somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

খাবার দাবারের ছবি ও জীবনের কিছু কথামালা (দুপুরে, ৩০শে জুলাই ২০২৪ইং, অফিসের পাশে এক হোটেলে)

৩০ শে জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুপুরে আমাকে হোটেলে খেতে হয়! বাসা থেকে আনা সম্ভব না বা বলাও চলে না! সকালের নাস্তাই ঠিকমত হয়ে উঠে না, আমি চাই সকাল ১০টার মধ্যেই অফিসে এসে বসতে, এই সময়টা আমার জন্য খুব জরুরী, কিন্তু প্রায় হয়ে উঠে না! সাড়ে নয় টায় নাস্তা করে বাসা থেকে বের হওয়া দরকার, হয় না! কাকে কি বলবো, বলেই তো খারাপ হয়ে যাই! যাই হোক, সব মেনেই নিয়েছি, এটাই হয়ত আমাদের মত মধ্যবিত্তদের সাধারন জীবন, চাকুরীজীবি কিংবা ব্যবসাহী! কাউকে কিছু বললেই আমাদের বেশি কথা বলা হয়ে যায়! আজকাল এমদম চুপ হয়ে গেছি, এর কারন নানান দিক। প্রচুর অর্থ না থাকার কারনে কথা বলাও বিপদজনক, কিছু বললেই অর্থের দরকার! আমার প্রায় মনে হয়, পুরুষ ১ সেকেন্ডও অর্থ ছাড়া বাঁচে না, প্রতিটা সেকেন্ডেই তার খরচ, আর না দিতে পারলেই যেন কোন অধিকার নেই, স্ত্রী বা সন্তানেরা ধরেই নেয়, একে দিয়ে আর হবে না! অথচ এতটা বছর কি করে একজন পুরুষ একক হাতে সংসার চালিয়ে যায়!

সংসারের অনেক অভিজ্ঞতার কথা আমি অহরহ লিখে ফেলি! রেখে ঢেকে আর কি লাভ! আমার কাছে প্রায় মনে হয়, সন্তানের প্রথম শিক্ষক হচ্ছে তার ‘মা’, বাবা নয়! সন্তানেরা মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা অর্জন করে ‘মা’ থেকেই! কিছু শিক্ষা আছে যা মায়ের না থাকলে সন্তানের কাছে আসবেই না বা সন্তান সেই শিক্ষা পাবেই না! যেমন সময়ানুবর্তিতা, কাউকে সন্মান করা, স্নেহশীলতা, উদারতা, সত্য মিথ্যা বুঝা, বিবেক ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার কাছে প্রায় মনে হয় একজন মায়ের যদি এই গুণ গুলো না থাকে তবে সন্তানের এই গুণ গুলো কিছুতেই হবে না, হবে না! আমরা চারপাশে যে বেয়াদপ গুলো দেখি, আপনি খোজ নিয়ে দেখিয়েন, তাদের মায়েরাও এমন বেয়াদপ ছিলেন!

বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতি দেখলে বিষয়টা স্পষ্ট, একেক জন রাজনীতিবিধ যে হারে মিথ্যা বলেন, বিবেকহীনতা দেখান, তাতে আমার এদের মায়ের পরিচয় খুঁজতে ইচ্ছা হয়! এদের মায়েরা কি কখনো এদের ছোট বেলায় শেখায় নাই, ‘মিথ্যা বলা মহা পায়, সদা সত্য কথা বলিবে’, এদের কি কখনো বলে নাই, সত্য মিথ্যা কি, কিভাবে এটা বিবেক দিয়ে নির্ধারন করতে হয়! আফসোস!

যাই হোক, বলে আর কি হবে! এটা একটা কষ্টের দেশ হয়ে গেছে, এখানে বেঁচে থাকা মানেই কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকা! সবাই আমরা কেমন জানি একা হয়ে গেছি! আশে পাশেও যেন কেহ নেই! সব কথা প্রাণ খুলে বলাও যাচ্ছে না! ঘরে বাইরে দুই কুলেই বিপদ!

