somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবুজ পাহাড়ে কান্না

০৭ ই জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ একটি রাষ্ট্র । ১৯৭১ এর তলাবিহীন ঝুড়ির সেই রাষ্ট্র কিছু কিছু বার্তি খাদ্য বিদেশে রপ্তানি ও করছে । যা বঙ্গবন্ধু কণ্যা বর্তমান আমাদের প্রধানমন্ত্রী ই কৃতিত্ব এ জন্য তাকে ধন্যবাদ না দেয়ার কোন ই উপায় নেই । থানচির বর্তমান অবস্হা আমাদের সেই অর্জনকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে । থানচি বান্দরবানের আদিবাসী অধ্যুষিত একটি উপজেলা রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দূরের আদিবাসী অধ্যুষিত জনপদের মানুষগুলির জীবন জীবিকার মূল উৎসই পাহাড়ে জুম চাষ ৷ এই জুমিয়া মানুষ গুলির ভাগ্য পুরোটাই প্রকৃতি নির্ভর । আবহাওয়া ভাল হলে জুম চাষে ফলন ভাল হয় তাতে হয়তো বছরের খোরাক ঘড়ে তুলতে পারে অনেক জুম্ম পরিবার ।যদি আবহাওয়া একটু পল্টি মারে জুম্ম মানুষ গুলির সাথে তাহলে তাদের ভাগ্যে কি জুটে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । এবার আবহাওয়া বৈরি আচরন জুম্ম মানুষ গুলিকে চরম বিপাকে ফেলেছে বিশেষ করে দূর্গম থানচির মানুষগুলিকে । অতিবর্ষণের কারণে এবার জুমচাষীরা যতসামান্য ফসল নিয়ে ঘড়ে ফিরেছে গত বছরের জমানো খাদ্য শষ্য ও শেষ৷৷ এ কারণে ই থানচির প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখন চরম খাদ্যসংকটে তারা আজ বুনো লতাপাতা আর বুনো আলু খেয়ে বেঁচে আছেন । যাদের ঘড়ে ও কিছু খাদ্য মওজুদ ছিল তা ই আশে পাশের অনাহারি মানুষ গুলিকে বাঁচানোর জন্য ধার হিসেবে বিতর করে দিয়ে তারা ও খাদ্যাভাবে পরেছে ।

থানচির বর্তমান পরিস্থিতিকে যদিও দুর্ভিক্ষ বলতে চাইনা, তবে সরকার যদি আতি দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ না নেয় পরিস্থিতি সেদিকেই যাওয়ার সম্ভবনা বেশি ।জুম্ম মানুষ গুলি যেহেতু জুমচাষের উপর ই নির্ভরশীল তাই সরকারকে আগামী জুম ফসল ঘরে ওঠার আগ পর্যন্ত অন্তত্য মাস সাতেক এই পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা অবশ্যই দিতে হবে তার আগে বর্তমান পরস্হিতি মোকাবেলার জন্য জরুরীভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে । প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে বান্দরবানের থানচি, রুমা, রাঙামাটির সাজেক, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি উপজেলায় একই কারণে খাদ্য সংকট দেখা দেয়৷ তখন মে থেকে অক্টোবর এই ছয় মাসের জন্য সাড়ে ছয় হাজার পরিবারকে একটি প্যাকেজের আওতায় খাদ্য সাহায্য দেয়া হয়৷ প্রতি মাসে পরিবার প্রতি ৫০ কেজি চাল, নগদ ১২শ’ টাকা, ৩ লিটার ভোজ্য তেল, গর্ভবতী মায়েদের জন্য ৬ কেজি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য এবং জুমের বীজ কেনার জন্য পরিবার প্রতি এককালীন দুই হাজার টাকা করে দেয়া হয়৷তখন সরকারের পাশাপশি বিভিন্ন এনজিও এগিয়ে এলেও এবার এনজিওদের কোনো সাড়া নেই দুর্গত এলাকায় ৷

বঙ্গবন্ধু কণ্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেই বলছি আপনার বলিষ্ট নেতৃতে বাংলাদেশ আজ অনেক এগিয়ে গেছে খাদ্যে ও স্বয়ংসম্পুর্ণ হয়েছে । আপনি প্রথম সেই ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভার গ্রহন করেই ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি মাধ্যমে আমাদের সবুজ পাহাড়ে শান্তির ছোয়া এনেছেন । পাহারে আজ আর রক্ত স্রোত প্রবাহ হয় না । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ থানচির মানুষগুলির ঘড়ে খাদ্য নেই তারা খাদ্য চায় । আমরা চাইনা খাদ্যাভে থানচির একটি মানুষের ও জীবননাশ হউক । থানচির মানুষ ও বাঁচতে চায় । থানচির আমাদের স্বাধীন বাংলাদের ই একটি অংশ তাই আমাদের পাহাড়ে বসবাসরত জুম্ম মানুষ গুলি দুবেলা দুমুঠো খেয়ে শান্তিতে জীবন ধারন করুক এটাই প্রত্যাশ ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×