somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ বৃত্তহীন (৩য় পর্ব)

২০ শে জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বৃত্তহীন (১ম পর্ব)
বৃত্তহীন (২য় পর্ব)
খুব রাগ হচ্ছে আনীলার । ক্লাস শেষ হতেই তাড়াহুড়ো করে বাসায় ফিরে ফেইসবুক লগ ইন করে দেখে দেব্-এর চিঠি আসেনি । খুব মন খারাপ লাগছে তার । পিসি অন রেখেই বিছানায় চুপচাপ শুয়ে রইল সে । জানালা দিয়ে আকাশ দেখছে । আজ আকাশটা নীল নয় । নীল ! কি সুন্দর নাম দিয়েছে দেব্ । নীল...
তার ছোটবেলার অনেকগুলো দিন কেটেছে বিভিন্ন মফস্বল শহরে । বাবা-মা'র যখন যেখানে পোস্টিং হয়েছে । বাবা-মা দু'জনেই সরকারী চাকুরে । এখন কাজের প্রয়োজনে দু'জন দু'জেলায় অবস্থান করছে । এই নিয়ে আনীলা কখনো কোনদিন তাঁদের প্রতি অভিযোগ করেনি । যদিও খুব একা একা বেড়ে উঠেছে সে। যমজ বড় দু'ভাইয়ের মধ্যে একজন ব্যাঙ্গালোরে এম বি এ করছে আর একজন বছর তিনেক আগে মারা গিয়েছে ।...
বিছানা থেকে ওঠে ইনবক্স চেক করল । নাহঃ কোন ম্যাসেজ নেই । মনটা খুব ছটফট করছে । দেব্ কেন লিখছে না ! দু'দিনেই দেব্-এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে সে । পুরোটা মুহূর্ত মন পড়ে থাকে দেব্ কাছে । এটা কি প্রেমে পড়া ? সে কি দেব্ কে সত্যি সত্যি ভালাবেসে ফেলল ? নিজেকেই প্রশ্ন করে আনীলা । আরে ধূর...এটাতো স্রেফ একটা কাব্য-খেলা । দেব্-এর ভাষায় মিথ্যে কাব্য করা...
দেব্ কি সুন্দর করে লিখে...প্রজাপতি ভুলে যায় তার শূয়োপোকা জীবনের কথা...। প্রজাপতি ! অনূপ প্রজাপতি খুব পছন্দ করত । ওর বেশিরভাগ কবিতায় প্রজাপতির কথা থাকত । প্রজাপতির ছবি এঁকে দেয়ালে সেঁটে রাখত । কিন্তু কোনদিন আনীলাকে প্রজাপতির ছবি এঁকে দিত না । খুব অবাক লাগত আনীলার । কারণ জানতে চাইলে বলত- ''প্রজাপতি ক্ষণিকের জন্য জন্মায় । তার সব সৌন্দর্য ক্ষণিকের । আর তুমি আমার আজীবনের আরাধ্য । তোমাকে ক্ষণিকের কোনকিছু দিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে চাই না ।'' যুক্তিটা মোটেও পছন্দ ছিল না আনীলার তারপরও কোনদিন তর্ক বাঁধায়নি অনূপের সাথে । অথচ আজ...অনূপ আনীলাকে ছাড়াই দিব্যি সময় পার করছে ।...নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সে।...
ইনবক্সে একটা ম্যাসেজ পেয়ে চোখে খুশির ঝিলিক বয়ে গেল । নিশ্চই দেব্-এর ম্যাসেজ । কিন্তু না ! সামনে বিজয় দিবস সেজন্য গ্রুপ ম্যাসেজে অগ্রিম শুভেচ্ছা বার্তা । ধূর...খুব বিরক্ত লাগছে । একটা ম্যাসেজ লিখতে কি ত্রিশ ঘন্টা লাগে ? দেব্ কি করছে কে জানে...
আনীলা জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে রইল । কখন সন্ধ্যা হয়েছে টের পায়নি । আকাশে একটা দু'টো তারা । চৌদ্দতলা দালানের নয়তলা থেকে নিচে দেখা যাচ্ছে গাড়িগুলো এঁকে-বেঁকে চলছে । সিগনাল পড়ছে...থামছে । আবার চলে যাচ্ছে...। সবাই ঘরে ফিরছে । ওপর থেকে মাঝে মাঝেই দাঁড়িয়ে সে মানুষ দেখে । প্রতিটি মানুষই এক একটা আলাদা স্বত্তা । কোটি কোটি মানুষ কোটি কোটি মন, কোটি কোটি ভিন্নতা । ভিন্ন ভিন্ন চাওয়া-পাওয়া । কি অদ্ভুত মানুষের জীবন ! যতক্ষণ বেঁচে থাকা ততোক্ষণ সব আছে , মরে গেলেই সব শেষ । হায়ঃ মৃত্যু ! মৃত্যুর কথা ভাবতেই চোখ ভিজে গেল । তিন বছর আগে ড্রয়িং রুমে কাফনে ঢাকা ভাইয়ের লাশটা চোখের সামনে ভেসে উঠল ।...
বাইরে পৌষের কুয়াশা পড়ছে । থাইয়ের পাল্লাটা লাগিয়ে দিয়ে বিছানায় বসল । ডেস্কের ওপর কাজের মেয়েটা কখন সন্ধ্যার খাবার রেখে গিয়েছে টের পায়নি । খাবার মুখে দিতে দিতেই আয়নায় চোখ পড়ল । আয়না দেখতে তার মোটেও ভালো লাগে না । অথচ অধিকাংশ ক্লাসমেটগুলোর ব্যাগে ছোট্ট আয়না থাকে । এত বিরক্ত লাগে তার । কিন্তু এখন আয়নায় নিজেকে দেখতে কেন জানি খুব ভালো লাগল ! মৃদু পায়ে হেঁটে ড্রেসিং টেবিলটার সামনে দাঁড়ালো । অনূপ বলত তার চোখগুলো নাকি খুব সুন্দর ! সত্যিই এখন তার কাছে তার চোখ দু'টি অসম্ভব ভালো লাগছে । পারতপক্ষে খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে আনীলা । মেধাবী । এস এস সি তে জিপিএ পাঁচের কাছাকাছি কিন্তু এইচ এস সি তে গোল্ডেন পাঁচ পেয়েছে সে । এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ শেষ সেমিস্টারে পড়ছে । অন্য দশজনের থেকে খুব আলাদা । অনূপ চলে যাওয়ার পর থেকে কাওকে মনের মধ্যে স্থান দিতে পারেনি । এভাবেই একা কেটে যাচ্ছে দিনগুলো । ফেইসবুকে একেকজন নানাভাবে পটানোর চেষ্টা করে । হাই/হ্যালো বলতে না বলতেই একেক জন সেল নাম্বার পর্যন্ত চেয়ে বসে । খুবই বিরক্তিকর ব্যাপার । কিন্তু দেব্...মনের মধ্যে একটা অন্যরকম স্থান করে নিচ্ছে ধীরে ধীরে । দেব্-এর কথা মনে পড়তেই ডেস্কটপের সামনে গিয়ে ইনবক্স চেক করল । নাহঃ...দেব্ এখনো কোন চিঠি
লিখেনি ! ঘড়িতে নয়টার বেশি । ক্লাস টেস্টের পড়া নিয়ে বসল । আনীলার মেজর বিষয় মার্কেটিং। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পড়তে তার বেশি ভালা লাগে । কিন্তু পড়তে ভালো লাগছে না মোটেই...
মন পড়ে আছে ফেইসবুকের ইনবক্সে । পড়া থেকে উঠে আবারো ইনবক্স চেক করল । একটা ম্যাসেজ এসে জমা হয়ে আছে । মনটা খুব দুরু দুরু করছে । আল্লাহর কাছে করডিয়্যালি প্রে করল ম্যাসেজটা যেন দেব্-এর হয় । মাউসের কার্সরটা ইনবক্সে এনে চোখ বন্ধ করে লেফট্ ক্লিক করল । তারপর চোখ খুলেই মৃদু কন্ঠে আনন্দ-চিৎকার দিয়ে বলল- দেব্ !...
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৯:১৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিশুদের প্রতি হুজুরদের কেন এই দুর্নিবার আকর্ষণ? | বলৎকার পিডিয়া