চলুন, আজকের দুপুরের খাবারের ছবি দেখি, আমি হোটেলে গেলেই ওয়েটারেরা মনে করে আমি প্রচুর ধনী, হোটেলে যাই গরু খাসি মুরগী খেতে! ওদের বুঝানো দায় যে, আমি প্রতিদিন হোটেলে গরু খাসি খেলে খুব কম সময়েই মারা পড়বো, তোমাদের তেলাক্ত মরিচ মাখা এমন দামী খাবার আমার সয় না, না আর্থিক না শারীরিক! ফলে আজকাল একটা নিদিষ্ট হোটেলে খাই। ওরা আমাকে মেনে নিয়েছে, আমার জন্য ওরা ডাল ভাত ভর্তাই রাখে, তবে আজকে সেই চিপা হোটেলে যাই না, আমার পুরানো অফিসের পাশে বেশ কয়েকটা নুতন হোটেল হয়েছে, তাতেই আজ গিয়েছি এবং এই হোটেলে আজই প্রথম খেলাম! দুই পদের ভর্তা, ডাল ও ভাত! ওয়েটার মনে কষ্ট পেলেও ৯০টাকা বিল দিয়ে তাকে যখন ২০টাকা টিপস দিলাম, তখন তার মুখে হাসি দেখলাম! এর আগে আমাকে খাবার এনে দিতে তার বেশ কার্পন্যভাব ছিলো, কেন দামী খাবার খাচ্ছি না! আসলে হোটেলের মাছ মুরগী গরু খাসি পোলাউ বিরিয়ানী তো অনেক খেয়েছি, এখন আর ভাল লাগে না! আর রাতে ফিরে তো ঘরে ভাল খাবার থাকেই! প্রায় টানা ২০ বছর দুপুরে বাইরে খাবার খেয়েই চলছি, আর কত! আমাদের এই নয়াপল্টন এলাকাতে মনে হয় না এমন কোন হোটেল রেস্টুরেন্ট বাকী আছে!

আজকের খাবার গুলো ভাল ছিলো, আগেই বলে দিলাম! চলুন ছবিতে দেখি! :)


প্রথম প্লেট ভাত।


সালাদ!


কলা ভর্তা।


কচু ভর্তা।


আহ, পাতলা ডাল! এই ডালটা বাসায় রান্না হয় না, আসলে এত পাতলা ডাল কি করে রান্না হয়, তা এরা ছাড়া আর কেহ জানবে না নিশ্চয়! হা হা হা, তবে স্বাদ ভাল, ঘ্রাণ সেই!


ছবি তুলছি দেখে লিটল ওয়েটার (পান প্লেট যারা এনে দেয়) আমার দিকে দেখলো! আপনারা খেয়াল করছেন কি না জানি না আজকাল প্রায় হোটেলে শিশুরা কাজ করে, আমার খারাপ লাগে, এদের পড়া লেখার সময় অথচ বেঁচে থাকার জন্য কি কষ্ট করে যাচ্ছে।

সরকার যখন বলে দেশে দারিদ্রতা কমেছে বা নেই, তখন আমার ইচ্ছা হয় ঘাড় ধরে এনে তাদের এই শহরের প্রতিটা হোটেল রেস্টুরেন্ট দেখাই, যে দেখ, কাদের বা কোন বয়সের ছেলেদের কাজ করা উচিত আর করা করছে, কেন করছে! অসভ্যেরা এখন দেশ পরিচালক, মিথ্যার বসতি নিয়ে বসেছে!

যাই হোক, কিছুই যেন করার নেই, সবাই ভাল থাকবেন! ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। গল্প ও রান্না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:১৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা জননী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯


তুমি আপসহীন বলে ঘুমিয়ে গেলে
শহীদ জিয়ার পাশে অশ্রুসিক্ত শুধু
বাংলার মাটিতে ধানের শীষে শীষে
তোমার নামের ধ্বনিতে গান গায়ব
আমরা শুনোবো যে দোয়েলের ঠোঁটে
তুমি চিরামলিন তোমার কর্ম আদর্শে
আমরা জাগবো লাল সবুজ পতাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×