ভিডিও রহস্য - সৈয়দ রাকিব ( এক খন্ডের ক্ষুদ্র গল্প )
যখন ঘুম ভাংল ততক্ষনে ২ ঘন্টা পেড়িয়ে গেছে । চোখ মেলে তো অবাক হওয়ার যোগাড়! এতক্ষনে মাত্র কারওয়ান বাজার আসতে পেরেছে। ঈদের এখনো বেশ কিছুদিন বাকি, ঢাকার রাস্তায় লক্ষ লক্ষ মানুষ। তিল ধারনের জায়গা নেই যেন। একদিকে ভাল হয়েছে পালিয়ে থাকার জন্য এর চেয়ে ভাল পরিবেশ আর হতে পারেনা। চিন্তা করল মনে মনে কমপক্ষে ঈদ এর ২ দিন আগে পর্যন্ত পালিয়ে থাকতে হবে। তাহলেই তাদের জারিজুরি খতম। তার উদ্দেশ্য সফল হবে। তখন এই টেপ অনেকটাই মুল্যহীন। কিন্তু কতদিন পারবে তার ঠিক নেই যে কোন সময় ওদের হাতে ধরা পরে যেতে পারে। এই আশংকা আছে। শক্ত নের্টয়ার্ক তাদের।
থাক ওসব আর ভাবতে মন চাইছেনা। পেটে যেন ইদুর দৌড়াচ্ছে দ্রুত কিছু বিড়াল ছেড়ে দিতে হবে, মানে খাবার দরকার।
স্টার কাবাবের সামনে নেমে গেল সজীব্। কাবাব আর পরটার অর্ডার দিল, খেয়ে দেয়ে যখন বের হল ততক্ষনে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। পান্থপথ ধরে এগিয়ে চলেছে সজীব, মাথায় একটাই চিন্তা গা ঢাকা দিতে হবে, চোখে সতর্ক দৃষ্টি। ঢাকা ছেড়ে পালালেই মনে হয় ভাল হত। কিন্তু না ঢাকাতেই থাকা ভাল। পকেটে টেপগুলো আছে কিনা আরেকবার দেখে নিল, চিন্তা করেছে কালই ব্যাংক এর লকারে রেখে দিতে হবে টেপটি। প্রায় নির্ভেজালেই কিন্তু আতংকে কেটে গেল চারটি দিন, চার দিন তো নয় মনে হল যেন চার বছর! দূর থেকে কাউকে দেখলেই মনে হত তাকে ফলো করছে। সাথে সাথেই সতর্ক হয়ে যায় আরো। নিজেকে কেন যেন অনেক গুরুত্বপুর্ন মনে হচ্ছে সজীবের। আর মাত্র একদিন তারপরেই আর পালিয়ে থাকতে হবেনা...
অন্যদিকে কাল চশমার আস্তানাঃ
সেদিন না তার পরের দিন টের পেয়েছে তারা সজীব পালিয়েছে। পাগলের মত তারা খুজে চলেছে ছেলেটিকে। আতি পাতি করে ফেলেছে সম্ভাব্য পুরো ঢাকা। রাতের আধারে তার বাসায় হানা দিয়েও পাওয়া যায়নি হারানো ভিডিও টেপ বা অন্য কাওকে। মাষ্টার পিস টাই হাতছাড়া...! কোথাও কপিও রেখে যায়নি, ব্যাটা চাল্লু আছে। এই অফিসেই কাজ করত, ভিডিও এডিটিং আর ক্যামেরার অনেক কিছু জানা দক্ষ লোক সজীব। একটি ভিডিও টেপ নিয়ে পালিয়ে গেছে। এই ঈদ কে সামনে রেখে এটার মধ্যে অনেক টাকার ব্যবসা ছিল। মাথা খারাপ হওয়ার যোগার জামান সাহেবের। এখন কি হবে তাই ভাবছে বসে বসে। এত বছর এর ব্যবসা! প্রথম থেকেই সজীব ভাল মত নেয়নি বিষয়টা। কয়েকবার বলেও ছিল তাকে কিন্তু গুরুত্ব দেয়নি কেউ। এও বলে ছিল এটা কোম্পানির ইমেজের সাথে যায়না। পরামর্শ দিয়েছিল আগে কি হয়েছে তা নয়, এখন থেকে এর থেকে বেরিয়ে এলেই তো হয়। সেদিন মুগ্ধ হয়েছিল জামান সাহেব। কিন্তু টাকা এমন জিনিস সব মুগ্ধতা কেড়ে নেয়। এমনিতে সজীব ছেলেটিকে পছন্দ করেন তিনি। ব্রিলিয়ান্ট ছেলে। আর মাত্র তিন ঘন্টা...
না হাল ছেড়ে দিল জামান সাহেব। বিকাল শেষ এর পথে। মোবাইল টা বেজে উঠল জামান সাহেব জানতেন এখুনি ফোন গুলো আসবে... এসে গেছে ফোন।
: টেপ কই তোমার ? আমার হাতে আজ সকালের/দুপুরের মধ্যে আসার কথা ছিল ? আজকের মধ্যে না পেলে আমার আর কিছুই করার থাকবেনা কিন্তু...। ক্ষতি যা হবার তোমারি হবে। তোমার জন্য কিন্তু আমি রিস্ক নিয়েছি, এক নিঃশ্বাসে বলে গেলেন অপঅর প্রান্তের বড় কর্তারা।
: আমতা আমতা করতে লাগল জামান সাহেব , সরি বস এবার হচ্ছেনা... অন্য সমস্যা হয়েছে। অন্য দু একটি কথা বলে ফোনগুলো রাখতে লাগল। কিন্তু ওপাশের মানুষগুলো যে অনেক অসন্তুষ্ট এটা স্পষ্ট বোঝা গেল। ঝিম মেরে রইল জামান সাহেব।
পরদিন সবাইকে অবাক করে সজীব হাজির হল জামান সাহেবের সামনে। কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বলে গেল, স্যার আমাকে ক্ষমা করেন আপনিও জানেন এই বাজে প্রোগ্রাম আমরা টেলিভিশনে দিলে মানুষের ঈদের ছুটিটাই মাটি হয়ে যেত! আর আমাদের হাউসের অনুষ্টান অবশ্যই পিক আওয়ারেই প্রচার হত প্রতিটি চ্যানেলে, এতে অনেক ভাল অনুষ্ঠান হয়ত আটকে যেত। প্লিজ় স্যার আসুন আমরা এই কাতুকাতু আর ভাড়ামি মার্কা অনুষ্ঠান না বানিয়ে ভাল অনুষ্ঠান বানাই আমরা। আমরা জানি আমরা পারবই...।
এই গল্পটি ৯ ই আগষ্ট ২০১২, দৈনিক আমার দেশের রম্য ম্যাগাজিন 'ভিমরুল' এ প্রকাশিত
সাদা নীল জার্সি

গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাইরে এসো
এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।
দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?
"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্পর্শে_ _ _ _ _
-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।