somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ঔপন্যাসিক জিল্লুর রহমান
চোখের সামনে যেকোন অসঙ্গতি মনের মধ্যে দাগ কাটতো, কিশোর মন প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা। তারপর গল্প, উপন্যাস। এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা-২১ টি।

রূপার বিয়ে-০১

২১ শে নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক’দিন থেকে রূপা অসুস্থ বোধ করছে, মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করছে, সবসময় একটা বমি বমি ভাব লেগেই আছে, সে লক্ষ্য করেছে তার শরীরে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তনও শুরু হয়েছে। কাকে বলবে রূপা তার এই অসুস'তার কথা? তার মনে হচ্ছে এটা যেন অন্যরকম অসুস্থতা, অন্যরকম কষ্ট, যার সঙ্গে সে কোনোদিনই পরিচিত না। তবে কি সেদিনের পর থেকে, সেদিন তমালের সঙ্গে-
না, না আর ভাবতে পারছে না রূপা। তবে কি সে তার শরীরে তমালের অস্তিত্ব লালন করছে? সে কি মা হতে চলেছে? তমালের সন্তানের মা!!
কিন্তু তমালের সঙ্গে তো তার বিয়ে হয়নি, তমাল যদি তাকে অস্বীকার করে? খালা আম্মা, খালু যদি অসতী বলে তাকেই দোষারোপ করে? না, আর ভাবতে পারে না রূপা, তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ছে।
আজ সকাল থেকেই রূপা ভাবছে এই কথাটা সে প্রথমে তমালকেই বলবে, কারণ তমালের সঙ্গে মেলামেশা করার কারণেই তার মধ্যে এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। তমাল কলেজ থেকে এসে কাপড় ছাড়লো। রূপা তমালের কাছে কথাগুলো কীভাবে উপস্থাপন করবে সাজিয়ে নিলো তারপর তমালের রুমে ঢুকলো, কী রে কেমন আছিস্‌?
রূপার বুকটা কাঁপছে, তার মুখ শুকিয়ে গেছে, সে শুষ্ক মুখে বললো, আমি ভালো নেই।
কেনো?
আমার শরীরটা খুব খারাপ করছে।
মাকে বলিস্‌নি? ডাক্তার দেখাতো।
কিন্তু আমি ভাবছি কথাটা আগে তোমাকে বলবো।
কেনো?
রূপা তমালের কাছে গেলো। গা ঘেঁষে বসে একটা হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বললো, তমাল চলো আমরা বিয়ে করে ফেলি।
বিয়ে!
হ্যাঁ বিয়ে।
হঠাৎ করে তোর মাথায় আমাকে বিয়ের চিন্তা এলো কেনো? তোর বিয়ের জন্য তো গ্রামের বাড়িতে ছেলে দেখা হয়েছে, তোর বাবা আসছে তোকে নিয়ে যেতে, সেখানে তোর বিয়ে হবে।
রূপা যেন আকাশ থেকে পড়লো। তার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো, দু’চোখ অন্ধকার হয়ে এলো। মুহূর্তেই তার কণ্ঠস্বর শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলো, কিন্তু তুমি যে বলেছিলে আমাকে বিয়ে করবে?
ও তুই সেকথা ধরে আছিস্‌?
এখন তুমি এভাবে বলছো!! আমি তোমার কথায় বিশ্বাস করে তোমাকে সবকিছু উজাড় করে দিলাম আর এখন তুমি, তুমি আমাকে অস্বীকার করছো, তাহলে আমি যাবো কোথায়? আমার অসুস্থতার কারণও যে তুমি বলতে বলতে রূপা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লো।
মানে!
মানে আমার পেটের ভিতর তোমার সন্তান বড় হচ্ছে, সেটা তোমার সন্তান, তুমি যদি অস্বীকার করো তবে আমি খালা আম্মাকে, খালু আব্বাকে সব কথা বলবো।
কী বলবে?
বলবো তমাল আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে, আমার সর্বনাশ করে এখন আমাকে অস্বীকার করছে।
তমাল রেগে গেলো, তুই আমাকে জিম্মি করছিস্‌?
জিম্মি করছি না আমি যা বলছি, সত্যি বলছি।
বল্‌, তুই তোর খালা আম্মাকে বলবি আর খালা আম্মা তোর কথা বিশ্বাস করলো।
রূপা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো।
আরো কয়েকদিন কেটে গেলো। একদিন সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ করে রূপার মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো। তারপর বমি। তার বমির শব্দ শুনে ইয়াসমিন তার রুম থেকে বেরিয়ে এলো। তাকে হাত ধরে রুমে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বললো, এ্যাসিডিটিটা বেড়ে গেছে? তোর তো সাধারণত এমন হয় না। বলে সে তার রুম থেকে একটা ঔষধ এনে দিয়ে বললো, এটা খেয়ে একটু শুয়ে থাক্‌, ঠিক হয়ে যাবে।
রূপা তবুও কিছু বললো না। ইয়াসমিনের কথামতো ঔষধ খেয়ে বিছানায় শুয়ে থাকলো কিন্তু বমি বন্ধ হলো না। রূপাও কিছু বললো না, সে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তার খালার দিকে তাকিয়ে রইলো।
পরদিন সকালবেলা ইয়াসমিন রূপাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো। ডাক্তারের কাছে রূপা তমালের সঙ্গে তার মেলামেশার কথা গোপন করলো। ডাক্তার রূপার চোখ, জিহবার নিচে পরীক্ষা করে বললো, প্রস্রাব হলুদ হয়?
রূপা বললো, না।
মুখে সবসময় অরুচি লেগেই থাকে?
রূপা মাথা নেড়ে সায় জানালো।
ডাক্তার ইয়াসমিনকে জিজ্ঞেস করলো, পেশেন্ট আপনার কে হয়?
ইয়াসমিন বললো, আমার আত্মীয়, মানে আমার বাসায় থাকে।
বিবাহিতা?
চলবে...
আমার সব লেখা একসঙ্গে পড়তে ভিজিট করুন: http://www.writerzillur.com
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীকে ধন্যবাদ। তিনি একটি ট্যাবু ভেঙে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জন্মদিন উপলক্ষে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এই খবর প্রচার হওয়ার পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×