somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাইকোর্টের সামনের ভাস্কর্যটি ন্যায়বিচারের ই প্রতীক

০৯ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাস্কর্য শিল্পকলায় পৃথিবীর আদিমতম একটি অধ্যায় । আদিম যুগ থেকেই শিল্পকর্মের পিপাসুদের অনেকেই এই ভাস্কর্য শিল্পের সাথে জড়িত ছিল আজ ও আছে । মাঝে মাঝে ই আমাদের দেশে বিভিন্ন ভাস্কর্য নিয়ে নানা ধরনের বিতর্কের জন্ম হয় যা পরবর্তীতে যা তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আন্দোলনে পরিনত করার চেষ্ঠা করে দেশের কিছু ইসলাম পন্থি রাজনৈতিক দল , সংগঠন ও ব্যক্তি । সম্প্রতি আমাদের সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের সামনের চত্বরে একটি ভাস্কর্য নিয়ে তেমন কিছু বির্তকের জন্ম দেয়ার পায়তারা করে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের চেস্টা করছে হেফাজতে ইসলাম সহ বেশ কিছু ইসলাম পন্থি রাজনৈতিক দল । সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে স্হাপিত ভাস্কর্য টি সম্পর্কে হেফাজতে ইসলাম সহ বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দল গুলির দাবি সেখান থেকে " গ্রিক দেবীর মুর্তি " অপসারন করতে হবে ।



প্রথমেই একটু পরিস্কার হওয়া দরকার মুর্তি ও ভাস্কার্যের মধ্যে আর্দশিক পার্থক্য । ভাস্কর্যের মাধ্যমে একটি গোত্র বর্ণ জাতি বা রাষ্ট্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় । আর স্বাভাবিক ভাবে আমরা মুর্তি বলতে বুঝি কোন ধর্মের দেব দেবীর প্রতিচ্ছবি কে যাকে ধর্মীয় স্বার্থে বা ধর্মীয় বিশ্বাসে পূজা করা হয় । তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে স্হাপিত ভাস্কর্য টি হেফাজতে ইসলাম সহ অন্যান ইসলাম পন্থি রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠিরা মুর্তি বলে ই সাধারন মানুষের মাঝে প্রচার করে আসছে সে ই সাথে যোগ করেছে গ্রিক দেবীর কথা । সত্যিকারে ই কি হেফাজতে ইসলাম সহ অন্যান ইসলামিক দল গুলির দাবি সঠিক ? সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে স্হাপিত ভাস্কর্য টি একটু বর্ননা তাহলে দিতে ই হয় । শাড়ি পড়া মাথায় লম্বা চুলের এক নারী যার চোখ বাধা এক হাতে দাঁড়িপাল্লা, আরেক হাতে তলোয়ার ।এটা আসলেই যে কোন গ্রীক দেবী মুর্তি নয় তার প্রথম প্রমান ই হলো মহিলাটি শাড়ি পড়া কারণ কোন গ্রীক দেবী ই শাড়ি পেননি বা পরবেন ও না শাড়ি সাধারনত বাঙ্গালী নারীর ই পোষাক । লম্বা চুল তা ও সাধারনত বাঙ্গালী নারীর মাথায় ই দেখা যায় বেশি । তাই এটা যে কোন গ্রীক দেবীর মুর্তি না এটা তো সত্য ।ঐ নারী ভাস্কর্য টি চোখা বাধা অর্থাৎ নিরপেক্ষতার প্রতীক আর এক হাতে আছে দাঁড়িপাল্লা, আরেক হাতে তলোয়ার । তার মনে দাঁড়িপাল্লা ন্যায় বিচারের প্রতীক আর তলোয়ার বিচারের সাজা কর্যকরের ই প্রতীক । অনেক মুসলিম রাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা ও কিংবা বিচারের প্রতীক হিসেবে তলোয়ারের ছবি দেখা যায় ।

