আমাদের বিশ্বমন্ডলের এই অঞ্চলে আমার যতটুকু মনে হয় করোনা ভাইরাসকে সব চেয়ে ভাল বুঝতে পেরেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীজ্বী। আমি মনে করি তিনি শুরু থেকেই জনগণের সাথে এই বিষয়ে সৎ ছিলেন।, তার বোঝার এবং ভাষণে এই বিষয় পরিষ্কার হয়েছে, বার বার হাত জোড় করে তিনি সাধারন মানুষের কাছে এর ভয়াবহতা বুঝিয়েছেন, ভাল দিক।
আর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দিল্লীর কেজিওয়াল বেশি বিবেকবোধের পরিচয় দিচ্ছেন, তিনি সর্বপ্রথম ডাক্তার, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনিশিয়ানদের জন্য ভাল কথা দিয়েছেন, তাদের জন্য পাঁচ তারকা হোটেলের খাবারের ব্যবস্থা ও এক কোটি টাকা করে দেয়ার কথা বলেছেন, এটা তার বিরাট মনের পরিচয় বহন করে।
কলকাতার দিদি মমতা, তিনি এখনো শারীরিক ভাবে বেশী স্থান ভমন করে যাচ্ছেন এবং বেশি মানুষের কাছাকাছি থেকেছেন! তার সিরিয়াসনেস আমাকে অভিভুত করেছে শুরু থেকেই। আমি ইত্যমধ্যে তার প্রশংসা করে বেশ কয়েকটা স্ট্যাটাস দিয়েছি, তিনি সত্যই একজন সৎ এবং আদম্য নেতা, আমি তাকে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আগামীতে দেখতে চাই, যদিও এটা বেশ দুরের কথা।,
কেরেলার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই মোটামুটি ভাল অবস্থানে আছেন, তিনিও বেশ ভাল কর্মশুচি নিয়েছেন, এবং প্রতিদিন নিজের টুইটারে মৃত্যু আক্রান্তের খবরা খবর দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আমার চোখে একজন বুড় মানুষ, বয়স ৭৬ বছর, এই বয়সে আর কি সার্ভিস দিবেন! মাক্সবাদী, তবুও কাজ করছেন, কেরেলায় আক্রান্তের হার কিছুটা নিন্ম হলে বিপদ কাটে নাই! তিনি একটা নিজস্ব স্লোগান দিচ্ছেন, 'উই সেল ওভারকাম'। মানে এই বিপদের হাত যে কত লম্বা তা তিনি বেশ বুঝে নিয়েছেন!
ঝাড়খণ্ড কেন ইন্ডিয়ান একটা বিখ্যাত প্রদেশ তা আশা করি আপনারা সবাই জানেন। এই যে দুনিয়ার যত মেকাপ কিট হয় মানে নারীরা নিজদের সৌন্দর্য্য আরো আরো ফুটিয়ে তুলতে যে সকল মেকাপ সামগ্রীর কাঁচামাল মানে খনিজ দ্রব্য ব্যবহার করা হয়, তার অনেক খনিজ এই ঝাড়খণ্ডের খনি থেকে উঠানো হয়, মেকাপের প্রায় সব উপকরন হচ্ছে, নানাবিধ খনিজের বালি বা গুড়ো। অনেক দুষ্ট ছেলেরা এটাকে আটা ময়দা বললেও মুলত এই সব খনিজ দ্রব্য যা পিষে পাঊডার করা হয়ে থাকে! যাই হোক, ঝাড়খণ্ডের এই সব কথা বলেছি আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে, এই অঞ্চলের অনেক মানুষ পরিষ্কার বাংলা বুঝে এবং বলে (তবে আজকাল অনেকে এই চর্চা ছেড়ে দিচ্ছেন, তারা এখন হিন্দী লাভার্স হয়ে উঠছেন)। আর এই প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এখন হেমন্ত সরেন, তিনি তার পিতা সুযোগ্য সন্তান, তার পিতা মিঃ শিবু সরেন, ভেঙ্গে ভেঙ্গে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। মিঃ হেমন্ত সরেন বেশ তরুণ, আমি নানান খবরে আর করোনা এক্টিভিটি বুঝতে ছেয়েছি কিন্ত ভাল বুঝতে পারি নাই, নেটে এই বিষয়ে তথ্য বেশি নাই। তবে তার একটা কথা আমার বেশ মনে ধরেছে, তিনি কয়েদিন আগে বলেছেন, আপনি যদি মৃত্যু ভালবাসেন তবে ঘরের বাইরে যেয়ে করোনাকে দাওয়াত দিন! মানে। ডু নট ইনভাইট করোনা!
ইন্ডিয়ার মুখ্যমন্ত্রী কম নেই! আমার যতদুর মনে পড়ে এখন ইন্ডিয়ার প্রদেশ ৩১টা, দুই একটাতে কেন্দ্রীয় শাসন চলছে, আর বাকী সব গুলোতেই রাজ্য শাসন। সবাইকে নিয়ে আলোচনা করা যায় না, এতে লেখা অনেক বড় হয়ে পড়বে এবং আপনারা আর পড়তে চাইবেন না, জানি! কাজেই আর মাত্র একজন নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে!
তিনি উদয় ঠাকুর (ঠাকরে), মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। উনাকে তেমন না চিনে থাকলেও উনার বাবা মিঃ বাল ঠাকুরকে নিশ্চয় আপনারা সবাই চিনেন, বাল ঠাকুর ইন্ডিয়ার রাজনীতিতে একটা বিরাট নাম। বোম্বাই কে মুম্বাই নাম পরিবর্তনে তার নাম ভোলা যায় না! ইন্ডিয়ার রাজনীতিতে বাল ঠাকরে একজন কট্টরে রাজনীতিবিদ হিসাবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন। যাই হোক, আমি করোনা ভাইরাস নিয়ে তার অনেক গুলো ভাষণ শোনার চেষ্টা করেছি, তিনি মহারাষ্ট্রের নিজস্ব ভাষায় কথা বলেন বলে আমি তার কথা তেমন বুঝতে পারি নাই, তবে তিনি লকডাউনের উপর বেশী জোর দিয়েছেন এবং তার অধীনস্থ জায়গাতে সকল চাকুরীজীবিদের বেতন আগামী মাসের জন্য নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




