somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শৈশব জুড়ে সামরিক শাসন - এক

০৯ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭৯...আমার ছোট ফুফুর বিয়ার আঞ্জাম চলতাছে। আমাগো বাড়িতেই বিয়ার অনুষ্ঠান...(ঐ আমলে কম্যুনিটি সেন্টারে বিয়াশাদী মনে হয় কম হইতো)। বংশের সকল পিচ্চি পোলাপাইন আছিলো সব আমাগো বাড়িতেই সারাদিন, রাইতের বেলা গণ ফ্লোরিং...আমরা তিন ভাইবোনই আছিলাম মজায়! কাছাকাছি বয়সের হইলেও আমরা ছিলাম একটু বড় সবাইর থেইকা...আর তার উপর আমাগো বাড়িতেই সব কিছু হওনের কারণে একটু আধটু বড়গলা! বাড়ি ভর্তি মানুষ...আর খাওন-দাওনের সরঞ্জাম...ঠিক কতোগুলি আছিলো মনে পড়তাছে না, কিন্তু মিনিমাম ১০টা ছিলো খাশী...বিয়ার ৩/৪ দিন আগেই সেই খাশী কিন্যা আইনা বাড়িতে পালা হইতেছিলো পুরান ঢাকার রীতি অনুযায়ী...আমরা পোলাপাইনরা ঐ খাশীগো ঘাস খাওয়াইতে যাইতাম...

ঐ সময়টাতেই জিয়ার হা-না ভোট হইছিলো...তখন সামরিক শাসন চলতেছিলো হিসাব অনুযায়ী...অতোটা বুঝতে না পারলেও যেহেতু একটা প্লাস্টিকের সোলজার সেট থাকনে আমার তখনকার হিরো আছিলো মিলিটারীরা, মেশিনগান আর ট্যাংক ছিলো খেলার উপকরণ...বাপ-মা রাজনীতি মনস্ক থাকনে বাড়িতে মিলিটারীরে বহুত গালাগালি চলতো, আমি খুব গোপনে খেপতাম তাগো এই আচরনে।

কিন্তু এই বিয়ার অনুষ্ঠানের টাইমে আমি ছিলাম সকল দুরন্তপণার নেতা। আমাগো ঐ তিনদিনের অনেক খেলার একটা খেলা হইলো হা-না ভোটের খেলা! আমরা সবাই ছালা দিয়া ঘেরাও কইরা ভোটের বুথ বানাইছিলাম...সব পিচ্চিরাতো ছিলোই, শেষদিকে যদ্দূর মনে পড়ে, ছাগলগুলিও ভোট দিতো আমাগো সেই হা-না ইলেকশনে। তাগোও আমরা পোলিং বুথে ঢুকাইয়া দিতাম গলার রশি হাতে রাইখা...সব কিছু শেষ হইলে আমি দিতাম ইলেকশনের ফলাফল ঘোষণা...

যেহেতু মিলিটারী নিয়া তখন আমার হিরো ওয়রশীপ ছিলো তাই আমার সেই রেজাল্ট ঘোষণায় হা ভোট জিতা যাইতো...মনুষ্য সন্তান আর ছাগল ভোটারগো নির্বাচনে, কেউ ছিলোনা ঠেকানের মতোন! সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান আমাগো সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাস্তবতার মতোই অনুমোদন পাইতেন রাজনীতি করনের...
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×