somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

ঘরোয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, মতিঝিল (এই হোটেলে আর কখনো খেতে যাব না, সরি)

০১ লা আগস্ট, ২০২৪ রাত ১১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মতিঝিলের ঘরোয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এক সময়ে খিচুড়ি রান্নার জন্য বিখ্যাত ছিলো, আমি এই হোটেলে অনেক বার খেয়েছি, এমন কি পরিবার পরিজন নিয়েও খেয়েছি, তবে বেশ কয়েক বছর আগে এই হোটেলের মালিক কৃর্তক একজন সহকারী হেল্পার মেরে ফেলার একটা নিউজ দেখি, এখনো মনে পড়ে সেই সময়ে এই মালিককের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তবে বিচার কি হয়েছিল তা আর জানি নাই! কিছুক্ষন আগে শেয়ারবিজ পত্রিকার নিউজ বের করে দেখলাম –

আশির দশকে খুব ছোট পরিসরে রাজধানীর মতিঝিলে চালু হয় একটি খাবারের দোকান। শরীয়তপুরের নূরু বয়াতি সেই দোকানটি চালু করেছিলেন। সময়ের বিবর্তনে এক দশকে নূরুর সেই দোকান পরিণত হয় ‘ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’, যা দুই বছর আগেও রাজধানীর খাবারের হোটেলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। হোটেলটিতে প্রতিদিন হাজারও মানুষের আনাগোনা হতো। আর মুখে মুখে ঘরোয়ার ভুনা খিচুড়ির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। সেভাবেই খ্যাতি নিয়ে একটানা এই হোটেল চলেছে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু কর্মচারী খুনের ঘটনায় হোটেলটির খ্যাতি আর সুনাম ধুলোয় মিশে গেছে। সে ঘটনার জেরে এখন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে ঘরোয়া। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে ঘরোয়া হোটেলের এক কর্মচারী খুন হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত হোটেলটির বর্তমান মালিক নূরু বয়াতির ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম সোহেল জেলহাজতে রয়েছেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরেরদিন থেকে সাময়িকভাবে ঘরোয়া হোটেলটি বন্ধ হয়ে যায়, যা এখন স্থায়ীভাবে বন্ধ। আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পুলিশ হোটেলটির চাবি মূল ভবন মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছে, যা এখন আর ঘরোয়ার অধীনে চলার কোনো সম্ভাবনা নেই/ (view this link)

আমাদের জেনারেশনের অনেকের এই ঘটনা মনে থাকার কথা। এর পরে মুলত এই হোটেল বন্ধ হয়ে যায়, তার কয়েক বছর পরে আবার নুতন ঠিকানায় এই হোটেল চালু হয়, রাস্তার অপর পাড়ে, একই নামে। এই ঘটনার পর থেকে অনেকবার এই রাস্তায় আশা যাওয়া করলেও এই হোটেলে প্রবেশ করা হয় নাই, হোটেল দেখলেই এই নির্মম ঘটোনার কথা মনে পড়ে যেত!


যাই হোক, আজ এই বিল্ডিং এর পাশে স্টক একচেঞ্জের এক অফিসে গিয়েছিলাম, ফলে দেখার জন্যই মুলত ভিতরে প্রবেশ করলাম। সব দেখি আগের মতই, ষ্টাইল সেইম। বেয়ারাকে টেবিলে বসে জিজ্ঞেস করলাম, সেই পুরানো ঘটনার কথা, সে কিছুই বলতে পারলো না, এর ঘটনার বিচার হয়েছে কি না বা এখন মালিক কারা তাও সে কিছুই জানাতে পারে নাই। খাব কি খাব না, এমন চিন্তা করছিলাম। নীচ তলা দোতালায় দেখি হাজারো মানুষের ভীড়, সেই প্রায় আগের মত। ফলে ভাবলাম, দেখি তাদের খিচুড়ি কেমন আছে, সেই আগের মত নাকি আলাদা হয়েছে!

খাবারে হাত দিয়েও বার বার সেই ঘটনা মনে পড়ছিলো, খাবার মুখে যাচ্ছিলো না, সামান্য খেয়েই বাদ দিয়েছি। বিল নিতে এসে ওয়েটার জানতে চাইছিলো, স্যার খাবার কি ভাল হয় নাই! তাকে কোন উত্তর দিতে পারছিলাম না। বিল পরিশোধ (খিচুড়ি ২৬০টাকা হাফ, আগামী ১লা সেপ্টেম্বর থেকে নাকি ২৮০টাকা হাফ প্লেট করা হবে, বিজ্ঞপ্তি দেখলাম) করে হাফ ছেড়ে নীচে ফুটপাতে নেমে এলাম এবং প্রতিজ্ঞা করলাম এই হোটেলে আর কখনোই খেতে আসবো না, কখনোই না। ্মনোকষ্ট নিয়ে খাবার খাওয়া যায় না!

মন খারাপ করে অফিসে এসে নেটে খবর খুঁজতে লাগলাম, কোথায়ও তেমন আপডেট নেই, সেই পুরানো খবরই। দৈনিক প্রথম আলো সেই সময়ে বেশ কিছু খবর দেখালাম, মামলাও হয়েছিল, বিচারে বেশ সাক্ষ্যপ্রমান গ্রহন করা হয়েছে কিন্তু রায় হয়েছে কি না তা কোথায়ও পেলাম না। প্রথম আলোর পুরানো খবরে কমেন্ট করলাম, আবার দৈনিক জনকন্ঠে ২০১৯ সালের একটা ফলোআপ খবর দেখলাম, সেই মালিক এখনো পলাতক, তাকে গ্রেফতার করা যায় নাই। এখন ২০২৪ সাল, ঘটনার আরো অনেক বছর পার হয়েছে, আমার ধারনা এখনো সেই মালিক পলাতক, টাকা কড়ি আছে হয়ত দুরের কোন দেশে লুকিয়ে জীবন যাপন করছে।


এর পরের কোন আপডেট খুঁজে পেলাম না! লিঙ্ক এখানে। view this link

যাই হোক, এই দেশে বিচারের আশা খুব কঠিন কাজ, যাদের টাকা আছে তাদের ধরা যায় না, ওরা পালিয়েই যায়। তবুও আশা ছাড়ছি না, একদিন নিশ্চয় এই নির্মম হত্যার বিচার পাবে এই শিশুর পরিবার!

সবাই ভাল থাকবেন, আবারো বলি, এই হোটেলে আর কখনো খেতে যাব না! ভুলেও আর এই হোটেলে প্রবেশ করবো না। সরি।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০২৪ রাত ১২:১৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×