somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পহেলা বৈশাখ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেঁচাকেনার হাট

১৪ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পহেলা বৈশাখ বাঙালীর নববর্ষ বরণের দিন। রবীঠাকুর নতুন বর্ষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। ‍তিনি নববর্ষের প্রথম মাসকে স্বাগত জানিয়েছিলেন নতুন বার্তা বয়ে নিয়ে আসবে এজন্য। এখন নববর্ষ উদযাপনকেও স্বাগত জানায়, এর আগমনের অপেক্ষায় বসে থাকে গজে ওঠা নানান বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। আর এর জন্য তারা বেছে নেয় দেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বহুজাতিক কোম্পানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং লেজুড়বৃত্তির ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রত্যক্ষ মদদে এটি দেশের বৃহত্তর বাজারে পরিণত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন বক্তা বাজার সৃষ্টি :
আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন বক্তা করা হতো যারা বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে নানান অবদান রাখতেন তাদেরকে। এখন পুরো পরিস্থিতিই পাল্টে গেছে। এখন সমাবর্তন বক্তা করা হচ্ছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান প্যাসকেল লেমির মতো ব্যক্তিকে। এই বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান কাজ হচ্ছে বিভিন্ন দেশে বাজার উদারীকরণের জন্য কাজ করা, বিদ্যাকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কাজ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের কেনাবেঁচায় উদ্বুদ্ধ করে তোলা।এরই ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয় আস্তে আস্তে তার মতাদর্শিক জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতাদর্শ হয়ে গেছে, বাজারের পক্ষে কাজ করা; নানান ধরণের পন্য, ডিগ্রি এবং মতাদর্শ ক্রয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের সম্মতি উৎপাদন করা। বিশ্ববিদ্যালয় তার এই কাজে পুরোপুরি সফল তা বলা যায়। যার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০০৭ সালের একটি ঘটনায়। শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গ্রামীণ ফোনের বিলবোর্ড স্থাপন নিয়ে আন্দোলন করেছে। ফলে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে তা ওঠিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। কিন্তু এখন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাস ছেয়ে গেছে বহুজাতিক কোম্পানির প্রচারণায়। এটা কিনলে ওঠা ফ্রি, আইটেম প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি নানান রকমের আয়োজন। আপনি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য আসবেন আপনাকে চোখ বন্ধ করে রাখতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মার্কেট এক্সিকউটিভরা দাড়িঁয়ে আছে আপনাকে শোনানোর জন্য, দেখানোর জন্য, আপনার মনোজগতে বসবাস করার জন্য।

আমরা সবাই ক্রেতা:

মল চত্বরে ইগলু কোম্পানির বেশ কারুকার্যময় একটি স্টল। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এ যেন এন্টার্কটিকা মহাদেশের সত্যিকারের ইগলুদের বাসস্থান। এখানে দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে লটারির ব্যবস্থা। এই লটারির জন্য লাইন ধরে দাড়িঁয়ে আছে হাজার খানেক ক্রেতা। এদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আবার দূর থেকে আসা অনেক প্রদর্শনার্থীও আছে। লাইন মল চত্বর পেরিয়ে বাণিজ্য অনুষদের সামনে চলে গেছে। তপ্ত রোদে তারা সবাই অপেক্ষা করছে ক্রেতা হওয়ার জন্য।

পান্তা’র সেই স্বাদ কই?
পহেলা বৈশাখ সকালে জিয়া হলের মেসে পরিবেশন করা হয়েছে পান্তা-ইলিশ এবং আলু ভর্তা। সৌভাগ্যক্রমে গ্রামে বড় হওয়ার কারণে সকালের পান্তা ভাতের স্বাদটা ভালই জানা আছে। রাতের গরীর লোকজন রাতের রান্না করা ভাতে পানি দিয়ে তা সকালে খেয়ে কাজে যায়। সে পান্তা ভাতের অন্যরকম একটা স্বাদ আছে। কিন্তু আজ সকালে হলের মেসে যে পান্তা ইলিশ পরিবেশন করা হলো তাতে সত্যিকারের সেই পান্তা-ভাতের স্বাদ কই। হলে সকালে রান্না করা গরম ভাতে পানি দিয়ে পরিবেশন করা হয়েছে। শহুরে জীবনের যান্ত্রিকতায় উৎপাদিত কৃত্রিম পান্তা কেমন যেন গরম। এতে পানি দিলেও গ্রামের পান্তার সেই শীতল অনুভব করা যায় না।

এ কেমন গামছা?
বাংলায় গামছার একটা আলাদা ঐতিহ্য আছে। এই গামছা দিয়ে গ্রামের কৃষক, মজুর তপ্ত রোদে শরীর থেকে বের হওয়া লোনা পানি মুছতেন। ক্যাম্পাসে কয়েকজন্ তরুণকে দেখলাম গামছা মাথায় দিয়ে ঘোরাঘুরি করতে। কিন্তু তাদের মাথায় স্থান পেয়েছ গ্রামের কৃষকের কোন গামছা নয়; বাংলা লিংকের লোগো সংবলিত বড় কাপড়। এটাকেই তারা ব্যবহার করছে গামছা হিসেবে।
সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার বাজার মতাদর্শের জায়গা থেকে সফলই বলা যায়। না হয় সবাই এমন খাই-খাই করবে কেন???????

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:১৪
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×