somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরাতন খবরের নতুন শিরোনাম !

১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে ধারাবাহিক ভাবে একই কায়দায় খুন হতে হচ্ছে লেখক , প্রকাশ ও ব্লগারদের । এসব খুনের পর পর ই কোন না কোন ইসলামিক উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠ এর স্বীকার করে নিয়েচ্ছে । এ ধারা যদি ও অনেক আগে থেকে ই আমাদের দেশে জন্ম নিয়েছিল তবে ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমী প্রাংগনে মুক্তচিন্তার লেখক ড. হুমায়ুন আজাদের উপর হামলার মধ্যদিয়ে এটা একটি ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে ড. হুমায়ুন আজাদের উপর হামলার দ্বায় তখন ইসলামি উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠ জমিয়াতুল মুজাহেদীনের সন্ত্রাসবাদীরা স্বীকার করে নিয়েছিল । এর পর বেশ কয়েক জন লেখক ও ব্লগারের উপর হামলা হলে ও সবচেয়ে বেশি সমালোচনা শুরু হয় ২০১৩ সালে ব্লগার রাজীব হায়দার শোভনের হত্যার মধ্যদিয়ে । রাজীব হায়দার শোভন হত্যার পর ই হত্যাকারীরা কেন জানি আরো উৎসাহি হয়ে উঠে নতুন নতুন ঘটনা ঘটানোর জন্য । অবশ্য রাজীব হত্যার পর সবাই ভেবেছিল হয়তো এ ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না । তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সহ ক্ষমতাশীনেরা তখন রাজীবের জন্য কতই না মায়া কান্না করেছেন কেউ কেউ রাজীব কে জাতিয় বীর হিসেবে ও আক্ষায়িত করেছিলেন । কিছু দিন না যেতেই প্রেক্ষাপট সম্পুর্ন পাল্টে যায় । ৫ মে ২০১৩ এর জামাত-ই ইসলামের ছায়া সংগঠন হেফাজত-ই- ইসলাম নামক তথাকথিত ইসলামিক সংগঠনের তান্ডবের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয় সরকার ও তার প্রশাসন । এর পর থেকেই সরকার ও প্রশাসনের মায়া মমতা ও দরদ কমতে থাকে একাত্তরের মানবতা বিরোধীদে বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমা আসা সমস্ত যুব সমাজ তথা গনজাগরন আন্দোলনে শরিক হওয়া দেশের মানুষের উপর । এমন কি হেফাজত-ই-ইসলামের দেয়া তালিকা থেকে লেখক ও ব্লগারদের গ্রেফতার শুরু করতে দেখা যায় সরকার কে । এতেই উৎসাহিত হয়ে নানা নামের ইসলামিক উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠ হেফাজত-ই-ইসলামের দেয়া তালিকা ধরে ব্লগার ও অনলাইন এ্যাকটিভিষ্টদের হত্যার উল্লাসে মেতে উঠে । এর ই ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল বুধ বার রাতে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের একরামপুর মোড়ে উগ্রবাদিদের চাপাতি ও বুলেটে খুন হতে হয় অনলাইন এ্যাকটিভিষ্ট নাজিমুদ্দিন সামাদকে । নাজিমুদ্দিন সামাদ ছিল একাত্তরের মানবতা বিরোধীদের বিচারে পক্ষের সৈনিক ও গণজাগরণ আন্দোলনের কর্মী ।জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী বেসরকারি সংস্থা সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপের তথ্যমতে নাজিমুদ্দিন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে নেয় আনসার আল ইসলাম নামে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী । এ ধরনের প্রতিটি হত্যাকান্ডের পর পর ই আমাদের দেশের কর্তাব্যাক্তিদের কাছ থেকে নানা ধরনের বক্তব্য ও মন্তব্য শোনা যায় ।

নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার পর ও এর ব্যতিক্রম হয় নি । বিবিসি বাংলার সাথে নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আলাপ কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন "কেন এটা হয়েছে, কি হয়েছে, এখনই তা বলতে পারবো না। আগে জেনে নেই।" তবে একই সাথে মন্ত্রী বলেন, "ব্লগে আপত্তিজনক লেখা লিখেছে কিনা তা দেখার প্রয়োজন আছে "। আপত্তিকর লেখা লিখলেই কি হত্যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে ? এই প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। "আমি সে কথা বলতে চাইনি...আগের যে হত্যাকাণ্ড গুলো হয়েছে তাদের ব্লগ যদি দেখেন, এভাবে মানুষের ধর্মে আঘাত দেওয়া, বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া, পৃথিবীর কোনো দেশেই তা গ্রহণযোগ্য নয় "। অবশ্য এর আগে ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট পুলিশ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক ব্লগারদের সীমা লংঘন না করতে বলেছিলে । তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এবারের এমন বক্তব্য আমাকে চরম ভাবে মনক্ষুন্ন করেছে যে খানে মাননীয় মন্ত্রীর প্রসাশনকে বলার কথা যে কারা খুনি তাদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে যতদ্রুত সম্ভব খুনিদের আইনের আওতায় আনা সেখানে তিনি তা না বলে নাজিমুদ্দিন কোথায় কি লিখেছে সে ব্যাপারে প্রসাশনকে খোঁজ নিতে বলেছেন । একজন মানুষ যে কারনেই খুন হউক না কেন খুন হয়েছে এটাই বড় কথা আর যারা খুন করেছে অর্থাৎ অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এটাই রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য ।আমাদের দেশের বেলায় কেন জানি সব কিছুতেই উল্টো একের পর এক ধর্ষিত হচ্ছে আমাদের কোন না কোন নারী অথচ আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র ধর্ষকের বিচার না করে ধর্ষিতার পোষাকের সমালোচনা করে ধর্ষিত নারীকে আরো কয়েক বার ধর্ষন করে দেয় ।

যদি কোন ব্যক্তি ধর্ম নিয়ে কোন উস্কানিমূলক লেখা লিখে তার জন্য তাকে কি ধর্মীয় উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠ তকে খুন করে ফেলবে ? তাহলে দেশে আর আইনের শাসন বলতে বাকী কি ই বা রহিল ? লেখক , প্রকাশ ও ব্লগারদের খুনের বিচারে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের ভিতরে কেন জানি একটি চরম উদাসীন ভাবদেখা যায় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যার সাথে সাথে ই চাপাতিসহ হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে তা ও আবার পুলিশের হাতে নয় নিতান্ত সাধারণ দুজন মানুষ, হিজড়া নাম দিয়ে সমাজ যাদের অপাংক্তেয় করে রেখেছে, তারা জীবন বাজি রেখে আটক করেছিল খুনিদের সেদিন জনগন নিজেদের হাতে আইন তুলে নেয়নি খুনিদের তুলেদিয়েছিল আইন প্রয়োগকারী সংস্হার লোকদের হাতেই । তার পর ও ভেবে ছিলাম আইন সুষ্ঠ গতিতে চলবে ঘটনার মূলে থাকা জঙ্গিরা ধরা পরবে কিন্তু তা আর বাস্তবে হয় নি । মূল অপরাধীরা আজো স্লিপার সেলেই আছে দিন দিন ওরা অর্থ ও শক্তি জুগিয়ে নতুন ডাল পালার বিস্তার করছে । হয়তো ক্ষমতার জন্যই আমাদের সরকার তথা বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্র আজো ও ঘুমিয়েই আছে । এই ঘুম যদি আরো একটু দীর্ঘায়িত হয় তবে সেদিন আর বেশি দূরে নয় মৌলবাদীদের সেই স্লোগান ই বাস্তবায়িত হবে " আমরা হবো তালেবান দেশ বানাবো আফগান " । তবে আমরা চাইবো না মহান মুক্তিযুদ্ধের বিনীময় অর্জিত আমাদের স্বাধীন দেশে উগ্রধর্মীয় মৌলবাদ মাথা গজিয়ে উঠুক আমাদের ভবিষ্যৎ পরিনতি কখনো ই আফগান বা পাকিস্হানের মত হউক । মুক্তচিন্তা মুক্ত মত চিরজীবি হউক বাংলাদেশে এটাই প্রত্যাশা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ২:১৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি কে? রাজাকার!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০১



ভারতে দেশপ্রেমের সজ্ঞা কী? ভারতে একজন কট্টরপন্থীর দেশপ্রেম হলো প্রথমত পাকিস্তান বিরোধী হতেই হবে। দ্বিতীয়ত মুসলিম বিরোধী হতেই হবে। এই দুই ছাড়া কোনভাবেই সে ভারতকে ধারণ করেনা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে আগামীকাল ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×