somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপারেশন স্টর্ম-২৬ : জঙ্গিবাদ দমনে নতুন উদাহরণ

২৭ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সফল অভিযান আমাদের মত সাধারন মানুষকে কিছুটা হলে ও আশার আলো দেখিয়েছে আমারা সাধারন মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্ত্বি ফিরে পেয়েছি । জঙ্গিরা বড় ধরনের কোন অঘটন ঘটানোর আগেই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন একটি অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের একটি আস্তানা গুড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে । নয় জঙ্গিকে হত্যা ও এক জঙ্গিকে আহত আবস্হায় গ্রেফতার করতে ও সক্ষম হয়েছে তারা ।এই জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্যই প্রসংশার প্রাপ্য । তাদের ধন্যবাদ না জানানোর কোন উপায় নেই । তবে যদি অধিকাংশ জঙ্গিকে জীবিত ধরা যেত তাহলে জঙ্গিদের মূল উৎসে পৌঁছা আরো সহজ হতো আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর । তবে আশা করবো রাকিবুল হাসান ওরফে রিগেন নামের যে জঙ্গিকে আহত আবস্হায় গ্রেফতার করা গেছে তাকে বাঁচিয়ে রেখে তার কাছ থেকে সঠিক তথ্য নিয়ে জঙ্গিবাদে মূলে পৌঁছতে সক্ষম হবেন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ।

গুলশান হামলায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যে ভাবে হতাহত হয়েছে তা আমাদের গভীর ভাবে ব্যথিত করেছে সেই সাথে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ও উঠেছে । সৃষ্টি কর্তার অশেষ মেহেরবানি কল্যাণপুরের অভিযানে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন সদস্য হতাহত হয়নি । এটা যেমন আমাদের জন্য একটি সু সংবাদ তেমনি জঙ্গি দমনে সক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আছে তা ও প্রমানিত হয়েছে ।

কল্যাণপুরের এই অভিযানে আবার আমাদের বিশেষ ভাবে চিন্তিত ও করেছে ।পুলিশের ভাষ্যমতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলা অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার অর্থাৎ ২৫ জুলাই রাত ১২টার দিকে পুলিশ জাহাজ বিল্ডিং নামের ওই ছয়তলা বাড়িতে যায়। তিনতলা পর্যন্ত ওঠার পর ওপর থেকে দুজন ‘আল্লাহু আকবর’ বলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও বিস্ফোরক দ্রব্য ছোড়ে। এর পর জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে পাল্টা আক্রমনে নামে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ।সারা রাত ভর মুহুর্মুহু গুলি বিনিময় হয় জঙ্গিদের সাথে এতে ৯ জন নিহত, একজন আহত আবস্হায় গ্রেফতার আর একজন পালিয়েছে।উদ্ধার করা হয়েছে ১২টি গ্রেনেড, ৪টি পিস্তল, ১টি তলোয়ার, ১টি দা, চাইনিজ চাকু ৩টি, ছোট ছুরি ৭টি, ২২ রাউন্ড গুলি, ৪/৫ কেজি বিস্ফোরক।স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন আসে হাজার খানেক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (পুলিশ-র‌্যাব-সোয়াত-গোয়েন্দা) অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে এগার জন জঙ্গির ১২টি গ্রেনেড, ৪টি পিস্তলের সাথে সারা রাত ভর তাদের গোলা গুলি করতে হলো ? আমরা চিন্তিত আমাদের দেশের ভিতরে থাকা জঙ্গিদের প্রশিক্ষন ও শক্তি নিয়ে ।সত্যিকারে ই কি এ সব জঙ্গিরা এতটা শক্তি শালী না কি আমরা তাদের শক্তিবান হিসেবে উপস্হাপনের চেষ্টা করছি ?

আমাদের দেশে আর্ন্তজাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস বা আল-কায়েদার উপস্হিতিতী আছে কি নেই এ নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিতর্ক চলে আসছে ।এধরনের প্রতিটি হামলার পর পর ই আইএস বা আল-কায়েদা হামলার দায় স্বীকার করে নিচ্ছে । আমাদের সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা বরাবর ই এধরনের দাবীকে অস্বীকার করে আসছে । তারা বরাবরই বলে আসছে এ গুলি আমাদের দেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠির ই কাজ ।কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পর আমাদের পুলিশের আইজি মহোদয় ঘটনাস্থল পরির্দশন করার পর বলেন, তারা ধারণা করছেন যে তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি গ্রুপ জামায়াতুল মুজাহিদীন বা জেএমবি'র সদস্য। অথচ কল্যাণপুরের অভিযানের পর পুলিশের বিতরণ করা ছবিতে দেখা যায় নিহত যুবকদের ফ্ল্যাটে অস্ত্র, কালো পোশাক, লাল-সাদা রঙের আরবি শিরস্ত্রাণ 'কেফিয়া' ইত্যাদি সহ ইসলামিক স্টেট বা আইএসের পতাকা ও ছিল।এমন কি হামলার সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে জঙ্গিরা তাদের আইএস সদস্য বলে চিৎকার করে পরিচয় ও নাকি দিয়েছে । আমাদের আইজিপি মহোদয় পোশাক দেখেই ধারনা করেছেন যে কল্যাণপুরের জঙ্গিদের সাথে গুলশান হামলার জঙ্গিদের মিল আছে । অথচ কল্যাণপুরের অভিযানের পর পুলিশের বিতরণ করা ছবিতে দেখা যায় নিহত জঙ্গিরা সবাই কালো পাঞ্জাবি পরিহিত আর গুলশান হামলার জঙ্গিরা ছিল জিনস এবং টি-শার্ট পরিহিত। স্বাভাবিক ভাবেই বলা যায় পোশাক দেখে জঙ্গিদের সম্পর্কের ধরনা পোষন করে বিতর্ক তৈরি না করাটাই বোধ হয় উত্তম ছিল ? তারা আইএস না জেএমবি এ বিতর্কে যাওয়ার সময় এখন নয় আমাদের কাছে এদের বড় পরিচয় এরা জঙ্গি এরা আমাদের দেশ জাতি তথা মানবতার শত্রু । তাই এখনো সময় আছে আমাদের দল মত ধর্ম নির্বিশেষে সবাই কে মানবতাবাদী হয়ে দেশের স্বার্থে ,দেশের মানুষের স্বার্থে ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে যার যার অবস্হান থেকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে দাড়াতে হবে । তা না হলে আমাদের আস্তিত্ব বিলীন হতে সময় হয়তো আর বেশি দিন লাগবে না ।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিরবিদায়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শায়িত ডা. খায়রুল ইসলাম – Regional Director for South Asian Countries, WaterAid UK

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৪




২০ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে সকালে উঠতেও দেরি। আগের দিন দুপুরে বিদ্যুৎ এক ঘণ্টার জন্য চলে যাবার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×