somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

হার্ট আইল্যান্ড (Hart Island): সত্যি এক ভালবাসার দ্বীপের নাম

১১ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হার্ট আইল্যান্ড (Hart Island) সত্যি এক ভালবাসার দ্বীপের নাম। আমেরিকার নিউইউর্কের পাশের এই দ্বীপ এখন অনেকের আলোচনায়, কারন ধারনা করা হচ্ছে এই দ্বীপের গন কবর সারা বিশ্বের সব চেয়ে বড় কবর হবে। করোনা ভাইরাসে যারা মারা যাবেন এবং যাদের লাশ নেয়ার কোন লোক থাকবে না, তাদের জন্য এই দ্বীপেই গণকবরের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ইত্যমধ্যে ট্রেইঞ্জ খুড়ে কিছু কবর দেয়া হয়েছে এবং আগামীর জন্য আরো ব্যাপক আকারে রেডি করা হচ্ছে। আমরা ইত্যমধ্যে ছবিতে বা খবরে তা দেখতে পেয়েছি।


ছবি ১


ছবি ২

প্রায় দেড়শত বৎসর আগে এই দ্বীপে সাধারন মানুষের বসবাস ছিলো, পরে এই দ্বীপের লোকজন সরিয়ে এখানে বন্দীদের জন্য জেল বানানো হয় এবং এর পরে ধীরে ধীরে নাম পরিচয় সংসার হীন লোকদের কবরখানা হয়ে পড়ে। আপনারা জানেন, দুনিয়ার সেরা একটা বড় শহর হচ্ছে নিউইউর্ক, এই শহরের বিশালতা নিয়ে কথা বলা চলে না, অনেকেই আন্দাজ করতে পারবেন যদি একটা বাস্তব গল্প শুনাই, আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু এই শহরে বসবাস করে। তারা এলে এই শহর নিয়ে গল্প চলে। এদিকে এই শহরকে বাঙ্গালীদের প্রিয় একটা শহর বলা চলে, আমেরিকাতে ধারনা করা হয় ৫ থেকে ৬ লক্ষ (আমার কাছে আরো বেশি মনে হয়, কারন সঠিক হিসাব কেহ দিতে পারবে বলে মনে হয় না) বাংলাদেশী বসবাস করেন তার বেশীর ভাগ এই শহরেই বসবাস করেন।

আমার বন্ধু ইউসুফ একবার দেশে এল, আমাদের কমলা পুরে বাবুর হোটেলে আড্ডা হচ্ছে, সেই কথার ফাঁকে এই গল্প বলেছিল বলে এখনো মনে পড়ে। সে বলেছিল, বাংলাদেশে আমরা যদি কোন সুন্দর মুখের মানুষ (বাহ্যিক সব মিলিয়ে) দেখি, তবে তা আমাদের মনে যদি কয়েকদিনের বা মাসের জন্য গেঁথে থাকতে পারে, আমরা সেই লোকটা মুখ হয়ত ভুলে যেতে পারবো না অনেকদিন বা আবারো কোন মুখ দেখলে সেটা ভুলে যাব। কিন্তু আমরা যদি নিউইওর্কের রাস্তায় বা মোড়ে বসে মানুষের মুখ দেখতে থাকি তবে প্রতি ১০ সেকেন্ডেই নুতন মুখ দেখবো এবং পূর্বের জন ভুলে যাব! শহরের বর্ননায় এই কথা যদি আপনাকে বুঝাতে পারি তবে বুঝে নিন। এই শহরে সারা দুনিয়া থেকে আগত লোকেরা থাকে এবং এক থেকে আরেকজন লোকে আপনি ফেলে দিতে পারবেন না।

যাই হোক, আজ সেই সব আড্ডা নিয়ে আলোচনা নয়, আজ সেই দ্বীপের কথা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। এই নিউইওর্ক শহরের জৌলুশ যেমন তেমনি হাজার হাজার মানুষ আবার গৃহহীন, ফুটপাতে পড়ে থাকে বা এরা কোন ঘর সংসার করে না! এরা শহরের বড় বড় রাস্তায়, বড় বড় বিল্ডিং, মার্কেটের সামনে পাশে রাত কাটায়, এ এক অদ্ভুত দুনিয়া। এরা মারা পড়লে এদের মৃত শরীর কেহ দাবী করে না বা বেওয়ারিশ লাশ হয়ে পড়ে। সরকার নানান চিন্তায় এদের লাশ নিয়েই এই হার্ট দ্বীপে কবরস্থ করে ফেলে, সারা শহরে মাসের পর মাস এই লাশের সংখ্যাও কম নয়। তবে এদের একটা সিরিয়াল থাকে (ছবিতে দেখুন), দলিল নথি পত্র থাকে, যদি কখনো এদের দাবীদার এসে পড়ে তবে তাদের আবার লাশের হাড় গোড় ফিরিয়ে দেয়া হয়!


ছবি ৩, পূর্বে যেভাবে কবরস্থ করা হত, এখনো সেভাবেই করা হচ্ছে।


ছবি ৪, প্রতিটা কফিনে সিরিয়াল নাম্বার বসানো থাকে, তথ্য দিয়ে পরে লোকেশন দেখে তা পরে সনাক্ত হয়ে থাকে।

ঠিক এই কন্সেপেটেই আজকাল করোনা ভাইরাসে মৃত্য ব্যক্তিদের লাশ একই ভাবে এই দ্বীপে কবরস্থ করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে মৃতদের লাশ অনেক পরিবার নিতে চাইছে না বা একটা নিদিষ্ট জায়গাতে কবরস্থ করতে যে টাকা লাগে তা তার আত্মীয় স্বজনের কাছে নেই ফলে এই অসহায় লাশ গুলোর ঠিকানা হয়ে যাচ্ছে হার্ট আইল্যান্ডের মাটি।


ছবি ৫, এই হচ্ছে বর্তমানের ট্রেঞ্জ করা গনকবর।

আমি হার্ট আইল্যান্ডকে এক ভালবাসা বলছি এই জন্য যে, এই দ্বীপের মাটি পরম মমতায় এই লাশ গুলোকে নিজের বুকে ঠাই দিচ্ছে এবং এই পরিচয়হীন বা অসহায় পরিবার গুলোর ভালবাসার মানুষ গুলোকে চীরদিনের জন্য বুকে পেতে নিচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় মানব সভ্যতায় এই হিসাব একদিন জ্বলজ্বল করে লেখা থাকবে।

*********
যাদের তথ্যে আরো জানতে ইচ্ছা আছে, আপনারা এই লিঙ্কে ক্লিক করে দেখতে পারেন। আমি অনেক গুলো লিঙ্ক বা এই দ্বীপকে জানার জন্য দেখেছি, আমার কাছে এই লিঙ্ক সেরা মনে হয়েছে। view this link

আর যাদের পড়তে ইচ্ছা হয় না তারা আমাদের সুপ্রিয় সাংবাদিক কেরামত উল্লাহ ভাইয়ের এই ছোট রিপোর্ট দেখতে পারেন।


* আজকাল নেটে প্রায় ছবি খবরই কপিরাইট যুক্ত, ফলে তেমন ভাল ছবি পেয়েও দেয়া গেল না। যারা তথ্য অনুসন্ধান করতে চান, তারা গুগল করতেই পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:০০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×