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ১:১২



আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই দেশের কোথাও না কোথাও মাদ্রাসার হুজুরদের দ্বারা ছেলে শিশু বলৎকার, মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার খবর শুনতে পাওয়া যায়, তবে ইদানিং এমন ন্যক্কারজন ঘটনার হার বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি সবটা খেতে চাইলে সবটা হারাবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মে, ২০২৬ সকাল ৭:৫৯




আপা ড. ইউনুসের চুক্তি মেনে নিলে, আমেরিকা ও ভারত এক হলে এবং সেনা আপার পক্ষে গেলে আপার আগমনে বিএনপিকে পালিয়ে যেতে হবে।তখন আপা কি করবেন সেটা আপার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ঈদ উৎসব এবং মা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



ভোর বিহানে আজান হলেই মা করতেন ডাকাডাকি।
এই ঈদে আর ডাকেনিগো মা, এ দুঃখ কোথায় রাখি!

হারিয়ে গেছে মা জননী আমার, শূন্যতা অপার
এই জীবনে মায়ের সাথে দেখা কি হবে আর?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গঁবন্ধুর আত্মত্যাগ আর শেখ হাসিনার দৃঢ়তা । (নিজেকে শেখ হাসিনার স্থানে দাঁড় করিয়ে ভাবুন)

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



বাকশাল করার জন্য বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজ দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করেছেন। এরপরও যারা বাকশাল ( বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ) কে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা আখ্যা দিয়ে বিচারপতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহিষের নাম যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প: ভাইরাল সংস্কৃতির মারপ্যাঁচে কোরবানির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


কোরবানি ঈদ এলেই আমাদের চারপাশে কেমন যেন একটা উৎসব-উৎসব আমেজের পাশাপাশি অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানার ধুম পড়ে যায়। বাঙালি যে সব কিছুতেই একটু রসকষ আর মজা খুঁজতে পছন্দ করে, সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×