হার্ট আইল্যান্ড (Hart Island) সত্যি এক ভালবাসার দ্বীপের নাম। আমেরিকার নিউইউর্কের পাশের এই দ্বীপ এখন অনেকের আলোচনায়, কারন ধারনা করা হচ্ছে এই দ্বীপের গন কবর সারা বিশ্বের সব চেয়ে বড় কবর হবে। করোনা ভাইরাসে যারা মারা যাবেন এবং যাদের লাশ নেয়ার কোন লোক থাকবে না, তাদের জন্য এই দ্বীপেই গণকবরের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ইত্যমধ্যে ট্রেইঞ্জ খুড়ে কিছু কবর দেয়া হয়েছে এবং আগামীর জন্য আরো ব্যাপক আকারে রেডি করা হচ্ছে। আমরা ইত্যমধ্যে ছবিতে বা খবরে তা দেখতে পেয়েছি।

ছবি ১

ছবি ২
প্রায় দেড়শত বৎসর আগে এই দ্বীপে সাধারন মানুষের বসবাস ছিলো, পরে এই দ্বীপের লোকজন সরিয়ে এখানে বন্দীদের জন্য জেল বানানো হয় এবং এর পরে ধীরে ধীরে নাম পরিচয় সংসার হীন লোকদের কবরখানা হয়ে পড়ে। আপনারা জানেন, দুনিয়ার সেরা একটা বড় শহর হচ্ছে নিউইউর্ক, এই শহরের বিশালতা নিয়ে কথা বলা চলে না, অনেকেই আন্দাজ করতে পারবেন যদি একটা বাস্তব গল্প শুনাই, আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু এই শহরে বসবাস করে। তারা এলে এই শহর নিয়ে গল্প চলে। এদিকে এই শহরকে বাঙ্গালীদের প্রিয় একটা শহর বলা চলে, আমেরিকাতে ধারনা করা হয় ৫ থেকে ৬ লক্ষ (আমার কাছে আরো বেশি মনে হয়, কারন সঠিক হিসাব কেহ দিতে পারবে বলে মনে হয় না) বাংলাদেশী বসবাস করেন তার বেশীর ভাগ এই শহরেই বসবাস করেন।
আমার বন্ধু ইউসুফ একবার দেশে এল, আমাদের কমলা পুরে বাবুর হোটেলে আড্ডা হচ্ছে, সেই কথার ফাঁকে এই গল্প বলেছিল বলে এখনো মনে পড়ে। সে বলেছিল, বাংলাদেশে আমরা যদি কোন সুন্দর মুখের মানুষ (বাহ্যিক সব মিলিয়ে) দেখি, তবে তা আমাদের মনে যদি কয়েকদিনের বা মাসের জন্য গেঁথে থাকতে পারে, আমরা সেই লোকটা মুখ হয়ত ভুলে যেতে পারবো না অনেকদিন বা আবারো কোন মুখ দেখলে সেটা ভুলে যাব। কিন্তু আমরা যদি নিউইওর্কের রাস্তায় বা মোড়ে বসে মানুষের মুখ দেখতে থাকি তবে প্রতি ১০ সেকেন্ডেই নুতন মুখ দেখবো এবং পূর্বের জন ভুলে যাব! শহরের বর্ননায় এই কথা যদি আপনাকে বুঝাতে পারি তবে বুঝে নিন। এই শহরে সারা দুনিয়া থেকে আগত লোকেরা থাকে এবং এক থেকে আরেকজন লোকে আপনি ফেলে দিতে পারবেন না।
যাই হোক, আজ সেই সব আড্ডা নিয়ে আলোচনা নয়, আজ সেই দ্বীপের কথা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। এই নিউইওর্ক শহরের জৌলুশ যেমন তেমনি হাজার হাজার মানুষ আবার গৃহহীন, ফুটপাতে পড়ে থাকে বা এরা কোন ঘর সংসার করে না! এরা শহরের বড় বড় রাস্তায়, বড় বড় বিল্ডিং, মার্কেটের সামনে পাশে রাত কাটায়, এ এক অদ্ভুত দুনিয়া। এরা মারা পড়লে এদের মৃত শরীর কেহ দাবী করে না বা বেওয়ারিশ লাশ হয়ে পড়ে। সরকার নানান চিন্তায় এদের লাশ নিয়েই এই হার্ট দ্বীপে কবরস্থ করে ফেলে, সারা শহরে মাসের পর মাস এই লাশের সংখ্যাও কম নয়। তবে এদের একটা সিরিয়াল থাকে (ছবিতে দেখুন), দলিল নথি পত্র থাকে, যদি কখনো এদের দাবীদার এসে পড়ে তবে তাদের আবার লাশের হাড় গোড় ফিরিয়ে দেয়া হয়!

ছবি ৩, পূর্বে যেভাবে কবরস্থ করা হত, এখনো সেভাবেই করা হচ্ছে।

ছবি ৪, প্রতিটা কফিনে সিরিয়াল নাম্বার বসানো থাকে, তথ্য দিয়ে পরে লোকেশন দেখে তা পরে সনাক্ত হয়ে থাকে।
ঠিক এই কন্সেপেটেই আজকাল করোনা ভাইরাসে মৃত্য ব্যক্তিদের লাশ একই ভাবে এই দ্বীপে কবরস্থ করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে মৃতদের লাশ অনেক পরিবার নিতে চাইছে না বা একটা নিদিষ্ট জায়গাতে কবরস্থ করতে যে টাকা লাগে তা তার আত্মীয় স্বজনের কাছে নেই ফলে এই অসহায় লাশ গুলোর ঠিকানা হয়ে যাচ্ছে হার্ট আইল্যান্ডের মাটি।

ছবি ৫, এই হচ্ছে বর্তমানের ট্রেঞ্জ করা গনকবর।
আমি হার্ট আইল্যান্ডকে এক ভালবাসা বলছি এই জন্য যে, এই দ্বীপের মাটি পরম মমতায় এই লাশ গুলোকে নিজের বুকে ঠাই দিচ্ছে এবং এই পরিচয়হীন বা অসহায় পরিবার গুলোর ভালবাসার মানুষ গুলোকে চীরদিনের জন্য বুকে পেতে নিচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় মানব সভ্যতায় এই হিসাব একদিন জ্বলজ্বল করে লেখা থাকবে।
*********
যাদের তথ্যে আরো জানতে ইচ্ছা আছে, আপনারা এই লিঙ্কে ক্লিক করে দেখতে পারেন। আমি অনেক গুলো লিঙ্ক বা এই দ্বীপকে জানার জন্য দেখেছি, আমার কাছে এই লিঙ্ক সেরা মনে হয়েছে। view this link
আর যাদের পড়তে ইচ্ছা হয় না তারা আমাদের সুপ্রিয় সাংবাদিক কেরামত উল্লাহ ভাইয়ের এই ছোট রিপোর্ট দেখতে পারেন।
* আজকাল নেটে প্রায় ছবি খবরই কপিরাইট যুক্ত, ফলে তেমন ভাল ছবি পেয়েও দেয়া গেল না। যারা তথ্য অনুসন্ধান করতে চান, তারা গুগল করতেই পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




