somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশপ্রেম নাকি রেকর্ড গড়া? কোনটা আপনাদের কাছে গ্রহণযোগ্য!

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের একটি নামীদামী ফেসবুক পেজ থেকে জাতীয় বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি মহান উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উদ্যোগটি হচ্ছে "লাল সবুজের পতাকায়, রেকর্ড গড়বো ফেসবুকে"। আমার নিউজফিডে আসা একটি পোস্ট থেকে ব্যাপারটি জানতে পেরে বেশ ভালো লাগলো। নিঃসন্দেহে সকলেই স্বীকার করবেন যে এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু প্রশ্নটা আমার অন্য জায়গায়। আচ্ছা আপনার এই উদ্যোগটাই কেন নিলেন? শুধুমাত্র রেকর্ড গড়ার জন্য নাকি নিজের দেশকে, নিজের পতাকাকে সম্মান দেখানোর জন্য? বছরের মাঝে সবগুলো দিন দেশকে কলুষিত করে এক ১৬ই ডিসেম্বর আসলেই দেশপ্রেম দেখানোর মানে কি? দেশের জন্য ভালোবাসা দেখানোর জন্য কি শুধু এই একদিনই সকলের সময় হয়? এটাকেই বুঝি আপনারা দেশপ্রেম বলেন? আমরা কিছু রেকর্ড গড়ার জন্য দেশের কোটি কোটি টাকা খরচ করতে পারি, ফেসবুকে ইভেন্ট খুলতে পারি, রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে কয়েকদিন শো-অফ মিছিল করতে পারি। দেশের জন্য এই কি আপনার কর্তব্য? হায়রে বাঙ্গালী! সত্যিই আমরা বড়ই অদ্ভুত জাতি। যখন দুর্নীতিবাজ আর সন্ত্রাসীদের হাতে বার বার আমাদের এই দেশ লুণ্ঠিত হয় তখন কই থাকে আপনাদের দেশপ্রেম? যখন আমাদের দেশের বীর সন্তানেরা পিলখানায় হত্যাযজ্ঞের স্বীকার হয়েছিলো তখন কোথায় ছিল আপনাদের এই দেশপ্রেম? যখন হাসপাতালে চিকিৎসার অভাবে দরিদ্র মানুষগুলো মারা যায় তখন কোথায় থাকে আপনার দেশপ্রেম? যখন ফুটপাতে ছোট ছোট শিশুরা শীতের মাঝে রাত কাটায় তখন কোথায় থাকে আপনাদের দেশপ্রেম? যখন একটি মানুষ আদালতে বিচারের আশায় ঠোকর খেতে খেতে তার সর্বস্ব জলাঞ্জলি দিয়ে ফেলে তখন কোথায় থাকে আপনার দেশপ্রেম?

আপনি কি একবারও ভেবে দেখেছেন যে আপনার একটুখানি অসাবধানতার জন্য আমাদের দেশ কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে? মনে আছে কয়েকদিন আগের ঘটনা? ফেসবুকের মার্ক জুকারবার্গ এর বিয়ের ফটোতে বাঙ্গালীদের যত্রতত্র কমেন্ট এর ফলাফল? অনেক বাংলা নাম ব্যবহারকারী তাদের ফেসবুক আইডি হারিয়েছেন। বেশিরভাগেরই তাদের নাম বাংলা থেকে ইংরেজীতে করতে হয়েছে। আচ্ছা আপনারা এইখানে কি নিজের দেশের সম্বন্ধে বহির্বিশ্বের মানুষের কাছে খুব উঁচু একটা স্থান তৈরি করলেন? দেশের বাইরের অনলাইন কিছু মিডিয়াতে এটিকে স্পাম বলে গণ্য করা হয়েছে এবং বাঙ্গালী জাতিকে স্পামার বলা হয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা অনেক সুনাম কুড়ালাম!! তাইনা? বছরের এই একটি দিন বাদে আর অন্য দিনগুলোতে আপনার দেশপ্রেম কোথায় যায়? সেইদিনগুলোতে তোহ কেও কোন স্ট্যাটাস দেন না? কেন ভাই? লাইক পাবেন না এই ভয়ে?

