somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বহুদিন পরে কোন এক দেশে

১৩ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশটিতে মানুষের সংখ্যা অনেক।এর একটি বড় অংশ রাজধানী শহরের ঠিক মাঝখানে বসবাস করতে ভালোবাসে। কেননা, ঠিক মাঝখান থেকেই পায়ে হাটা দুরত্বে সবজায়গায় যাওয়া যায়।দেশের রাজধানীতে তখন আর কোন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেই । আছে গুটিকয়েক প্রাইভেট গাড়ি। যে গুলোও কেবল ছুটির দিনে অল্প কিছুক্ষনের জন্যবের হয়। দেশে মফস্সল শহর গুলিতে একদা বাস চলত। কোথাও কোথাও ট্রেন, নৌকা এগুলোও ছিলো। কিন্তু সেসব আজ আর নেই।বাস এখনো অল্প কিছু চলে।কিন্তু বাসে স্থান সংকুলান হয়না, আর দুর্ঘটনা বেশি হবার কারণে লোকজন ৫-১০ কিলোমিটার পর্যন্ত সাইকেলেই যাতায়াত করে।এক -দেড়শ বছর আগে বিলেতিরা তাদেরকে সাইকেল চালানো শিখিয়েছিলো। সেটা এতদিন পরে বেশ কাজে দিচ্ছে বলে লোকজন বেশ খুশি।
দেশের লোকজন একদা সরকার এর কাছ থেকে বিদ্যুত কিনিত।কেউ পেত, কেও পেতনা। এখন আর কেও সরকার এর কাছ থেকে বিদ্যুত কেনে না। চাল কেনার মতো সবাই জেনারেটরের তেল কেনে। টাকা ভালোই লাগে। তবুও সবাই খুশি। কারণ এখন আর কাওকে অভিযোগ করতে হয়না । সংবাদপত্রে বিদ্যুত মডেল মন্ত্রীদের চিন্তাগ্রস্থ চেহারাও দেখতে হয় না। কিছু লোক জেনারেটর কিনতে পারে নাই। তারা সৃষ্টির শুরু থেকে চলে আসা তেলের কুপি ব্যবহার করে। তারাও খুশি, কারণ কিছু টাকা হলেই তারা দোকান থেকে জেনারেটর কিনতে পারবে, কারো দয়ার উপর তাদের আর নির্ভর করতে হয় না।
দেশের ছেলে মেয়েরা এক সময় কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করত। আজ তারা উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।কোনো ঝামেলা ছাড়াই। দিন বদলে শুধু যেটা বদলেছে দেশী কোম্পানির বদলে বিদেশী কোম্পানি থেকে তারা সেবাটা কেনে। তবুও তারা খুশি। অন্তত কিছুটা সময় এখন তারা চায়ের দোকানে অসার রাজনৈতিক আলাপ বাদ দিয়ে ইন্টারনেটে আজাইরা কাটাইতে পারে।
একদা দেশে দুই একটা ভালো বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো। কিন্তু সেগুলো আজ অচল হইয়াছে। সেগুলাতে এখনো ফুচকা ওয়ালারা যায়। ক্রেতাও আছে। কিন্তু ক্লাসরুম গুলি খাখা করে।শিক্ষকেরা সবাই এত বড় শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষা দিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে না। তারা বাসা বাড়িতে তৈরী খুপরি জাতীয় শিক্ষালয় গুলিতে পড়ায়।সেই কিন্তু থাকার জন্য তারা বড় শিক্ষাঙ্গনের উন্মুক্ত পরিবেশ কে পছন্দ করে। তাই সামান্য কিছু টাকা নিয়ে হলেও তারা আজো এই মলিন বিদ্যাপীঠের, মান্ধাতার আমলের রেজিস্টার বইতে তাদের নামটি থাকার অনুমতি দিয়েছে। যদিও অনেকে পরদেশে গিয়ে যতদিন পর্যন্ত এই মলিন কুপের তেল চুষে নিতে পেরেছে ততদিন জ্বলেছে, তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় তারাও নিভে গেছে এই জঙ্গল থেকে। এখন তারা ভিনদেশী তারা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আগে পশ্চিমা দেশগুলিতে যাওয়ার জন্য সপ্ন দেখতে দেখতে কংকালসার হয়ে যেত। এখন তাদের আর এত দুরে যেতে হয় না। পাশের বড় দেশেই বড় মাপের শিক্ষালয় হয়েছে। তারা সেখানে যায় পড়াশোনা করতে। পাশের দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও আগের চেয়ে ভালো। তারা পাশের দেশে গিয়ে এখন ফর ফর করে ভিনদেশী ভাষা বলে। গর্বে তাদের বুকটা ভরে ওঠে।
দেশের জনসংখ্যা বেশি হবার কারণে আগে অসুখে অনেক লোক মারা যেত। ইদানিং এই হারটা কমছে। তবে কিছু লোক এখনো মরে।তবে যাদের একটু সহরে যাওয়ার টাকা আছে তারা শহরে না গিয়ে পাশের দেশে চলে যা. সর্দি-কাশি হলেও পাশের দেশে চলে যায় । কিছু নিতান্তই গরীব লোক আছে যাদের শহরে যাবার টাকা নাই । তারা আবার প্রাচীন আমলের কবিরাজি, ওঝাতে ফিরে এসেছে। অনেকে না ফিরতে চাইলেও মনের সান্তনার জন্য তাদের কাছে যায়। কারণ ডাক্তাররা থাকে ওই বড় শহরে যেথা মানুষ পায়ে হেটে চলে।
তবে এত কিছুর পরেও লোকজন খুশি। কারন তাদের সবার মনে একটা আশা আছে। সেটা হল তাদের জীবনে একদিন না একদিন বিদেশে যাবার সুযোগ আসবেই। একবার বিদেশে গেলে তারা আর কখনো দেশে ফিরবে না। সবাই তাই করে। তাই তারা ছোট বেলা থেকেই বিদেশী ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা করে এবং তা বহিপ্রকাশ করে। তবে বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন বিশেষ দিনগুলিতে বা অবসর সময়ের খোরাক হিসাবে তারা দেশকে নিয়ে ভাবতে পছন্দ করে।

(চলবে)


১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×