যারা মনে করছেন, এখানে সেখানে আন্দোলন রাস্তা বন্ধ মিছিল মিটিং এটা সেটা করে এই সরকার উৎখাত করবেন, এটা এখনকার সময়ের জন্য ভুল চিন্তা, ভুল দৃশ্য। এতে সরকার সাময়িক সমস্যায় পড়বে কিন্তু কোন না কোনভাবে সমাধান করেই ফেলবে! আমার দেখায় যা বলে, এখনো দেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ এই সরকারের পক্ষেই আছে। এই সরকার নিত্য প্রয়োজনীয় সাংসারিক দ্রব্যের দাম নাগালে রাখতে পারলেই যে যা করুক সরকার টিকে থাকবে, সাথে জনগণের আরো সমর্থন পাবে। জনগণের মন থেকে উঠে যাবার অনেক কাজ আছে, সাথে সময়ও লাগে, এই সরকারের জন্য সেই সময় এখনো আসে নাই! এখন কিছু মানুষ যা করতে চাইছে বা যা হচ্ছে অহেতুক ও অপ্রয়োজনীয়!
আওয়ামী লীগকে যে পথে হাটিয়েছেন, প্রফেসর ইউনূস সরকারকেও সেই পথে সরাবেন - এটা এই সময়ে ভুল চিন্তা!
আওয়ামী লীগের সরানোর প্রেক্ষাপট মুলত একদিনে বা ৫ই আগষ্টে নয়, এদের প্রায় ১৫ বছরের অপশাসনেই মানুষ জেগে উঠেছিল, এদের অপরাধ বাড়তে বাড়তে এমন এক পর্যায়ে এসেছিল যে, প্রায় দেশের সব মানুষ (ওদের জনা কয়েক ছাড়া) রাস্তায় নেমেছিল। ছাত্রছাত্রীদের কাতারে জনতাও নেমে পড়েছিল, নানান দল মত এটা বুঝতে পারছিলো যে, এদের রেখে আর সুশাসন হবে না। মানুষের ভোট চুরি, নিত্য দ্রব্যর দাম আকাশে উঠা, মানুষ ধরে বা গুলি করে মেরে ফেলা, নিরাপত্তা সহ অনেক বিষয়ে মানুষ আর সহ্য করতে পারছিলো না, মানুষের মৌলিক অধিকার বার বার লুন্ঠি হচ্ছিলো। এক কথায় এদের অত্যাচারে মানুষ চুড়ান্ত রুপ দেখাতে বাধ্য হয়! শহর গ্রামের প্রায় প্রতিটা মানুষ এদের অত্যাচারে কোন না কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল বা হচ্ছিলো বা শঙ্কা বেড়েছিল! দৈনিক খবরের কাগজে প্রতিদিন হত্যা, গুম খুনের মত ব্যাপার গুলো মানুষ দেখে দেখে বিরক্ত হয়েছিল। একটা দেশের মানুষ যেভাবে বাঁচতে চায় তার কোন সমাধান আওয়ামী লীগ দিতে পারছিলো না। সরকারের নানান অফিসে গেলেই ঘুষ কমিশন, ব্যাংকে নিজের টাকা ক্ষতিতে পড়ছিলো বা এমন নিশ্চিত হবেই জেনে গিয়েছিল বলেই মানুষ আর তাদের পছন্দ করছিলো না। মানুষের মনে এই ধারনা হয় যে, এর পরে যেই আসে আসুক, তবুও এদের অপশাসন আর নয়!
জনগণ রাস্তায় নেমে সরকার হাটানোর প্রেক্ষাপট একদিনে বা কয়েক মাসে হয় না, এতে বছরের পর বছর বা যুগের পর যুগ লেগে যায়, সেটা এরশাদের মত শেখ হাসিনা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০২৪ বিকাল ৫:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