আবার ২১ শে ফেব্রুয়ারি আসলেই আমাদের ভাষার প্রতি দরদ উতলায় ওঠে কিন্তু অন্যান্য দিনগুলোতে সেই ভাষাকে আমরা বিকৃত করতে করতে রক্তাক্ত করে ফেলি। এই একটা দিনই হয়তো আমরা অনেকে বাংলা গান শুনি আর অন্যান্য দিনগুলিতে "বেবীডল" চলে বা ইংরেজী গান! বাংলার থেকে আমরা ইংরেজীতে কথা বলি বেশি। সেটা অনেকেই করে। আমি দোষ দিচ্ছি না তাদের। দোষ দিচ্ছি তাদেরকে যারা বাংলার মাঝে মাঝে দুই একটা করে ইংরেজী শব্দ ঢুকিয়ে দেয়। এটা নাকি আধুনিকতা! ধিক্কার এই আধুনিকতার। আর কেও যদি শুদ্ধ বাংলা বলার চেষ্টা করেন সকলের সাথে তাহলে সে হয়ে যায় "সেকেলে", "ক্ষ্যাত", "গেঁয়ো"। বাহ! আমরা আধুনিক হচ্ছি।

এইসব একদিনের দেশপ্রেম দেখানো বাদ দিন। এইগুলো দেশপ্রেম না স্বার্থপরতা! কেন বললাম এই কথাটা জানেন? আপনি এই ইভেন্ট করে আরো কয়েক লাখ লাইকের আশা যে মনে মনে করছেন না তা কিন্তু নয়। হুম, জাতীয় সংগীত গাওয়া অবশ্যই দেশপ্রেমের অংশ কিন্তু তার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ রেকর্ড না গড়ে সেই টাকা দিয়ে যদি দেশের কিছু উন্নতি করা যেত তাহলে কি খুব খারাপ কিছু হয়ে যেত? বিশ্বরেকর্ড গড়ার নামে আর লোক দেখানো দেশপ্রেম দেখিয়েন না। যেদিন বিশ্বের সবথেকে বড় মানবপতাকা তৈরির রেকর্ড আমরা গড়লাম, সেইদিনই আমাদের পতাকাকে আমরা সবথেকে বেশি অপমান করেছিলাম বলে আমার ধারণা। কারণ সেইদিন সেই পতাকার অংশগুলো যেভাবে সকলের পদতলে পিষ্ট হয়েছিলো তাতে এইটা আলাদা করে বলে দেয়া লাগে না সেইটা আমাদের পতাকার প্রতি অসম্মান দেখানো। যেই পতাকা অর্জনের জন্য অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা, ৩০ লক্ষ নিরীহ বাঙ্গালী প্রাণ দিয়েছেন আর ২ লক্ষ মা বোন তাদের ইজ্জত হারিয়েছেন সেই পতাকাকেও আমরা অসম্মান করতে কুণ্ঠিত বোধ করি না। এই দেশপ্রেম দেশপ্রেম খেলা বন্ধ করুন। আমাদের এই পতাকা শুধুই পতপত শব্দে বাতাসে ওড়ার জন্যই এসেছে। আমার বা আপনার প্রোফাইল পিকচার হওয়ার জন্য নয়। আশাকরি সবাই বুঝতে পেরেছেন আমি কি বলতে চেয়েছি। নিজের মন থেকে মিথ্যা দেশপ্রেম হটিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমে সকলকে উদ্বুদ্ধ করুন। তাতে আমাদের এই দেশ মাতৃকার যদি কিছুটা উন্নতি হয়।


|| লেখাটি সকলে কপি করে নিজেদের টাইমলাইনে শেয়ার করে আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা ভাইবোনদেরকে এই জঘন্য খেলা থেকে বিরত থাকতে আহবান জানান এবং লেখাটি শেয়ার করতে বলুন। আমার নাম দেয়ার দরকার নেই। শুধু দেশকে অকুণ্ঠ ভালোবাসার জায়গা থেকে এই আহবান, লাইক পাওয়ার জন্য নয়। ধন্যবাদ। ||
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×