somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

বৃদ্ধ বাবা মায়ের জন্য একটু পজেটিভ চিন্তাই যথেষ্ট।

০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন মায়ের একাকি করুন মৃত্যুর ঘটনা জাতি দেখলো, তার তিন ছেলে সন্তান উচ্চ শিক্ষিত, উচ্চ পদে, মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক, পাশাপাশি সবাই ধনী। এই মায়ের করুন মৃত্যুর পরে অনলাইনে আরো এক শ্রেণীর অমানুষ দেখা যাচ্ছে, যারা মাকে দায়ী করছে বা মায়ের অতীত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, মানে এই নির্মন একাকী মৃত্যুর জন্য সন্তানেরা দায়ী নয়, দায়ী তিনি নিজেই! ব্যাড পেরেন্টিং, মায়েদের জিদ, রাগ ক্ষোভ ইত্যাদি সামনে আনছেন। আমি সব সময়ে বলি, মা চরিত্রে নারীরা সেরা, এই চরিত্রে মায়েদের ভুল নেই। হ্যাঁ, মায়েরা বৃদ্ধ হলে আরো জিদ্দি, আরো অবিবেচক, আরো একাকি পছন্দ করেন বা চান। কিন্তু তাতে সমস্যা কি? একজন মা তার চার সন্তান মানুষ করতে কি পরিমান শ্রম দিয়েছেন তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? তিনি কি পেয়েছেন, তিনি কি ভোগ করেছেন, তার কষ্ট যন্ত্রনা কি কখনো চিন্তা হয়, মানুষ তো আকাশ থেকে পড়েই বড় হয় না, বড় চাকুরী পায় না, বড় শিক্ষিত হয় না!

যাই হোক, কিছু নিজেদের কথা বলি, যদিও এমন বলা ভাল দেখায় না! ধরেন জাস্ট কয়েক মিনিট আগে আমি আমার মায়ের সাথে কথা বললাম, তিনি এখনো সুস্থ্য, বয়স ৭৫/৭৭ তো হবেই, নিজের কাজ নিজে করতে পারেন, গ্রামে থাকতে পছন্দ করেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আজ দুপুরে কি রান্না করেছেন, তিনি জানালেন মাছ ও পুঁইশাক। আমরাও তিন ভাই এক বোন, বোন ইটালীতে থাকে। আমাদের ছোট ভাইয়ের সাথে আম্মার বন্ডিং ভাল, আমি তাকে ফুল সাপোর্ট দেই, তার কথার উপরে কথা বলি না, শুধু মায়ের কারনে, যেহেতু সে মাকে ভাল দেখবাহাল করে। বড় ভাই কিছুটা দূরে থাকে, যদিও তার মেয়ের বিয়ে হয়ে এখন সে মায়ের কাছেই থাকতে পারে, হয়ত সামনে এমন দিন আসবে। গত শনিবার বাড়ি গিয়ে ৩ দিন মায়ের কাছে থেকে এলাম (মাসে একবার যেতে চেষ্টা করি), মায়ের সাথে এখনো কত কি আলাপ করি, এবার ইচ্ছা করে সব ভাই বোনের কথা জিজ্ঞেস করলাম, কে উনাকে কিভাবে হেল্প করে। এবার তিনি জানালেন, আমাদের ইটালীতে থাকা বোনটা আম্মাকে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে মাসে দশ হাজার টাকা করে দিয়েই যায়, ঈদে চাঁদে তো দেয়ই! কথাটা আমি জানতাম না, কারন কখনো জানতে চাই নাই, নিজের যা দেয়ার সামর্থ্য তাই দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার মাকে আমার বোন প্রায় প্রতিদিন ফোন/ ভিডিও কল দেয়, ইটালীতে বসেও সে সব জানে কার কোথায় কি হল। দূরে থেকেও যে খোঁজ নেয়া যায় তার উদাহরণ আমার বোন। তার রেগুলার টাকা দেয়ার উৎস জানতে চাইলে আম্মা জানায়, সে এখন চাকুরী করে, সে নিজেই টাকা পায়, স্বামীর টাকা না নিজের টাকা থেকেই দেয়, তারো দুই ছেলে মেয়ে তারাও বড় হয়েছে, এখন সে সেখানে চাকুরী করে ফ্রি টাইমে।


যাই হোক, কথা গুলো বললাম এই জন্য যে, মায়ের খবর রাখা সন্তানের পুরাই ইচ্ছার উপর নির্ভর করে, সে যদি মানুষ হয়, সে যদি জ্ঞানের হয় তবে মা যেখানেই থাকুক মায়ের খবর নিবেই, বাবার খবর নিবেই, মরে গেলে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া করবেই। আজরাইল স্ত্রীর সাথে থেকেও মায়ের খবর নেয়া যায়, মাকে টাকা দেয়া যায়, মায়ের কাছে যাওয়া যায়, নিশ্চিতভাবেই। স্ত্রী মায়ের নামে কিছু বললেই তা থামিয়ে দেয়া যায় এক নিমিষেই। মা মাই, মায়ের ভুল হয় না, মাকে দেখে রাখতেই হবে, এটাই আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা, পরকালের মুক্তির উপায়।


এবার আমার ফুফু চাচীদের কথা বলি, এরাও সবাই বৃদ্ধ কিন্তু সন্তানেরা সফল হলেও তাদের কাছে থাকতে চান না, উনারা গ্রামেই স্বাচ্ছন্দ ফিল করেন (আমার আম্মার অবস্থাও তাই)। আমি এবার আমার বড় ফুফুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে অবাক, আমার এই ফুফু অনেক আগে থেকেই জিদ্দি এবং রাগী, আমাদের ছোট বেলায় দেখেছি তিনি যা বলতেন তাই করতেন। উনার সব ছেলে মেয়েরাই সফল, কিন্তু তিনি ঢাকা চট্রগ্রাম ছেলেদের আলীশান বাড়ি থাকলেও তাতে থাকতেন না, গ্রামেই থাকেন। এবার দেখলাম ছেলেরা উনাকে গ্রামে গুলশানের বাড়ির মত করে বাড়ি বানিয়ে দিয়েছেন, আছে লোকবল, গাড়ি ড্রাইভার। ফুফু বলা চলে অজপাড়া গ্রামে রাজরানীর মত করে থাকেন। কথাটা এই জন্য বললাম যে, চাইলে সন্তানেরা এই সব না করেও দিতে পারত, নিজেরা উপভোগ করতে পারত, গ্রামে এমন বাড়ি গাড়ি না হলেও চলত, রুমে এসি না হলে কি আসে যায়।

তা হলে সন্তানেরা কেন এমন করল, কারন মা, মায়ের বিকল্প হয় না, মায়ের জন্য করলে লস নেই লাভ। দুনিয়া এবং আখিরাতে, মায়ের ভুল ধরার অধিকার কোন সন্তানের নেই, ধরতে হয় না, অনুচিত! মা যা ইচ্ছা করবে, তিনি ও তার আল্লাহ জানবেন! মায়ের দোয়া বড় দোয়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১১:০৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×