somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গরীবের চাউল নিয়ে এ কেমন চালবাজি ?

১১ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি ! রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের " দুই বিঘা জমি " কবিতার এই অংশটি হয়তো অজানা তেমন কেউ নেই । সেই অনেক পুরোনো যুগ থেকেই সমাজের বিত্তাশালী ধনাঢ্যরা গরীবের অধিকার নিয়ে ছিনিমিন খেলে আসছে । ধনাঢ্যতে অঢেল সম্পত্তির মাঝে ও গরীবের ঐ সামান্যটুকুর লোভী দৃষ্টি থেকেই যায় । ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার আমাদের রাজনীতির ময়দান সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তখন সরকারের একটি বিষয় নিয়ে বিশেষ রাজনীতি শুরু হয়েছিল তা হলো ১০ টাকা কেজি দরে চাউল । তৎকালীন সময় টাঙ্গাইলসহ দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় নির্বাচনী জনসভায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন তিনি তথা তার জোট ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষকে দশ টাকা কেজি দরে চাউল খাওয়াবেন।এটা যদিও তৎকালীন আওয়ামী জোটের নির্বাচনী ইশতেহারে কোনো সুষ্পষ্ট বক্তব্য ছিল না তার পর ও এ নিয়ে সরকার বিরোধীদের সমালোচনার কমতি ছিল না । অবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখের সেই কথাই বাস্তবায়ন হয়েছে ।

বর্তমান সরকারের " খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি " এর আওতায় ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ১০ টাকা কেজি দরে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে চাউল বিতরণ। সারাদেশের ৫০ লক্ষ হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাউল পৌছে দেয়ার লক্ষেই ঐ দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামের চিলমারিতে গিয়ে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন । অথচ এই কর্মসূচী নিয়ে আভিযোগ অনুযোগ আর দূর্নীতির যে কোন ই কমতি নেয় । কলেজ শিক্ষক থেকে শুরু করে জামাত নেতা কে পায়নি হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরে চাউল ক্রয়ের কার্ড ? স্হানীয় আওয়ামী লিগ নেতাদের কথা তো নায় বাদ ই দিলাম ।তবে আমি চাইলেই কি স্হানীয় আওয়ামী লিগ নেতাদের নাম বাদ যাবে ? না কখোন ই না পত্রিকার খবরে জানাযায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রের তালিকায় আওয়ামী লীগ নেতারও নাম আছে। শুধু ওই নেতাই নন, তা পরিবারের সবার নামেই হতদরিদ্রের কার্ড ইস্যুকরা হয়েছে । হতদরিদ্রের কার্ড আছে রানীশংকৈল উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা প্রভাষক সফিকুল আলমের নামও যার কার্ড নং-১০০৮। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। মোহাম্মদপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, তার স্ত্রী দিলু আরা (কার্ড নং-১৬২), তার ৪ ভাই-রবিউল ইসলাম (কার্ড নং-১৪১), রেজাউল করিম (কার্ড নং-১৫৩), আখতার আলম (কার্ড নং-১৫৬), হোসেন আলী (কার্ড নং-১৬৩)।

যশোরের কেশবপুরে তো অনিয়মের অভিযোগে হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরের চাউল বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করে পুনরায় চাউল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ রায়হান কবিরের ভাষ্যমতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে সমাজের অনেক বিত্তবানের নামে কার্ড দেয়া হয়েছে। জয়পুরহাট সদরের ভাদসা ও পাঁচবিবি উপজেলায় বঞ্চিতরা অনিয়মের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে বধ্য হয়েছেন । অল্প মূল্যের সরকারি চাউলের কার্ড পাইয়ে দেবার কথা বলে কোথাও কোথাও স্থানীয় কিছু মেম্বার-চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে উঠেছে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ ও। আর হর হামেসাই সংবাদ মাধ্যমের সংবাদ হচ্ছে হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরের চাউল বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ দেশের মানুষের সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা কিছুটা হলে ও পূরনে স্বার্থক হয়েছেন । তাই তার ওয়াদার কর্যকারীতা নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই । এই জন্য তিনি অবশ্যই অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য ।তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওয়াদকে বরখেলাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তার দল সহ তাদের জোটের ই কিছু নেতা কর্মী ও তাদের আশ্রয়ে থাকা এক শ্রেনীর অসাধু সিন্ডিকেট । যারা নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগ কে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করে পুরো কর্মসূচীকে ই কলংকিত করার পায়তারায় লিপ্ত । বর্তমান সরকার প্রদত্ত ১০ টাকা কেজি দরের চাউল অবশ্যই দরিদ্র মানুষের জীবনে এক নতুন স্বস্তির জন্ম দিয়েছে । এতে অবশ্যই দেশের হতদরিদ্র মানুষেরা পেট ভরে ভাত খাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন । কিন্তু সমাজের কিছু বিবেকবর্জিত মানুষ যখন তাদের স্বপ্নকে শুধু স্বপ্নেই রাখার যে পায়তার করছে তাদের ধ্বিকার জানানোর ভাষা ও আমাদের জানা নেই । প্রশাসন সহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে একটাই আবেদন থাকবে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা এ দেশের হতদরিদ্র মানুষদের পেট ভরে ভাত খাওয়ার যে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চলছে তা আপনাদের সহযোগিতায় ই সুষ্ঠভাবে এগিয়ে যাবে ।

লেখক : কলামিস্ট
ফেইস বুক : http://www.facebook.com/heavendhaka
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১:৫৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×