পথিক চলিতেছিল ট্রেনের কামরায় বসিয়া। শব্দবিহীন বিদ্যুত চালিত ট্রেনের কামরায়, ক্ষুদ্র যন্ত্রে গান শুনিয়া শুনিয়া। মহাকালের পরিব্যাপ্তির সংজ্ঞা দিতে গিয়া বিজ্ঞানীগণ যেমন বৃহত সম্প্রসারণ তত্ত্ব আবিষ্কার করিয়াছেন তাহারি মতো তাহার মন দিগন্তে স্মৃতিগুলি ছুটিয়া যাইতেছিল।ট্রেনের দুলুনি আর দিবসের ক্লান্তি, রাতের দ্বি-প্রহরে ঘুমানোর ফলে সৃষ্টি হওয়া বৈকালের তন্দ্রাভাব তাহার মগজকে অচল করিয়া দেহকে শিথিল করিয়া দিতাছিল। তবুও এই জন অরন্যে সে সর্বদা সচল থাকিয়া জন্মের পরেই শুরু
হওয়া সংগ্রামে শামিল থাকিতে চেষ্টা করিল। কিন্তু, কিছুতেই তাহার অবচেতন মন সাড়া দিল না। সুদুর দুরে, কোন একটি ঘটনা , পারিপার্শ্বিক স্মৃতি আর এক হাহাকার তাহাকে তারা করিয়া ফিরিতেছিল। অস্ফুট কন্ঠে সে ব্যর্থতা তাড়ানোর ভাষা খুজিয়া বেরায়তেচিকো মনে মনে , জন অরন্যে, সঙ্গোপনে।
তন্দ্রার মাঝেই সে অতীতে, অনেক গতিতে গিয়া হাজির হইলো। সাধারন একজন মানব শিশু হিসাবে এই জগতে সে আসিয়াছিল। সে নিজে কিছু বোঝার আগেই জগত তাহাকে বোঝাইয়া দেয় যে সে এটা এতদিন কেন বোঝেনাই আর এই জন্য তাহাকে উপহাস করিয়া চিন্তার সাগরে ছুড়িয়া দেয়। আনন্দের সঙ্গ গুলিতে জগত এভাবে তাহার দিকে তাড়াইয়া আসে না , সে জগতের দিকে ছুটিয়া যায়। কিন্তু জগত তাতে সাড়া দেয় না. নিরব, স্থির, বধিরের মতো দাড়াইয়া থাকিয়া আনন্দ লহরিকে নিজের দিকেই ফিরাইয়া দেয়। কিন্তু, ক্রন্দন স্রোত তার বড় পছন্দ। অন্তরের গনিন শিরায় শিরায় প্রবাহিত হওয়া পরাজিতের কান্নার স্রোত সে দুহাত ভরে গ্রহণ করে। ছড়িয়ে দেয় মহাশুন্যে। মুহূর্তকে করে দেয় কালো, আসার, বরফের ন্যায় শীতল, নির্বাক.
পথিমধ্যে স্টেশন পরিতেছিল।অর্ধজাগ্রত পথিকের কাছে তাহা ভালো লাগুক বা নাই লাগুক ট্রেনটি চলিতে শুরু করিলে তাহার মনে এক ধরনের প্রশান্তি ভর করিতেছিল. ইহার উত্স কি তাহা সে জনিত না ।
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

