ফাল্গুন বাসে আমার প্রতিদিনই যাতায়াত করতে হত। ভালই লাগত কারন এই বাসেই অনেক রুপসী ফাল্গুনীর দেখা মিলত। তো আর কি, সবার মত আমিও নেক নজর দিয়া চোখ জুড়াইতাম।
সব কিছু ভাল চলছিল। একবার বাসে উঠলাম। চরম ভিড় ফাল্গুন বাসে। দাড়িয়েই যেতে হবে। মন্দ লাগে না খুব একটা দাড়িয়ে থাকতে । রমনীদের খুজে বেড়ায় আমার চোখ। হঠাত নজরে পড়ল একটা ফাল্গুনী। কি আর বলব ভাই, অসাধারন। লম্বায় ৫ ফিট ৩ ইঞ্চি তো হবেই, আর কি ফিগার! তার চেয়েও বেশী সুন্দর মেয়েটার চাহুনী আর ঠোট। আমি বারবারই দেখে পুলকিত হচ্ছিলাম। ইশ, নিজের করে পেতাম যদি। ইশ, আমার কাছাকাছি থাকত যদি কি ভালাটাই না লাগত।
অম্মা মাইয়া আমার মনের ভাষা বুঝল কিনা কে জানে। সামনের থেকে আসতে আসতে পিছনে আসতে লাগল। আর আইসা পড়ল একেবারে আমার পাশেই। আমি তো মহা খুশী। কিন্তু এই খুশী ৪ ৫ সেকেন্ড এর বেশী স্থায়ী হইল না।
বিশ্রি একটা গন্ধ ছুটায়া বায়ু দুষন করছে কেউ একজন। আমি চারিদিক বিছড়ায়া অবশেষে গন্ধের উৎস আবিস্কার করতে সক্ষম হইলাম। গন্ধটা আসতেছে আমার পাশের সেই ফাল্গুনীর গা থেকেই। আমারতো বমি আসে আসে অবস্থা! কি করি এখন? ভিড়ের মাঝে না পারি সরতে না পারি সরতে। এইদিকে বাসের ভিতরে এক কামলা সালমার গান ছাড়ছে " আমি চাহিলাম যারে ভবে পাইলাম না তারে, সে এখন বাস করে অন্যের ঘরে।" মেজাজ গেল পুরাই হট হইয়া। মেয়েটারে জিগামু নাকি কয় দিন গোসল দেন না? জিগামু নাকি জিগামু না এইটা চিন্তা করতে করতে খাইলাম একটা ধাক্কা। কে দিল এই ভারী ধাক্কা? চাইয়া দেখি সেই মাইয়া। আমারে কয়, এক্সিউজ মী ভাইয়া, একটু সরে দাড়ান। আমি মনে মনে কই, যে ধাক্কা দিছ আর গন্ধ ছুটাইছ তুমি না কইলেও আর তোমার কাছে থাকুম না। তোমার মত পাবলিক আমার দরকার নাই। সামনে এক বুড়া আঙ্কেলের পাশে একটা সিট খালি হইল, আমি তারে বললাম, আন্টি বসলে ভাল হয়, বসে পড়েন।
আমি আমার গন্তব্বের কাছে এসে পড়লাম। নামার সময় আবার একটু দেইখা নিলাম। দেখি বুড়া আঙ্কেল মাইয়াটার পাশে বইসা মুখ হা কইরা ঘুমাইতাছে। আমি মনে মনে কই, চাচা আপন প্রাণ বাঁচা। বাস থেইকা নাইমা আগে এক প্যাকেট ইমোটিল কিন্না নিও।
অনেক দিন পর ১৮+ ঘটনা লিখলাম। কেউ কোনরূপ আঘাত পাইলে আমার কোন দোষ না। এটা অনলি একটা ফান-পোস্ট। নাথিং মোর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

