বৃষ্টির দিনটা বেশ ভালই গেল। ভাল গেল এই কারনে যে বেশ কয়েকটি মজার ঘটনা ঘটেছে আজ। তার মধ্যে একটি হল এক অপরিচিত আপুর সাথে রিকশায় ভ্রমন।
ঘটনার শুরু আমার বাসার সামনেই। বাসার সামনেই এক গাদা বৃষ্টির পানি জমছে। রিকশা ছাড়া উপায় নাই, নাহলে পানি মাড়াতে হবে। তাই আমরা কয়েকজন উৎ পেতে ছিলাম রিকশার অপেক্ষায়। কিন্তু বৃষ্টির দিনে রিকশা পাওয়া অনেক টাফ। এরি মধ্যে আমি খেয়াল করলাম এক আপুও আমার মত রিকশার অপেক্ষায়। যাই হোক, আগে আগে রিকশা নেবার প্রতিযোগীতায় আমি আবার বেশ পটু। অন্য সবার আগেই মামাকে দূর থেকেই এক গাল হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম মামা মেইন রোডে নিয়া চল। আমার হাসিটা মনে হয় আজকে জোস ছিল, মামা বলল, চলেন মামা। রিকশায় চড়ে বসলাম, আর আপুটার দিকে তাকালাম, তার চেহারায় রাজ্যের হতাশা। আমার আর প্রানে সইল না।
রিকশার হুড খুলেই বসতে হল(আগেই বলছেই একটু মোটা)। গুড়িগুড়ি বৃষ্টির ফোটা আমার গায়ে পড়ছিল। আপুর হাতে আবার ছাতা ছিল। আমার মাথায় ছাতাটা শেয়ার করল। ভালই লাগছিল। টুকটাক কথা হচ্ছিল। এরি মধ্যে দেখি আমার আব্বা ছাতি মাথায় আসতেছে। আব্বার সাথে আমার চোখাচোখি হল কয়েক মাইক্রোসেকেন্ড। আব্বার চোখ গেল ঘুরে ঐ আপুটার কাছে? রাজ্যের বিস্ময় আব্বার চোখে! আব্বার চেহারা খানা দেইখা আমিও চুপসে গেলাম। না জানি কি ভাবল?
এর পরে আরো কিছু কথা হইল। আপু জব করে, শিফটিং ডিউটি তাই নাকি ১২টায় যাচ্ছে অফিসে। মেইন রোডে চলে আসলাম। উনি কিছুতেই আমাকে ভাড়া দিতে দিবেন না। আমি অনেক জোরাজোরি করেও পারলাম না দিতে। উনি বলে, আরে তুমি তো ছোট মানুষ, তুমি কি ভাড়া দিবা? আমিই দিচ্ছি।
পরে অবশ্য অনেক চিন্তা কইরা দেখলাম আমি তো ৩ দিক দিয়েই লাভবান হয়েছি।
১। মানবিক-- আপু আমাকে আমার বদান্যতার জন্য অনেক ধন্যবাদ দিয়েছেন। আমার মত মানুষ নাকি আজকাল পাওয়াই যাই না। আমি পুরা গলে বাস্প হয়ে গিয়েছিলাম তখন।
২। মানসিক-- এই বৃষ্টির দিনে তাকে নিয়ে খুব ঘোরার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সম্ভব ছিল না। কিন্তু ঘুরা তো আল্টিমেটলি হয়েই গেল।
৩। আর্থিক-- আমার রিকশাভাড়া বাজেটের ২০ টাকা সেভ থাকল।
পরে বাসায় আইসা আমারে আব্বা আম্মা রিমান্ডে নিল। কে ছিল? কই পাইলাম? এই সেই.........উফ অনেক কষ্টে তাদের বোঝাতে সমর্থ হলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

