দেশটিতে মানুষের সংখ্যা অনেক।এর একটি বড় অংশ রাজধানী শহরের ঠিক মাঝখানে বসবাস করতে ভালোবাসে। কেননা, ঠিক মাঝখান থেকেই পায়ে হাটা দুরত্বে সবজায়গায় যাওয়া যায়।দেশের রাজধানীতে তখন আর কোন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেই । আছে গুটিকয়েক প্রাইভেট গাড়ি। যে গুলোও কেবল ছুটির দিনে অল্প কিছুক্ষনের জন্যবের হয়। দেশে মফস্সল শহর গুলিতে একদা বাস চলত। কোথাও কোথাও ট্রেন, নৌকা এগুলোও ছিলো। কিন্তু সেসব আজ আর নেই।বাস এখনো অল্প কিছু চলে।কিন্তু বাসে স্থান সংকুলান হয়না, আর দুর্ঘটনা বেশি হবার কারণে লোকজন ৫-১০ কিলোমিটার পর্যন্ত সাইকেলেই যাতায়াত করে।এক -দেড়শ বছর আগে বিলেতিরা তাদেরকে সাইকেল চালানো শিখিয়েছিলো। সেটা এতদিন পরে বেশ কাজে দিচ্ছে বলে লোকজন বেশ খুশি।
দেশের লোকজন একদা সরকার এর কাছ থেকে বিদ্যুত কিনিত।কেউ পেত, কেও পেতনা। এখন আর কেও সরকার এর কাছ থেকে বিদ্যুত কেনে না। চাল কেনার মতো সবাই জেনারেটরের তেল কেনে। টাকা ভালোই লাগে। তবুও সবাই খুশি। কারণ এখন আর কাওকে অভিযোগ করতে হয়না । সংবাদপত্রে বিদ্যুত মডেল মন্ত্রীদের চিন্তাগ্রস্থ চেহারাও দেখতে হয় না। কিছু লোক জেনারেটর কিনতে পারে নাই। তারা সৃষ্টির শুরু থেকে চলে আসা তেলের কুপি ব্যবহার করে। তারাও খুশি, কারণ কিছু টাকা হলেই তারা দোকান থেকে জেনারেটর কিনতে পারবে, কারো দয়ার উপর তাদের আর নির্ভর করতে হয় না।
দেশের ছেলে মেয়েরা এক সময় কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করত। আজ তারা উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।কোনো ঝামেলা ছাড়াই। দিন বদলে শুধু যেটা বদলেছে দেশী কোম্পানির বদলে বিদেশী কোম্পানি থেকে তারা সেবাটা কেনে। তবুও তারা খুশি। অন্তত কিছুটা সময় এখন তারা চায়ের দোকানে অসার রাজনৈতিক আলাপ বাদ দিয়ে ইন্টারনেটে আজাইরা কাটাইতে পারে।
একদা দেশে দুই একটা ভালো বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো। কিন্তু সেগুলো আজ অচল হইয়াছে। সেগুলাতে এখনো ফুচকা ওয়ালারা যায়। ক্রেতাও আছে। কিন্তু ক্লাসরুম গুলি খাখা করে।শিক্ষকেরা সবাই এত বড় শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষা দিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে না। তারা বাসা বাড়িতে তৈরী খুপরি জাতীয় শিক্ষালয় গুলিতে পড়ায়।সেই কিন্তু থাকার জন্য তারা বড় শিক্ষাঙ্গনের উন্মুক্ত পরিবেশ কে পছন্দ করে। তাই সামান্য কিছু টাকা নিয়ে হলেও তারা আজো এই মলিন বিদ্যাপীঠের, মান্ধাতার আমলের রেজিস্টার বইতে তাদের নামটি থাকার অনুমতি দিয়েছে। যদিও অনেকে পরদেশে গিয়ে যতদিন পর্যন্ত এই মলিন কুপের তেল চুষে নিতে পেরেছে ততদিন জ্বলেছে, তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় তারাও নিভে গেছে এই জঙ্গল থেকে। এখন তারা ভিনদেশী তারা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আগে পশ্চিমা দেশগুলিতে যাওয়ার জন্য সপ্ন দেখতে দেখতে কংকালসার হয়ে যেত। এখন তাদের আর এত দুরে যেতে হয় না। পাশের বড় দেশেই বড় মাপের শিক্ষালয় হয়েছে। তারা সেখানে যায় পড়াশোনা করতে। পাশের দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও আগের চেয়ে ভালো। তারা পাশের দেশে গিয়ে এখন ফর ফর করে ভিনদেশী ভাষা বলে। গর্বে তাদের বুকটা ভরে ওঠে।
দেশের জনসংখ্যা বেশি হবার কারণে আগে অসুখে অনেক লোক মারা যেত। ইদানিং এই হারটা কমছে। তবে কিছু লোক এখনো মরে।তবে যাদের একটু সহরে যাওয়ার টাকা আছে তারা শহরে না গিয়ে পাশের দেশে চলে যা. সর্দি-কাশি হলেও পাশের দেশে চলে যায় । কিছু নিতান্তই গরীব লোক আছে যাদের শহরে যাবার টাকা নাই । তারা আবার প্রাচীন আমলের কবিরাজি, ওঝাতে ফিরে এসেছে। অনেকে না ফিরতে চাইলেও মনের সান্তনার জন্য তাদের কাছে যায়। কারণ ডাক্তাররা থাকে ওই বড় শহরে যেথা মানুষ পায়ে হেটে চলে।
তবে এত কিছুর পরেও লোকজন খুশি। কারন তাদের সবার মনে একটা আশা আছে। সেটা হল তাদের জীবনে একদিন না একদিন বিদেশে যাবার সুযোগ আসবেই। একবার বিদেশে গেলে তারা আর কখনো দেশে ফিরবে না। সবাই তাই করে। তাই তারা ছোট বেলা থেকেই বিদেশী ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা করে এবং তা বহিপ্রকাশ করে। তবে বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন বিশেষ দিনগুলিতে বা অবসর সময়ের খোরাক হিসাবে তারা দেশকে নিয়ে ভাবতে পছন্দ করে।
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

