আমি সকল যৌক্তিক প্রতিবাদের পক্ষে। এই যৌক্তিকতা কিরম ভাবে ঠিক হইবো? বিভিন্ন জনের ক্ষেত্রে এই যৌক্তিকতা বিভিন্ন স্বার্থের নিরীখে পাল্টায় বইলা মনে করা হয়...কিন্তু আসলে বিভিন্ন স্বার্থ একটা ভূয়া বিষয়। মানুষ সত্ত্বার সাথে সভ্যতা বিষয়টা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত হয়। আর সভ্যতা মানেই সেইখানে যূথবদ্ধতার উপস্থিতি থাকে। তারমানে ব্যক্তির স্বার্থ বইলা আসলে কিছু নাই, যখন যৌক্তিকতা থাকে...ন্যায় থাকে।
আমরা জাবিতে আন্দোলন কইরা কর্তৃপক্ষরে বাধ্য করছিলাম ধর্মভিত্তিক আর পতিত স্বৈরাচারের ছাত্র সংগঠনগুলিরে নিষিদ্ধ করতে। স্বায়ত্বশাসিত একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানে রাষ্ট্রের ভিতরে আরেকটা রাষ্ট্র, সেইখানে সরকারের মতোই একটা বডি থাকে যারা নিয়ম কানুন তৈরী করে, যারা দাবী শোনে, যারা দাবী মানে আবার দাবীর প্রতি কর্ণপাতও করে না। সেই কর্তৃপক্ষ আমাগো দাবী শুনতে বাধ্য হইছিলো...তারা দাবী মাইনা নিছিলো তার যৌক্তিকতার নিরীখেই। ইতিহাসের অন্যান্য উদাহরণের মতোই ধর্মভিত্তিক সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির অস্ত্র দেখাইয়া ক্যাম্পাস দখল করতে চাইছিলো, ধর্মের সাথে দখলদারীত্ব প্রবণতা আসে খুব স্বাভাবিক ভাবেই, কারণ ধর্মে পরিবর্তনের কোন সুযাগ থাকে না। ধর্ম ধ্রূব সত্যের কথা কইতে চায়, আর তাই অন্য যে কোন নতুন, যে কোন মুক্ত প্ল্যাটফর্মের সাথে তার বিরোধ তৈরী হয়। আমরা একটা বিশ্ব বিদ্যালয়ে ধর্ম ভিত্তিক মতবাদের অনুপ্রবেশরে যৌক্তিক মনে করি নাই...কারণ তাতে বিশ্ব বিদ্যালয়ের জ্ঞানান্বেষী প্রবণতাটাই নষ্ট হইয়া যায়। এই প্রবণতা গেলে আর কি থাকে বলো!
অথচ প্রতি ভোরে উইঠা আমরা দৈনিক পত্রিকা পড়ছি, যেইখানে স্বাধীনতা বিরোধীরা কেমনে জাতীয় রাজনীতিতে শক্তি সঞ্চয় করছে সেই ব্যাপারে বিবিধ তথ্য দেখতাম...জাতীয় প্রচার মাধ্যমগুলিতে তাগো সফেদ দাড়িতে লুকাইয়া রাখা শয়তানের মিচকি হাসি দেখতাম...কারণ আমাগো ব্যর্থতা! জাবি'র ঐ আন্দোলনরে জাতীয় আন্দোলন হিসাবে ছড়াইয়া দিতে পারি নাই আমরা। ঢাকা শহরে আমার পথ আটকাইয়া রাইখা স্বাধীনতা বিরোধী ঐ সব নেতাগো নিরাপত্তা রক্ষা করছে আমাগো জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। তাগো দামী শুল্কবিহীন গাড়ি গুলি শব্দহীন দ্রুতগামীতায় ছুইটা গেছে আমাগো সামনে দিয়াই। আমরা নীরবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছি, 'দেখিস একদিন আমরাও...'
এখনো ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কথা আমরা শুনি। পত্রিকায় তার খবর পড়তে হয় নিয়তঃই। বাংলা ব্লগ আসনের পর তার খবরও পড়তে হয় প্রতিদিন...মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এই মতাদর্শিক অবস্থান নিয়া দেখি গুটিকয়েক মানুষ অসংখ্য নিকে ফালায়...কিন্তু তারা কেমনে এইখানে আছে সেইটা নিয়া আমার প্রশ্ন তৈরী হইলেও বিরোধ তৈরী হয় না। সামহোয়্যার ইনরে আমার কোন প্রতিষ্ঠান মনে হয় না। তারা আমার কোন নীতিমালা তৈরী করনের ক্ষমতা রাখে না। ভার্চুয়াল জগতে তারা খালি একটা জায়গা কইরা দিছে, যেইখানে যে কেউ রেজিস্ট্রেশান কইরা যা ইচ্ছা তা কইতে পারে...চ বর্গীয় গালি যদি কেউ দেয় সেইটা নিয়া যেমন কোন বিরোধ আমার নাই...একইরম জামায়াতি রাজাকারের ছবি দিয়া কেউ পোস্টাইলেও আমার বক্তব্য দেওন ছাড়া আর কিছু করনের থাকে না...না থাকলে হয়তো ভালো লাগতো...কিন্তু থাকলেও মনে হয় কোন অসুবিধা নাই...বরং নিজের সামাজিক ব্যর্থতারে এমনেই বহন করতে হইবো বইলা মনে হয়। দেশে রাজাকার থাকবো আর ব্লগে তার কোন অস্তিত্ব থাকবো না, এই ভাবনাতো অলীক! ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্র নিয়া স্বপ্ন দেখবো কিছু মানুষ, আর বাংলা ব্লগে তাগো দেখুম না...জায়গাটাতে কোন ব্লকেড দেওন তো সম্ভব না। এর মালিকেরা তো আর সরকারের মতো কইরা ভাবে না, তাগো তো আর মতাদর্শ নিয়া কোন দায় বদ্ধতা নাই ( আমাগো যেহেতু চেষ্টা নাই শারিরীক ভাবে এইটা মাইনা নিতেই হইবো) তাগো ব্যবসা আছে...আর এই ব্যবসা এই সিস্টেমের ভেতরকার ব্যবসা...তার মধ্যেও তারা একটা ব্লগব্লগানির জায়গা কইরা দিছে আমি আমার মনের কথাগুলি কইতে পারতেছি এইটাওতো কম না! আর ব্লগ কনসেপ্টটা পশ্চিমা উদার পন্থার প্রকাশ থেইকা আসা একটা ধারণা...সেইটারে যেহেতু নিছি...
তয় আমার মনে হয় আমরা যদি সামাজিক ভাবে-রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন পরিবর্তন করতে পারি, এই ব্লগও পাল্টাইবো...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

