somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নটরডেম কলেজ স্মৃতিকথন-৩

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের লেখাটিতে ফিজিক্স ল্যাব নিয়ে লিখেছিলাম।আজ একটু রসায়ন নিয়ে লিখতে চাই।
রসায়ন ল্যাব বললেই প্রথমে যেটা স্মৃতিতে আসে তাহলো লোহার তৈরী কতগুলো গ্যাসের বার্নার, কেমিক্যালের জ্বালায় জ্বলে যাওয়া পরীক্ষাগারের বেসিন আর কর্কশ ল্যাব ব্রাদাররা। আর যেটা মনে পড়ে অমর চাঁদ দাশ তালুকদার স্যারের সেই বিখ্যাত উক্তি "এই চেলেরা তোমরা কি কচ্ছ?" :)
প্রথম বর্ষের কেমিস্ট্রি প্র্যাকটিকাল ক্লাশ এ তেমন সমস্যা না হলেও প্রবলেম টা শুরু হলো দ্বিতীয় বর্ষে উঠেই। সবাইকে লবন দেয়া হবে। লবনের গ্রুপ পরীক্ষা করে লবনটি কি টা লিখে জমা দিতে হবে। ১২ ক্লাশে ৬ টা লবন মিলাতে হবে। প্রথমে শুনে বেশ সহজই মন হয়েছিল। কিন্তু পরপর তিন সপ্তাহ ল্যাব করার পর যখন একটিও লবন মিলাতে পারলাম না তখন তো মনে হইল এর জন্য কি আরও একবছর বেশি এই কলেজে কাটাইতে হবে? :#>
ঠিক তখনই আশার আলো নিয়ে হাজির হইলো আমার এক ফ্রেন্ড। সে পাশের মেস এ থাকতো। সে বললো লবন গুলির একটা সিরিয়াল আছে। সিরিয়াল অনুযায়ী লবন দেয়া হয়। সে আরো বললো তাদের মেসের এক ছেলের লবনের সাথে আমার লবনটির গুণগত মিল লক্ষ্য করা যায়। সেই ছেলেটির লবনটা মিলেছে এবং তা হলো এমোনিয়াম সালফেট। পরের সপ্তাহে লবনটা হাতে নিয়েই সবার আগে এমোনিয়াম আর সালফেট এর গ্রুপ পরীক্ষা করলাম। বাহ্, কি চমত্কার দেখা গেলো। সব একেবারে মিলে গেলো।:)
তারপর শুরু হলো লবন মিলানো। ওই ছেলের কাছে থেকে কোনটার পরে কোন লবন আসবে তা শুনে নিতাম আর লবন মিলাতাম। লবন তো আগে থেকেই জানতাম তাই ক্লাশে ইচ্ছামতন পরীক্ষা করতে পারতাম। তাইতো কখনো নাইট্রেট মূলক পড়লে বারবার সেই বলয় তৈরী করতাম আর টার মাঝে আকাশের রংধনুকে খুঁজে বেড়াতাম।:D
বি:দ: বাকি আট ক্লাশে আমি আটটি লবন মিলিয়ে সসম্মানে এইচ.এস.সি পাশ করিয়াছি।

এরপর আশা যাক বায়োলজি ল্যাব এ। ল্যাব এ ঢুকেই প্রথম যে জিনিসটা অন্য রকম লাগলো সেটা হলো কতগুলো মৃত বিষধর সাপ কে ফরমালিন দিয়ে কাঁচের জারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। দুনিয়ায় এত জীব-জন্তু থাকতে এই সাপগুলি কেন এটা আমি কখনই বুঝিতে পারিনাই।
বায়োলজি ল্যাব এ ছিলো ডেমো মিজান আর তার বিখ্যাত হাসি। তার বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর আর কর্মস্পৃহার জুড়ি মেলানো ভার। একদিন সে বলিলো তোমরা বাসা থেকে তেলাপোকা ধরে নিয়ে আসো। সেই তেলাপোকা দিয়ে প্রাকটিক্যাল করা হবে। যার তেলাপোকা নাই, তার প্রাকটিক্যাল ও নাই। আমি তখন ঢাকা শহরের একটি ময়লাযুক্ত ব্যাচেলার মেসে থাকিতাম। তাই সেখানে তেলাপোকা প্রাপ্তিতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। কিন্তু কিভাবে সেই তেলাপকাটিকে ধরিব আর ধরার পরে তাকে জীবন্ত কিভাবে কলেজ পর্যন্ত পরিবহন করিব ইহা ভাবিয়া সপ্তাহটি বেশ চিন্তায় গেলো।
প্রাকটিক্যালের দিন দুপুরের গোসল করিবার আগেই মেসের চাল রাখিবার জায়গায় আশ-পাশেই পেয়ে গেলাম সেই কাঙ্খিত তেলাপোকা আর ধরেও ফেললাম।:) কিন্তু কিভাবে নিয়ে যাবো ভাবতেই চোখের সামনে পরলো লাক্স সাবানের খালি প্যাকেট। বাস, তাতে তেলাপোকাকে ঢুকিয়ে দুপুরের খেয়ে সদ্য চালু হওয়া সিটি বাস (মো:পুর-মতিঝিল) এ উঠে রওনাদিলাম কলেজের উদ্দেশ্যে। সিটিকলেজের কাছে গিয়ে হটাত খেয়াল করলাম প্যাকেটের মাঝে কোনো শব্দ নাই। খুলে দেখি তেলাপোকা নাই। একপাশ একটু ছিদ্র করে পালিয়ে গিয়েছে।:|
আমি তো পরলাম নিথুয়া পাথারে। ল্যাব এ এসে দেখি কিছু এক্সট্রা তেলাপোকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে আমার মতো ব্যর্থ জনগনের জন্য।
আরেকদিন দেখি কি সুন্দর কৃষ্ণচূড়া ফুল টেবিলে সাজানো আর তার পাশেই নতুন শার্প ব্লেড রাখা। ডেমো মিজান বললো ফুলের ব্যবচ্ছেদ করো। ঠিক মাঝখান দিয়ে কেটে দুভাগ করে ফেলো। তারপর অনুবীক্ষণে দেখো কি দেখা যায়। এদিকে মেসে আবার তখন সদ্য জগন্নাথ পাশকৃত বড়ভাই চাকুরী খোঁজে আর বাসায় থাকলেই "এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার নিচে দাড়িয়ে হাতে হাত , চোখে চোখ কথা যেত হারিয়ে " গান শোনে। ফুল তো দ্বি-খন্ডিত করতে হবেই, তার আগে আমার মনে হলো এই কি সেই কৃষ্ণচূড়া? তার নিচে যাওয়ার আগেই তারে কেটে ফেললাম।:)


(চলবে)
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×