আজকাল কি খাবার খাচ্ছি? এই নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে। আমার ধারনা আমার প্রায় ২৬ বছরের সংসার জীবনে এখন সব চেয়ে দূর্বল খাবার রান্না হচ্ছে বা বলা চলে কোন মতে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এর কারন কি, আমি এর কারন হিসাবে বলবো, খরচের হিসাবের খাতা। করোনার পর থেকে বলা চলে তেমন উপার্জন নেই বা একদম গায়ে গায়ে, সামান্য সঞ্চয় ছিলো তাও ভাংতে হচ্ছে, এদিকে আগের তুলনায় বেশি খরচ করেও ভাল রান্না হচ্ছে না।
বাজারে গেলে মাথা ঘুরে, কি থেকে কি কিনবো। সামান্য আলু বেগুন মাছ ইত্যাদির যে দাম তা দেখে মাথা ঘুরে। এখন এমন কোন সবজি নেই, যার দাম ১০০ টাকার নীচে, সবজি সাধারনত ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, মাছে হাত দেয়া যায় না, গরুর গোশ্তে তো চিন্তাই করা যায় না, এক কেজি কিনলে আধা কেজি হাড় ও চর্বি! আমরা সবাই কেমন যেন নিরুপায় হয়ে আছি। আমার মনে আছে, বছর ৩/৪ আগেও সারা মাসের বাজার হয়ে যেত ১২/১৫ হাজারে, এখন সেটা ২৫/৩০ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে! তার পরেও কত কিছু এখন আর কিনিই না। আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদ, ধনিয়া ইত্যাদি মশলা আগে কেনায় চিন্তাই করতাম না, এখন দোকানে গিয়ে ভাবতে হয়! দুধ, চা পাতা, বিস্কুট কেনায় কখনো চিন্তা করতে হয় নাই, এখন বাসায় বলতে হয়, এক বেলার বেশি চা যেন না বানানো হয়!
এত কিপটামি করেও রক্ষা নেই। ইনকাম কমেছে, বেড়েছে দ্রব্যমুল্য – কিভাবে মধ্যবিত্তেরা চলবে। আমার কোন পথ জানা নেই! খাবার ছাড়া অন্যান্য খরচ বাসা ভাড়া, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, মোবাইল নেট ইত্যাদিও লাগামহীন। বিদ্যুৎ বিল গত মাসে এলো ৬ হাজার টাকা, বিদ্যুতের ব্যবহার সে আগের মতই, উপরন্তু সবাইকে প্রায় বলি, যত সম্ভব লাইট ফ্যান বন্ধ করো, এতে পরিবারের স্ত্রী সন্তানেরা বিরক্ত, আমি নাকি বেশি কথা বলি! আসলে যে উপার্জন করে সেই বুঝে, এই কষ্টের কথা কেহ মানতে রাজি নয়!
যাই হোক, আমি নিজকে দেখেই এখন বাংলাদেশের সৎ মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবন যাপন বুঝতে চেষ্টা করি, সবাই অনেক কষ্টে আছে, অন্তত যাদের উপরি কামাই নেই বা হারামের কামাই ঘরে নেয় না! নিন্মবিত্তেরা কেমন আছে সেটা কল্পনাও করতে পারি না। এই শহরে দরিদ্রদের কোন স্থান আছে বলে মনেই হয় না! ধনীদের বিষয় আলাদা, তাদের কেনা কাটায় চিন্তা করতে হয় না, অঢেল জমা হচ্ছে, তার থেকে দাম যাই বাড়ুক তাতে কি আসে যায়!
গত বৃহস্প্রতিবার দুপুরে খেতে বসে দেখি সব বাসি তরকারী! মানে এর আগের দিন যা বেছে ছিল তাই দিয়ে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। পটল ভাঁজাটা নুতন ছিলো। তবে পরের দিন শুক্রবার বলে জানানো হল, সেই দিন গরুর গোশত ও খিছুড়ি রান্না হবে, সান্ত্বনা! এমন দূর্বল খাবারে লজ্জা নেই, আবার সুদিন ফিরে আসবে, সব মিলিয়ে আল্লহর কাছে শুকরিয়া জানাই, অন্তত এখনো খাবার জুটছে! এখনো ভাল আছি অনেকের তুলনায়!
আপনার অবস্থা কি? কেমন আছেন?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




