয়ে থাকেন।

দুই সাইজের ভাঁজিয়া থাকে, একটা ছোট এবং একটা বড়। ছোট সাইজের দাম ৫ টাকা, বড় সাইজের দাম ১০ টাকা। দিনে ৭০০/৮০০ টাকার বা এর বেশী টাকার ভাঁজিয়া বিক্রি করা যায় বলে জানালেন। সন্ধ্যা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সময়ে বিক্রি বেশী হয়। তবে বাসা থেকে যা কাই বানিয়ে নিয়ে আসেন তা শেষ হলে গেলেই বিক্রি বন্ধ করে চলে যান।

গত প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসা করে আসছেন। টাঙ্গাইলে গ্রামের বাড়ি থেকে এক সময় এই ঢাকা শহরে উঠে আসেন এবং শহরে যখন হাবু ডুবু খাচ্ছিলেন তখন দুই বন্ধু মিলে এই অভিনব ভাঁজিয়া বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এখনো দুই বন্ধু আলাদা করে দুই এলাকাতে এই ভাঁজিয়া বিক্রি করেন তবে থাকেন দুই বন্ধু একই এলাকাতে। রুবেল বিবাহিত এবং এক মেয়ের পিতা, খুশি মনে জানালেন তিনি ভাল আছেন। যেহেতু সকালে বাসায় থাকেন, সেই সময়েই তিনি নিজে এবং স্ত্রীর হেল্পে ভাজিয়ার কাই বানিয়ে থাকেন।

তবে ব্যবসার গাড়িটা যদি একটু গ্লাস দিয়ে ঘেরা দিতে পারতেন তবে খাবার গুলো আরো বেশী নিরাপদ হত। এখন খাবার খোলা রাখতে হয় বলে খাবারে কিছুটা ধুলাবালু পড়ে বলে অনেক কাষ্টমার খেতে চান না। খাদ্যে কোন ভেজাল দেন না, এক দিনের তেল অন্যদিনে ব্যবহার করেন না তাই কম তেলে সময় নিয়ে ভাঁজিয়া ভেঁজে তুলে থাকেন।

বিচিত্র এই দেশ, বিচিত্র এই দেশের মানুষ, কত কি বিচিত্র পেশা! তবে সবই জীবিকার টানে!

বিচিত্র পেশাঃ ১
http://www.somewhereinblog.net/blog/udraji/29997495


৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×