১৯৭৯...আমার ছোট ফুফুর বিয়ার আঞ্জাম চলতাছে। আমাগো বাড়িতেই বিয়ার অনুষ্ঠান...(ঐ আমলে কম্যুনিটি সেন্টারে বিয়াশাদী মনে হয় কম হইতো)। বংশের সকল পিচ্চি পোলাপাইন আছিলো সব আমাগো বাড়িতেই সারাদিন, রাইতের বেলা গণ ফ্লোরিং...আমরা তিন ভাইবোনই আছিলাম মজায়! কাছাকাছি বয়সের হইলেও আমরা ছিলাম একটু বড় সবাইর থেইকা...আর তার উপর আমাগো বাড়িতেই সব কিছু হওনের কারণে একটু আধটু বড়গলা! বাড়ি ভর্তি মানুষ...আর খাওন-দাওনের সরঞ্জাম...ঠিক কতোগুলি আছিলো মনে পড়তাছে না, কিন্তু মিনিমাম ১০টা ছিলো খাশী...বিয়ার ৩/৪ দিন আগেই সেই খাশী কিন্যা আইনা বাড়িতে পালা হইতেছিলো পুরান ঢাকার রীতি অনুযায়ী...আমরা পোলাপাইনরা ঐ খাশীগো ঘাস খাওয়াইতে যাইতাম...
ঐ সময়টাতেই জিয়ার হা-না ভোট হইছিলো...তখন সামরিক শাসন চলতেছিলো হিসাব অনুযায়ী...অতোটা বুঝতে না পারলেও যেহেতু একটা প্লাস্টিকের সোলজার সেট থাকনে আমার তখনকার হিরো আছিলো মিলিটারীরা, মেশিনগান আর ট্যাংক ছিলো খেলার উপকরণ...বাপ-মা রাজনীতি মনস্ক থাকনে বাড়িতে মিলিটারীরে বহুত গালাগালি চলতো, আমি খুব গোপনে খেপতাম তাগো এই আচরনে।
কিন্তু এই বিয়ার অনুষ্ঠানের টাইমে আমি ছিলাম সকল দুরন্তপণার নেতা। আমাগো ঐ তিনদিনের অনেক খেলার একটা খেলা হইলো হা-না ভোটের খেলা! আমরা সবাই ছালা দিয়া ঘেরাও কইরা ভোটের বুথ বানাইছিলাম...সব পিচ্চিরাতো ছিলোই, শেষদিকে যদ্দূর মনে পড়ে, ছাগলগুলিও ভোট দিতো আমাগো সেই হা-না ইলেকশনে। তাগোও আমরা পোলিং বুথে ঢুকাইয়া দিতাম গলার রশি হাতে রাইখা...সব কিছু শেষ হইলে আমি দিতাম ইলেকশনের ফলাফল ঘোষণা...
যেহেতু মিলিটারী নিয়া তখন আমার হিরো ওয়রশীপ ছিলো তাই আমার সেই রেজাল্ট ঘোষণায় হা ভোট জিতা যাইতো...মনুষ্য সন্তান আর ছাগল ভোটারগো নির্বাচনে, কেউ ছিলোনা ঠেকানের মতোন! সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান আমাগো সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাস্তবতার মতোই অনুমোদন পাইতেন রাজনীতি করনের...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




