somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিভাবে অস্বীকার করবো এ দায়বদ্ধতা !

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কাল থেকেই ভাবছি কিছু লিখবো তবে কি নিয়ে লিখবে তা ঠিক করতে পারছিলাম না দিধা দ্বন্দের মধ্যে ছিলাম কি নিয়ে লিখবো বিজয়ের মাস তাই ভাবছিলম আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বা আমাদের বিজয় নিয়ে কিছুলিখবো কিন্ত কেন জানি এখন আর মুক্তিযুদ্ধ , স্বাধীনতা , বিজয় নিয়ে লিখতে বা কিছু বলতে মোটে ও রুচি পাইনা বা ইচ্ছে হয়না । কারন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতা আমাদের বিজয় আজ শুধু মাত্র কিছু ব্যক্তি বা গোষ্টি বিশেষের জন্য আর ঐ ব্যক্তি বা গোষ্টি বিশেষ ই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতা আমাদের বিজয়ের ফল ভোগ করছে আর আমারা আপমর জনসাধারন হলাম ছাগীর তিন বাচ্চার তৃতীয় টা যে শুধু মায়ের দুধ না খেয়েই লাফায় । তাই আপাতঃ দৃষ্টিতে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতা আমাদের বিজয় নিয়ে কিছু লিখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিনা । আজ ৯ই ডিসেম্বর আমাদের দেশ ও জাতীর জন্য একটা কলংক ও ঘৃনাময় দিন আজ । আজ বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বার্ষিকী। ২০১২ বর্তমান ২০ দলীয় জোট তৎকালী ১৮দলীয় জোট সরকারবিরোধী অবরোধ কর্মসূচির ঘোষনা দেয়। এই কমর্সূচীর সমর্থনে সকাল ৯টার দিকে পুরোনো ঢাকা জজ কোর্ট থেকে বিএনপি-জামত সমর্থিত ১৮দলীয় জোটর সরকারবিরোধী আইনজীবীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে গেলে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায়। আক্রান্ত আইনজীবীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া খেয়ে পথচারী বিশ্বজিৎ দৌড়ে প্রথমে নিকটস্থ ভবনের দোতলায় অবস্থিত একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে আশ্রয় গ্রহণ করে। ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতা কর্মীরা ঐখানে ই বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায়। নির্বিচার কিল-ঘুষি-লাথি চালানো হয়। তার গায়ে লোহর রড ও ধারালো অশ্র দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়। আহত বিশ্বজিৎ প্রাণ বাঁচাতে পাশের আরেকটি ভবনে ঢুকে পড়ে। পশ্চাদ্ধাবন করে সেখানেও বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। ৮-১২ জনের একটি মৃত্যুকামী দল তাকে আঘাত করতে থাকে, পেটানো হয় সবল লৌহ শলাকা দিয়ে এবং চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হতে থাকে। তার কাপড় ছিঁড়ে যায়, সারা শরীরে রক্তের বন্যা বয়ে যায়। সে আবার পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আঘাত অব্যাহত থাকে। সে এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পথচারীদের কয়েকজন বিশ্বজিৎকে পাশের ন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের কর্মীরা বাধা দেয়। প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় উঠে দৌড় দেয়; কিন্তু শাঁখারীবাজারের একটি গলিতে গিয়ে ঢলে পড়ে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় এক রিকশাওয়ালা তাকে নিকটস্থ মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। অচিরেই মৃত্যু এসে তাকে সকল আক্রমণের ঊর্দ্ধে নিয়ে যায় । সেদিন প্রকাশ্য-দিবালোকে শত শত মানুষ ও আইনরক্ষা বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় পঁচিশ বৎসর বর্ষীয় সাধার দর্জিপেশার যুবক বিশ্বজিৎকে জাতির বিবেক সেদিন খুব মজা করে উপভোগ করেছিল বিশ্বজিৎ হত্যার এই লোমহর্ষক দৃশ্য । এমনি আরো একটি লোমহর্ষক দৃশ্য আমাদের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের উছিলায় আমরা সরাসরি উপভোগ করেছিলাম ২০০৬ সালের ২৮ অক্টেবর পল্টন মোড়ে বর্তমান প্রধান মন্ত্রী তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার নির্দেশে তার ই জোটের নেতা কর্মীরা কতই না উল্লাস করে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে জামায়াত শিবিরের ১২ জন নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে । আইন নিজের হাতে তুলের অধিকার বা ক্ষমতা কারো আছে কি না সে টা আমার জানা নেই তবে একজন সুস্হ মস্তিকের মানুষ হিসেবে যতটুকু জানি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার বা ক্ষমতা কারো ই নেই । তবে বর্তমান সরকারের আমলে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের হাতে দেশের আইন আজ বোধ হয় বন্দি তা বুঝতে হয়তো দেশ বাসীর আর বাকীনেই অবশ্য ছাত্রলীগের নেতারা ও তাই বলছেন আজ সমগ্র দেশের শিক্ষাব্যবস্হ্যা ছাত্রলীগ দ্বারা যেখানে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে প্রতি টি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত ঠিক সেই মুহুর্তে গত কাল চট্রগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ছাত্রলীগের সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক- সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেছেন প্রাধান মন্ত্রীর সাথে তাদের সম্পর্ক অর্থাৎ ছাত্রলীগের সম্পর্ক ঠিক রাখতে আইন কে তাদের নিজের হাতে অর্থাৎ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের হাতে তুলে নিতে । ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক- সিদ্দিকী নাজমুল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী আমরা ধরে নিতে পারি দেশে আইন বলতে কিছু ই না আথবা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ।প্রশংগত আমি বলতে চাই বাংলাদেশের মাটিতে জামাত-শিবিরের কথাবলার তথা রাজনীতি করার কোন মৌলিক অধিকার নেই কোন ভাবেই সুস্হ্য বিবেক আমাদের স্বাধীন দেশে জামাত-শিবিরের রাজনীতি করার তাদের দোষরদের মাথা উচূ করে কথা বলা সহ্য করতে পরবে বলে মনে হয় না কিন্তু বাস্তব সত্য হলো আমাদের ক্ষমতা লোভী প্রত্যেক শাষক গোষ্টী ই ক্ষমতার আসনে উঠার সিরি হিসেবে ব্যব হার করছে জামাত-শিবির নামক হিংস্র এই গোষ্ঠি কে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে এই হিংস্র গোষ্ঠি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে তাদের আর সেই সুযোগে জামাত-শিবির নামক হিংস্র এই গোষ্ঠি ফুলে ফেপে জাতির জন্য বিষফোড়ায় পরিনত হয়েছে যার খেসারত দিতে হচ্ছে আজ সমগ্র বাংগালী জাতিকে । আর যে ই যা বলুন না কেন জামাত-শিবিরকে রাজনীতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা দায় কেউ এড়াতে পারবে না । যে মনটি পারবেন না আপনারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টেবর পল্টন মোড়ের ১২ জন হত্যার দায় কি করেই বা দায় এড়াবেন বিশ্বজিৎ দাস হত্যার ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×