আমাদের শিল্প সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের দেশের ইসলামিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠির এলার্জি অনেক পুরানো । যে কোন আন্তর্জাতিক বিমান কিংবা আন্তর্জাতিক নৌ বন্দর ই একটি দেশের প্রবেশের সিংহ দ্বার । তাই ঐ সব স্হানে নির্মান করা হয় ষে দেশের শিল্প সাংস্কৃতির নানান প্রতি চিত্র । ফকির লালন শাহ সহ অন্যান বাউলেরা ও ছিলেন আমাদের সাংস্কৃতির ই একটি বড় অংশ । তাই আমাদের ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সমানের রাস্তার চত্বরে স্হাপন করা হয়েছিল " অচিন পাখি " নামের বাউল ভাস্কর্য । এই ভাস্কর্য নিয়ে ও উগ্র ইসলাম ধর্মীয় মৌলবাদীদের পেটের ব্যাথা কম ছিল না । অবশেষে আমরা দেখেছি উগ্র ইসলামিক মৌলবাদী গোষ্ঠিরা কিভাবে উঠে পরে লেগেছিলেন এই ভাস্কর্য টি নিশ্চিন্ন করতে । পরে অবশ্য সরকার ইসলামিক মৌলবাদীদের ভয়ে " অচিন পাখি " নামের বাউল ভাস্কর্য সরাটে বাধ্যে হয়েছিল ।আফগানিস্তানের তালেবানেরা ও ধর্মের দোহায় দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিল বামিয়ান প্রদেশের দেড় হাজার বছরের বছরের পুরনো জোড়া বুদ্ধমূর্তি । এর আগে আমরা ১৯৯২ সালে দেখেছি ভারতের অযোধ্যায় হিন্দু মৌলবাদীদের তান্ডব । প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বাবরি মসজিদ শুধু মাত্র ধর্মীয় উন্মাদনায় মুহুর্তেই সম্পূর্ণরূপে ভূমিসাৎ করে দেয় । বাবরি মসজিদ শুধু মাত্র মুসলামদের একটি মসজিদ ই ছিলনা এটা ভারতের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চিহ্ন ও ছিল বটে ।

ভাস্কর্য শুধু মাত্র ইসলাম ধর্মীয় প্রধান দেশেই নয় বিশ্বের অনেক ইসলামিক রাষ্ট্রে ও দেখা যায় এমন সৌদি আরবের মত ইসলামিক রাষ্ট্র যেখানে শরিয়া আইন চালু আছে সেখানে ও ভাস্কর্য দেখা যায় । গত বছর সৌদি আরবের ৮৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের ২১৬ বর্গমিটার উচ্চতার সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতি উন্মোচন করা হয়েছে যার নির্মাতা ও সৌদি চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ আসিরি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতি হিসেবে সালমানের ছবিটিকে স্বীকৃতি দিতে ইতোমধ্যে গিনেজবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে সৌদি শিক্ষা বিভাগ। এ ছাড়াও ইরান, মিসর, ইরাকের জাদুঘরে অসংখ্য ভাস্কর্য এবং প্রাচীন শাসক ও দেব-দেবীর মহৃর্তি তো রয়েছেই, সেসব দেশে উন্মুক্ত স্থানে রয়েছে অনেক ভাস্কর্য।অথচ আমদের দেশের তথাকথিত ধর্মীয় নেতাদের এই ভাস্কর্য নিয়ে কতনা সমস্যা । বাংলাদেশ একটি মুসলিম জনগোষ্ঠি প্রধান হওয়া সত্যে ও আমারা দুর্নীতিতে কতবার ই না চ্যাম্পিয়ান হলাম । সুদ ঘুষ ধর্ষন খুন ডাকাতি রাহাজানি ছিনতাই জমি দখল কোন অপকর্ম টি না হচ্ছে বাংলাদেশে অথচ যারা ধর্মে বিশ্বাসী তাদের সবার জন্য ই এই ধরনের কাজ গুলি হারাম । অথচ এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখনো ই এই ধরনের সংগঠন বা রাজনৈতক দল টু শব্দ টা পর্যন্ট করে না । অথচ ভাস্কর্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিয়ে তাডের কতই না মাথা ব্যাথা এতে নাকি দেশে ধর্মের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাবে । আসলে সত্য হলো এটাই এই ধরনের উগ্র মৌলবাদী শক্তি কখনো ই আমাদের বাংলাদেশ কে বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতিকে মেনে নিতে পারে নাই । তাই আমাদের জোড় দাবি হলো আমাদের আমাদের ইতিহাস ও ঐতিয্য যেমন আছে তা টিকে রাখার জন্য বিভিন্ন শিল্প কর্ম ও থাকবে ।


সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১২:৫৬
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×