ইন্ডিয়ার নানান ঘটনায় চোখ রাখতে না চাইলেও চোখ চলে যায়! তবে এই খবর গুলোর জন্য আমাদের খোদ ইন্ডিয়ার নিউজ চ্যানেল বা অনলাইনের খবরের দিকেই নজর দিতে হয় বা অনলাইনের ফিড থেকে জানতে হয়। বাংলাদেশের নিউজ চ্যানেল বা পত্র পত্রিকার এখন আর সেই সাহস নেই যে, ইন্ডিয়া বিষয়ের খবর গুলো নিজদের মত বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করার, অথচ ইন্ডিয়ার লোকাল চ্যানেল বা কিছু মানুষ নিজেরাই ঘটনার বর্ননা দিচ্ছে অহরহ! যাদের সাহস আছে এবং যারা স্বার্থপর নন, তারা এখনো বলে যাচ্ছেন, যদিও এই বলাটা হয়ত এক সময়ে থেকে যাবে বলেই মনে হয়!
ঘটনা ১ঃ টেষ্ট ক্রিকেটে ৩৬ রানে আল আউট, খোদ ইন্ডিয়াতেই অনেকে বলছেন, ইন্ডিয়া খেলাধুলায় যে মনোভাব পোষন করে তা অনুচিত বা বর্জনীয়। মওকা মওকা করে যে হাম্বি তাম্বি করে তা আর করা উচিত নয়।
ঘটনা ২ঃ পাঞ্জাবের কৃষকদের দিল্লী যাত্রা এবং কৃষকদের সাথে এখনো না বসা নিয়ে বা সেই বিল পাশ করে ফেলা নিয়ে যে অস্থিরতা চলছে, তা সারা বিশ্বের অনেক সরকার জানলেও আমাদের দেশের তেমন কেহ জানে বলে মনে হচ্ছে না কারন এই বিষয়ের বিস্তারিত আমাদের দেশের টিভি রেডিও পত্রপত্রিকাতে নেই। ইন্ডিয়াতে প্রায় প্রতি বছর বারশত কৃষক আত্মহত্যা করে, সামান্য ঋণ নিয়ে সেটা ফেরত দিতে পারে না, অন্যদিকে হাজার কোটি টাকার মালিকেরা আরো হাজার হাজার কোটি রুপি প্রতারিত/ব্যাংক থেকে নিয়ে বেশ আনন্দেই দিন কাটাচ্ছে, দেশে বা বিদেশে! মিঃ মোদীজীর আমলে অন্তত ৬/১০ জনের নাম পাওয়া যাচ্ছে, যারা হাজার কোটি রুপি নিয়ে পালিয়েছে! সরকার তেমন কোন ব্যবস্থা নিতেই পারে নাই! যাই হোক, উলটা কৃষকদের মেরে দিল্লী থেকে বের করার চেষ্টা চলছে এখন।
ঘটনা ৩ঃ আজকাল কলকাতা তথা পশ্চিমবংগ থেকে নানান ধরনের ভিডিও বের হচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, নানান স্থানের সরকারের খাস জমি গুলো অবাঙ্গালীরা (এদের বেশিরভাগ বিহার সহ নানান প্রদেশ থেকে আসা, বাংলা না জানা) দখল করে বাড়িঘর বস্তি বানিয়ে নিচ্ছে, যাতে সরকারের নুন্যতম বাধাও নেই। মানে কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে ভিন্ন প্রদেশের মানুষ এই পশ্চিম বাংলায় ঝাঁকিয়ে বসে পড়ুক, এতে আঁখেরে তাদের লাভ হবেই!
ঘটনা ৪ঃ কলকাতা তৃনমুল তথা কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দল থেকে নানান পদের (উচুপদের সহ) নেতারা এখন বিজেপিতে নাম লিখিয়ে বড় বড় পদে নিজদের নিয়ে যাচ্ছে। এটা অনেকটা আমাদের দেশের এরশাদের আমলের মত ব্যাপার হচ্ছে, সকালে উঠে দেখে ভিন্ন দলে, এমনকি স্ত্রী জানে না স্বামী গতরাতে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে! আসলে পশ্চিম বংগে যে কোন মুল্যে বিজেপি আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবেই। আপাতত এর বিকল্প নেই বা দেখা যাচ্ছে না। গত কিছুদিন আগে মিঃ অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের নানা স্থান ভ্রমণ করে যাচ্ছেন, এমন কি বাউলের কাছ থেকে বাংলা বাউল গান শুনছেন (একটু চেষ্টা করলে এই সব ইউটিউবে পেয়ে যাবেন), যদিও তিনি নিজে বাংলা বুঝেন বলে মনে হয় না! এই সব মুলত ক্ষমতায় যাবার স্ট্যানবাজি। দরিদ্র মানুষ গুলো নিজদের আরো আরো নিঃস্ব করে দিচ্ছে! কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মুলত ওয়ান্ম্যান আর্মি হয়ে পড়ছেন, যার টিকে থাকা সত্যই দুর্বহ এবং এত এত বেঈমান, স্বার্থপর নিয়ে কি করে তিনি লড়াই করবেন।
ঘটনা ৫ঃ করোনা ভাইরাস তলে তলে ইন্ডিয়াকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে, অথচ এখন আর যেন আমাদের দেশের মত কেহ কোন বাধাই মানছে না, সরকারের মুখেও কুলুপ! প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ লোক করোনায় মারা পড়ছে, অথচ কি নির্বিকার সবাই, ক্ষমতায় এবং আগামী ২০২১ সালের নির্বাচন (পশ্চিমবংগ, তামিলনাডু, আসাম সহ আরো কিছু প্রদেশের নির্বাচন আছে) সামনে রেখেই সরকারের সকল কর্মযজ্ঞ চলছে!
(একজন ব্লগার হিসাবে যে ঘটনা গুলো চোখে পড়ছে মাত্র)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


