somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বহুদিন পরে কোন এক দেশে (৩)

১৮ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখাটি বহুদিন পরে কোন এক দেশে এক সাধারন মানুষের ভাবনা

দেশটিতে এক সময় পশ্চিমাদের শাসন ছিলো। তারা এদেশীয় লোকদিগকে ইংরেজীতে পড়া ও কথা বলা শিখিয়েছিলো।প্রথমদিকে না পারিলেও অবাধ্য সন্তানের ন্যায় তারাও এক সময় বাধ্যগত হইয়া ইংরেজীতে দক্ষ হইয়াছিল। কিন্তু দস্যুরা চলিয়া যাওয়ার পরে দেশটি সতমা র সংসারে গিয়া পড়ে। সতমার সংসারে দিকবিদিক হইয়া, কষ্টের ও নির্যাতনের পাহাড় ভেদ করিয়া এক সময় সে মুক্ত হয়। মুক্ত হইয়াই দেশের যাহারা বুদ্ধি বেচিয়া জীবিকা নির্বাহ করিত তাহা কহিল আমাদের ইংরেজি বাদ দিয়া বাংলা ভাষায় সব করিতে হইবে তাহাতে আমাদের গৌরব আরো বৃদ্ধি পাইবে।
তাহারা এক সময়ের গৌরব ধারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে গিয়া আসন গাড়িয়া বসিল এবং কিভাবে নিয়ম কানুন তৈরী করিলে নিজের ১৮ আনা লাভ হয় তার হিসাব কষিয়া নিয়ম কানুন তৈরিতে ব্যস্ত হইয়া পরিল। সদ্য মুক্ত দেশটির খোলা জমিনকে তারা কর্ষণের জন্য উপযুক্ত করিয়া লইল।
দেশের সাধারন মানুষজনের উচ্চ শিক্ষালয়ে কি হইতেছে, কেন হইতেছে, কি হওয়া উচিত আর কেনই বা তা হওয়া উচিত এগুলি লইয়া কোন কালেই মাথা ব্যথা ছিলো না । তাহারা কি ভাষায় কি শিখাইতেছে তাহা লইয়া শাসক গোষ্ঠির মাথা ব্যথা ছিলো না। শাসক গোষ্ঠী শুধু চাহিত উর্বর মস্তিষ্কের কিছু যেন রাজনীতির দুষ্টু বিদ্যা ধারণ করে এবং বাকি বাধ্য ও অবাধ্য উর্বর/অনুর্বর মস্তিষ্ক গুলিকে ভেড়ার পালের মতো পিটাইয়া তাহদের পিছে পিছে চলিতে বাধ্য করে। তাহারা হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো বাঁশি বাজাইবে আর পিছনে ভেড়ার পাল ধিন্কা চিকা সুরে লাফাইতে লাফাইতে চলিবে।
এই জন্য শাসক শ্রেণী শিক্ষক শ্রেনীকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়া রাখিল। তাহারা দেশ-বিদেশে টাকা উপার্জনের জন্য জিজ্ঞাসিব ল্যাবে-ল্যাবে হইয়া দিনাতিপাত করিল। বেশিরভাগ ই সর্বোচ্চ সময় পর্যন্ত দেশের টাকাটি থলেতে জমা করিয়া নিরবে অভাগা দেশটির জন্য আফসোস করিয়া সুখের নীড়ে পাড়ি জমাইল। যাহারা দেশে ফিরিয়া আসিলো তাহাদের বেশিরভাগই শাসক শ্রেনীর আনুকূল্যে থাকার জন্য ব্যাকুল হইয়া জ্ঞানচর্চা বাদ দিয়া দিন রাত শাসক গোষ্ঠির গুন কীর্তন করিয়া দিনাতিপাত করিতে লাগিল।মাঝে মাঝে শাসকেরা বদল হইলে তাহারা কিছুদিনের জন্য শীতনিদ্রা যাইত। কেহ বা এই সময় বিদেশে গিয়া কিছু টাকা-কড়ি উপার্জন করিত। কেহ বা মনের খেদে আক্ষেপ করিয়া মানবতার নামে প্রশ্ন তুলিয়া দেশ জাতির কাছে তুলিয়া ধরিত। যদিও শাসক বদল হইলে তাহারা আবার চুপ করিয়া যাইত।তবে নির্যাতক বা নির্যাতিত যেই দলেই থাক না কেন তাহারা বেসরকারী ডিগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান গুলিতে ভাড়া খাটিতে ভুল করিত না।

এত কিছু রঙ্গ-তামাশার মাঝে ও একটা জিনিসে কোন ব্যতিক্রম হইতো না। সেটা হইতেছে ছাত্রদের জ্ঞানদান। তাহাদের জ্ঞানদান করিত সদ্য সম্মান পাশ কোন স্নাতকোত্তর পড়ুয়া শিক্ষক যে বিদেশ যাবার চেষ্টায় ব্যাকুল দিনাতিপাত করিতেছে। তাহারা তাদের মুখস্থ বিদ্যা দিয়া অভাগা ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝানোর প্রানপন চেষ্টা করিয়া যাইতেছিল।

এভাবে বহুদিন কাটিয়া গেলো। দেশের শাসকরা তাহাদের উত্তরাধিকারীদের হাতে দেশটি শোষনের ক্ষমতা দিয়া অনিচ্ছা অবসর গ্রহণ করিল। কিন্তু শিক্ষক শ্রেনীর জন্য নতুন এক সমসস্যা দেখা দিল। পশ্চিমের হাভাতা জ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই মরুর দেশে, পাম তেলের দেশে বিশ্ব-বিদ্যালয় খুলিয়া শিক্ষাব্যবসা শুরু করিয়াছিল।এদেশের শিক্ষকেরাও সেখানে গিয়া মাঝে মাঝে টাকা কড়ি লইয়া আসিত। কিন্তু হটাত সেই ব্যবসায়ী গুলির চোখ পড়িলো তাহাদের এই খেলার মাঠে। তাহারা দলে দলে আসিয়া নতুন বিশ্ব-বিদ্যালয় খুলিয়া বসিলো। সেখানে আনিল দেশ বিদেশের জ্ঞানীদের। দিলো উন্নত দেশের নামে আধুনিক ডিগ্রী। দেশের লোকজন ও হুমড়ি খাইয়া সেখান হইতে ডিগ্রী নেয়া শুরু করিল। তাহারা প্রায় জন সমুক্ষেই দেশের লোকজনের টাকা গুলি শুষিয়া নিয়া যাইতে লাগিলো।আর
দেশের জ্ঞানী শিক্ষক শ্রেণী হায় হায় বলিয়া কপাল চাপড়াইতে লাগিলো। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হইয়াছে।

এখন আর দেশের মানুষ জনকে শিক্ষা নিয়ে এত চিন্তা করিতে হয় না। সরকারকেও আর নতুন শিক্ষালয় বানাইতে হয় না। শিক্ষকগণকে আর অনেক শিক্ষার্থীর বোঝা সইতে হয় না। তাই তাদের আজ অনেক সময়। তাই তারা ইদানিং অন্ধকারাচ্ছন্ন আফ্রিকায় আলো বিতরণে গমন করেন।

(চলবে)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×