somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনুর মা

২৯ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সালাম সাহেবের ঘুম ভেঙ্গেছে সকাল ৭টায়। এতো সকালে ঘুম থেকে তিনি ওঠেন না। সকাল সকাল উঠেই এককাপ চায়ের অভাব বোধ করে । কিন্তু এতো সকালে তার চা করে দেবে কে। ভেবে মেজাজ টা আরো একবার খারাপ হয়ে গেলো। তবু গলা উচিয়ে ডাকলো,

মনুর মা, ও মনুর মা আছো নাকি।

খুব সময় এই সময় মনুর মা বাসায় থাকে। সে আসে সেই ১২টার পরে। দুপুরের রান্নাটা করে। রাতের টা আলাদা করে রেখে দেয়। ঘরদোর গুছিয়ে রাখে। কাপড় চোপড় ধোয়ার থাকলে ধুয়ে দিয়ে যায়।

আমারে ডাকচেন ভাইজান ? চা বসাইচি। শুনতে পাইনাই ডাক।

মনুর মায়ের কথা শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে মনুর মা। ঠিক একই রকম, একইভাবে এক পায়ে দাড়িয়ে দরজায় হাত দিয়ে দাড়িয়ে। ফিঙ্গার প্রিন্ট এক্সপার্ট নিয়ে এসে পরীক্ষা করলে দেখা যাবে তার হাতের ও পায়ের ছাপ গত দুই বছরে একটুও এদিক ওদিক হয় নাই।

মনুর মায়ের গলা শুনেই মনটা ভালো হয়ে গেলো সালাম সাহেবের। তার সাথে চা বসিয়েছে শুনে মন ভালো না হয়ে কোন উপায় নেই। চা শব্দটা শুনেই যেন সে চায়ের স্বাদ পেয়ে গেছে।

এতো সকালে আজকে আসছো যে ?

কিছুটা অবাক হয়ে জানতে চায় সালাম সাহেব।

একটু তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে যাবো ভাইজান। মেয়ের বাপে আসছে। মেয়েরে নিয়ে যাবে গ্রামে। আমারে কয় যাইতে। আমি ক্যামনে যাই। হঠাৎ কইলে কি আর যাওয়া যায় কন। তাছাড়া, আপনারে কিছু কই নাই। কিন্তু এতো করে ধরছে যে না বলারও কোন উপায় নাই। এতোদিন পর বাড়ি যাইবো কইতেছে, মুখের উপর কি আর না বলোন যায় ভাইজান।

যাওয়ার পুরো প্রস্তুতি নিয়ে হাজির হয়ে আসছে বুঝতে পারে সালাম। তার হাঁ না বলা টা অপ্রাসঙ্গিক ভেবে পিছনে তাকিয়ে দেখে এখনও দাড়িয়ে আছে সেখানে।

আর কিছু বলবে ?

কিছু টাকা লাগবে ভাইজান। সামনের মাসের টাও দিয়েন।

এইভার একটু চিন্তা পেয়ে বসে সালাম সাহেবকে। গত বুয়া টাও এভাবে টাকা নিয়ে আর আসে নাই। ব্যাপারটা নতুন না। প্রতিবার তার মনে হয় বুয়া কথা দিযে রাখবে। কিন্তু শেষমেষ দেখা যায় কথা রাখার জন্য আর একটা বুয়া খুজতে হয়।

যাবার সময় দিয়ে যাবো। আমার একটু বের হবো তাড়াতাড়ি। তুমি যেহেতু থাকবা না দুদিনের জন্য যা পাওয়া যায় রান্না করে রেখো।

ভাইজান নাস্তা কি করে দেবো না বাইরে খাবেন।

প্রতিদিন বাইরে খেয়ে অভ্যাস । আজকে আর খেয়ে কি হবে ভেবে নিষেধ করে দেয় সালাম সাহেব। বাইরের পোশাক পরে মনুর মা কে ডাকে। গতকাল পেনশনের টাকা তুলে এনেছে । টাকাটা খুলেও দেখা হয়নি। টুকটাক বাজার করতে হবে আর মনুর মা কেও দিতে হবে ভেবে টাকাটা বের করে।


ততক্ষনে মনুর মা এসে দাড়িয়েছে। তাকে দুই মাসের টাকার সাথে আরও একহাজার টাকা বেশী দিয়ে টাকাটা আগের জায়গায় রেখে বেরিয়ে যায় সালাম সাহেব।

বাসা থেকে বেরিয়ে রিকসা নেয়। আজকে ঘুরবে বেশ কিছুক্ষন। যদিও বুয়া রান্না করে রাখবে তবু বাইরে খাবে । একদম সন্ধায় ফিরবে মনস্থির করে একটু ফুরফুরে লাগে তার। কিছুটা সামনে যেয়ে তিন মাথার মোড় থেকে বা দিকে মোড় নেয় রিকসা।

আরও কিছুটা সময় পরে তিন মাথার মোড়ের ডান দিক থেকে দ্রুত পায়ে একজন লোক সালাম সাহেবের বাসার পথে যেতে থাকে। একটু পর সালাম সাহেবের দরজায় টোকা পড়ে।

সালাম সাহেব তাহের হোটেলে ততক্ষনে দুধ চায়ে পরাটা রোল করে ভিজিয়ে খেতে শুরু করে দেয়। অনেকদিন পর এভাবে পরটা চায়ে ভিজিয়ে ছোট বেলার কথা মনে পড়ে যায়। দুটো পরোটার পরে আরও একটা পরোটা দিতে বলে সে। তৃতীয় পরোটা শেষ করার আগেই তার বাসা থেকে মনুর মা সেই অচেনা লোকসহ বেড়িয়ে পরে।

আয়েশ করে চায়ে চুমুক দিতে থাকা সালাম সাহেবের কোন ধারনাও নেই ঠিক সেই সময় তার বাসা থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছে তার দীর্ঘ ২৮ বছরের চাকুরী জীবনের সঞ্চিত ভবিষ্যৎ।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ১২:০৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ai দিয়ে তৈরি করা কিছু বাংলাদেশী টাকার নমুনা নোট

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:২২


হঠাত করেই কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে Ai দিয়ে তৈরি করা কিছু বাংলাদেশী টাকার নমুনা নোট বার বার সামনে আসতে শুরু করে। তাদের কিছু কিছু নমুনা খুবই সুন্দর, কিছু কিছু আবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ন্যায়বিচার ও ইসলামী ভ্রাতৃত্ব!

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ২০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

একদিন দু’জন লোক এক বালককে টেনে ধরে নিয়ে আসল উমর (রাঃ)র দরবারে। উমর (রাঃ) তাদের কাছে জানতে চাইলেন যে, ‘ব্যাপার কি, কেন তোমরা একে এভাবে টেনে এনেছ ?’

তারা বলল, ‘এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যু্ক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাই-১

লিখেছেন অপলক , ২০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:২৪




আমরা সবাই জানি ইসলাম ধর্মে, আত্মহত্যাকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সহীহ বুখারীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আমার বান্দা নিজের জীবনের ব্যাপারে আমার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তাই আমি তার ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোল্লাতন্ত্র ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২


সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×