দুপুরে আমাকে হোটেলে খেতে হয়! বাসা থেকে আনা সম্ভব না বা বলাও চলে না! সকালের নাস্তাই ঠিকমত হয়ে উঠে না, আমি চাই সকাল ১০টার মধ্যেই অফিসে এসে বসতে, এই সময়টা আমার জন্য খুব জরুরী, কিন্তু প্রায় হয়ে উঠে না! সাড়ে নয় টায় নাস্তা করে বাসা থেকে বের হওয়া দরকার, হয় না! কাকে কি বলবো, বলেই তো খারাপ হয়ে যাই! যাই হোক, সব মেনেই নিয়েছি, এটাই হয়ত আমাদের মত মধ্যবিত্তদের সাধারন জীবন, চাকুরীজীবি কিংবা ব্যবসাহী! কাউকে কিছু বললেই আমাদের বেশি কথা বলা হয়ে যায়! আজকাল এমদম চুপ হয়ে গেছি, এর কারন নানান দিক। প্রচুর অর্থ না থাকার কারনে কথা বলাও বিপদজনক, কিছু বললেই অর্থের দরকার! আমার প্রায় মনে হয়, পুরুষ ১ সেকেন্ডও অর্থ ছাড়া বাঁচে না, প্রতিটা সেকেন্ডেই তার খরচ, আর না দিতে পারলেই যেন কোন অধিকার নেই, স্ত্রী বা সন্তানেরা ধরেই নেয়, একে দিয়ে আর হবে না! অথচ এতটা বছর কি করে একজন পুরুষ একক হাতে সংসার চালিয়ে যায়!
সংসারের অনেক অভিজ্ঞতার কথা আমি অহরহ লিখে ফেলি! রেখে ঢেকে আর কি লাভ! আমার কাছে প্রায় মনে হয়, সন্তানের প্রথম শিক্ষক হচ্ছে তার ‘মা’, বাবা নয়! সন্তানেরা মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা অর্জন করে ‘মা’ থেকেই! কিছু শিক্ষা আছে যা মায়ের না থাকলে সন্তানের কাছে আসবেই না বা সন্তান সেই শিক্ষা পাবেই না! যেমন সময়ানুবর্তিতা, কাউকে সন্মান করা, স্নেহশীলতা, উদারতা, সত্য মিথ্যা বুঝা, বিবেক ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার কাছে প্রায় মনে হয় একজন মায়ের যদি এই গুণ গুলো না থাকে তবে সন্তানের এই গুণ গুলো কিছুতেই হবে না, হবে না! আমরা চারপাশে যে বেয়াদপ গুলো দেখি, আপনি খোজ নিয়ে দেখিয়েন, তাদের মায়েরাও এমন বেয়াদপ ছিলেন!
বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতি দেখলে বিষয়টা স্পষ্ট, একেক জন রাজনীতিবিধ যে হারে মিথ্যা বলেন, বিবেকহীনতা দেখান, তাতে আমার এদের মায়ের পরিচয় খুঁজতে ইচ্ছা হয়! এদের মায়েরা কি কখনো এদের ছোট বেলায় শেখায় নাই, ‘মিথ্যা বলা মহা পায়, সদা সত্য কথা বলিবে’, এদের কি কখনো বলে নাই, সত্য মিথ্যা কি, কিভাবে এটা বিবেক দিয়ে নির্ধারন করতে হয়! আফসোস!
যাই হোক, বলে আর কি হবে! এটা একটা কষ্টের দেশ হয়ে গেছে, এখানে বেঁচে থাকা মানেই কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকা! সবাই আমরা কেমন জানি একা হয়ে গেছি! আশে পাশেও যেন কেহ নেই! সব কথা প্রাণ খুলে বলাও যাচ্ছে না! ঘরে বাইরে দুই কুলেই বিপদ!
চলুন, আজকের দুপুরের খাবারের ছবি দেখি, আমি হোটেলে গেলেই ওয়েটারেরা মনে করে আমি প্রচুর ধনী, হোটেলে যাই গরু খাসি মুরগী খেতে! ওদের বুঝানো দায় যে, আমি প্রতিদিন হোটেলে গরু খাসি খেলে খুব কম সময়েই মারা পড়বো, তোমাদের তেলাক্ত মরিচ মাখা এমন দামী খাবার আমার সয় না, না আর্থিক না শারীরিক! ফলে আজকাল একটা নিদিষ্ট হোটেলে খাই। ওরা আমাকে মেনে নিয়েছে, আমার জন্য ওরা ডাল ভাত ভর্তাই রাখে, তবে আজকে সেই চিপা হোটেলে যাই না, আমার পুরানো অফিসের পাশে বেশ কয়েকটা নুতন হোটেল হয়েছে, তাতেই আজ গিয়েছি এবং এই হোটেলে আজই প্রথম খেলাম! দুই পদের ভর্তা, ডাল ও ভাত! ওয়েটার মনে কষ্ট পেলেও ৯০টাকা বিল দিয়ে তাকে যখন ২০টাকা টিপস দিলাম, তখন তার মুখে হাসি দেখলাম! এর আগে আমাকে খাবার এনে দিতে তার বেশ কার্পন্যভাব ছিলো, কেন দামী খাবার খাচ্ছি না! আসলে হোটেলের মাছ মুরগী গরু খাসি পোলাউ বিরিয়ানী তো অনেক খেয়েছি, এখন আর ভাল লাগে না! আর রাতে ফিরে তো ঘরে ভাল খাবার থাকেই! প্রায় টানা ২০ বছর দুপুরে বাইরে খাবার খেয়েই চলছি, আর কত! আমাদের এই নয়াপল্টন এলাকাতে মনে হয় না এমন কোন হোটেল রেস্টুরেন্ট বাকী আছে!
আজকের খাবার গুলো ভাল ছিলো, আগেই বলে দিলাম! চলুন ছবিতে দেখি!

প্রথম প্লেট ভাত।

সালাদ!

কলা ভর্তা।

কচু ভর্তা।

আহ, পাতলা ডাল! এই ডালটা বাসায় রান্না হয় না, আসলে এত পাতলা ডাল কি করে রান্না হয়, তা এরা ছাড়া আর কেহ জানবে না নিশ্চয়! হা হা হা, তবে স্বাদ ভাল, ঘ্রাণ সেই!

ছবি তুলছি দেখে লিটল ওয়েটার (পান প্লেট যারা এনে দেয়) আমার দিকে দেখলো! আপনারা খেয়াল করছেন কি না জানি না আজকাল প্রায় হোটেলে শিশুরা কাজ করে, আমার খারাপ লাগে, এদের পড়া লেখার সময় অথচ বেঁচে থাকার জন্য কি কষ্ট করে যাচ্ছে।
সরকার যখন বলে দেশে দারিদ্রতা কমেছে বা নেই, তখন আমার ইচ্ছা হয় ঘাড় ধরে এনে তাদের এই শহরের প্রতিটা হোটেল রেস্টুরেন্ট দেখাই, যে দেখ, কাদের বা কোন বয়সের ছেলেদের কাজ করা উচিত আর করা করছে, কেন করছে! অসভ্যেরা এখন দেশ পরিচালক, মিথ্যার বসতি নিয়ে বসেছে!
যাই হোক, কিছুই যেন করার নেই, সবাই ভাল থাকবেন! ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। গল্প ও রান্না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



