
ছোটবেলা থেকেই বেশ ভাল নকলবাজ ছিলাম। ক্লাসে যেতাম শুধু মাত্র স্যারদের কথা শুনে সেগুলোকে বিকৃত আকারে রূপ দেয়ার জন্য। নিজেরা নিজেরা এসব নিয়ে ফান করে হেসে লুটোপুটি খেতাম। স্যারদের সাথেও মাঝে মাঝে তাদের নিজ নিজ স্টাইল নিয়ে কথা বলতাম। স্যাররা হা কইরা তাকায়া থাকত। না পারত সইতে না পারত কিছু কইতে। আমার যেটা ধারনা সেইটা হইল, এই স্যারগুলা ছিল আমার মতই প্রচণ্ড রকমের ঘাড় তেরা। আমার কোন কিছু পাইলেই খুত ধইরা ফেলত। ঐ ঝামেলা থেইকা মুক্তি পাইতে আবার কত ফন্দি ফিকির। একবার পরীক্ষার হলে হইল এক ঝামেলা।
পরীক্ষার হলে আরেকজন কিভাবে লিখে এটা জানাটা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এমনকি ঐ প্রশ্ন নিজে ভালভাবে পারলেও আরেকজন কিভাবে লিখে তা দেখার কৌতুহল কিছুত্তেই সামলাতে পারতাম না। এই উকি ঝুকি মারতে গিয়েই খেলাম ধরা। ঐ স্যারের সাথে আমার আবার কিঞ্চিত প্রব্লেম হইছিল। আমারে তো ধইরা ফেলছে। খাতা গেল নিয়ে। সেতো মহা খুশি, দেখে মনে হচ্ছে জমজ বাচ্চার বাপ হইছে। এমনেতে অংক পরীক্ষা, তার উপর সে আমার সাথে দফারফা শুরু করছে। আমারে বলে আমি আরেকজনের টা দেখে লিখছি খাতা আর ফেরত দেয়া হবে না। আমি মুমূর্ষু রোগীর মত কাতরাতে লাগলাম। কি করা যায়? স্যারের কাছে গেলাম, আসতে আসতে বললাম স্যার আপনার গোপন খবর আমি ছাড়া আর কেউ জানে না। সেও আসতে আসতে বলে কিসের গোপন খবর? আমি বললাম স্যার এখনই বলব? সবাই শুনে ফেলবে না? আপনি খাতাটা দেন, আমি লিখা তাড়াতাড়ি শেষ কইরা আপনার সাথে কথা বলব। সে আমার মুখপানে চাইয়া একটু ভাইবা নিয়া আমার কথার সত্যতা যাচাই করল এবং করল একটা ভুল। আমার কথা সত্য ভেবে খাতা দিয়ে দিল। আমি আরামছে পরীক্ষা দিয়া শেষ করলাম। পরীক্ষা শেষে আমারে দিল ডাক। সেই গোপন কথা বলতে বলল। আমি বললাম আপনার গোপন কথা আমি জানব ক্যামনে, স্যার? আমার কি জানা উচিত? সে বলে তখন যে বললি? স্যার ঐটা হইল কথার কথা? তবে যা মনে হইল আপনি আপনার গোপন ব্যপার নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন থাকেন, আমি উহা বের করার জোর প্রচেষ্টা চালাব স্যার। এই কথা বইলা আমি আর দেরী করি নাই। দিছি জোরসে দৌড়।
উল্লেক্ষ্য স্যারের উতপাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য আমি পরে তার কাছে প্রাইভেট এ ভর্তি হই। কিন্তু বেচারা আমার কাছ থেকে এতটাই সতর্ক থাকত যে তার সেই গোপন ব্যপারটা আমার জানার সৌভাগ্য হইল না, গোপনই রয়ে গেল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

