somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ঔপন্যাসিক জিল্লুর রহমান
চোখের সামনে যেকোন অসঙ্গতি মনের মধ্যে দাগ কাটতো, কিশোর মন প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা। তারপর গল্প, উপন্যাস। এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা-২১ টি।

রূপার বিয়ে-০৪

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রূপার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চরে। চার বোন এক ভাইয়ের মধ্যে রূপা সবার বড়। বাবা দিনমজুর। এই অষ্টমীর চরে সারা বছর কাজ থাকে না, আশ্বিন-কার্তিক এই দু’মাসকে এ অঞ্চলে মঙ্গার মাস বলে। মঙ্গার এ দু’মাস বাবা হারু মিয়া প্রায় বেকার থাকে, তখন প্রায় দিনই ভাত রান্না হয় না। কোনদিন কারো বাড়ি থেকে ভাত চেয়ে এনে ভাগাভাগি করে খেয়ে দিন কাটাতে হয়। অনেক দিন ক্ষুধার জ্বালায় ঘুম হয়নি, তখন রূপার মনে হতো পৃথিবীতে ক্ষুধার জ্বালাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট।
রূপার দূর-সম্পর্কের এক ফুপু এমনি এক মঙ্গার দিনে এলো তাদের বাড়িতে। কথায় কথায় রূপার মা তাদের অভাব অভিযোগের কথা বললো। হরুরেই বা দোষ কী? খালি হাতের উপরত এত বড় একান সংসার ওয় চলায় ক্যাংকরি, তার উপরত মঙ্গার সময় আবার কাম থাকে না।
রূপার মা ফিসফিস করে বললো, বুজান ছাওয়া দুকনে আইজ সাড়াদিন কিচু খায় নাই, মুকের ভিতি নজর দিবার পাং না। তোমার ভাই গ্যাইচে জোড়গাছের হাটৎ, একান টেকাও নাই, কি ঝে বাজার করি আইনবে আর ছইল পইলের মুকে যে কি দেমো, সেই চিন্তেৎ মুর আর কিচ্চুই ভাল্‌ নাইকচে না, বলতে বলতে রূপার মা’র দু’চোখ পানিতে ভরে উঠলো।
রূপার এই ফুপুটিও গরীব কিন্তু তার তার স্বামী নৌকার মাঝি, কাজেই তার অবস্থা ততটা খারাপ নয়। তাদের দিনে দু/একবার ভাত জোটে।
তছিরন বললো, মুই তুমার গড়ৎ একান কাম নিয়ে আইচ্চং।
রূপার মা কষ্টের হাসি হেসে বললো, হামার গড়ৎ ফির কি কাম?
কয়দিন আগে তুমার দুলাভাই বাড়িত আসি কইল, ঢাকার কোনো সায়েব একান মেয়ে চাইচে বাড়িত কাম করার জন্যে।
রূপার মায়ের মুখটা উজ্জ্বল হলো, সায়েবের বাড়ি কন্টে?
কুড়িগ্রাম।
আইজ রাইতত হারুক কয়য়া যুদিল দিবের চাও তো তোমার দুলাভাইয়োক কইও, উমরা আসি উপাক ধরি যাইবে, পতথমে উপার সাতে হারুকও ঢাকা যাওয়া খাইবে।
রূপা অদূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুপু আর তার মায়ের কথা শুনছিলো। মা তাকে কাছে ডেকে নিলো, উপা যাবু?
কন্টে মা?
ঢাকা।
রূপা সারাদিন কিছু খায় নি। দুপুর এবং বিকেলে পানি খেয়ে খিদে নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। তার এই দূর-সম্পর্কের ফুপুকে তার খুব আপন, খুব কাছের মনে হলো। রূপার চোখের সামনে এক থালা ভর্তি ভাতের ছবি ভেসে উঠলো। তার দু’চোখ পানিতে ছলছল করে উঠলো। রূপা জিজ্ঞেস করলো, উমরা ভাত খাবার দিবে?
রূপার একথার উত্তর দিলো তার ফুপু, হয় খালি ভাত ক্যানে? কাপড় ধরিও দিবে, বড়লোক মানুষতো, উমার কি টেকার ঠেকা আচে? বলে তছিরন রূপার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো, উপা বড় হইলে ওর বিহার সুমায় ডিমান্ডের টেকাও দিবে।
রূপার মায়ের দু’চোখ পানিতে ভরে গেলো। দু’য়েক ফোঁটা পানি গণ্ডদেশ বেয়ে পড়লো। সে রূপাকে আবার জিজ্ঞেস করলো, যাবু মা?
রূপা একবার উঁচু আরেকবার নিচু করে তার সম্মতি জানালো।
চলবে...
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×