somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুমন রহমান লিখিত “কানার হাটবাজার”-এর সমালোচনামূলক পাঠ

০৭ ই মে, ২০১২ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“কানার হাটবাজার”- সুমন রহমানের নগর, জনসংস্কৃতি ও গণমাধ্যম পঠন বিষয়ক বই। এতে ছয়টি অধ্যায় স্থান পেয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে তিনি নাগরিক আতঙ্ক, তারুণ্য ও মৃত্যু নিয়ে এবং পরের তিন অধ্যায়ে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও আর্ট নিয়ে আলোচনা পেড়েছেন।
সুমন রহমানের মতে, নাগরিক আতঙ্ক, তারুণ্য এবং মৃত্যু গণমাধ্যমে যেভাবে পরিবেশিত এবং উৎপাদিত হচ্ছে- সেটা শহরের জনসংস্কৃতির অংশ। আর এই তিনটি বিষয়ের মধ্য দিয়েই মানুষ তার আতœপরিচয় নির্মাণ করে থাকে।
টিভি সম্পর্কে তিনি বলেন, টেলিভিশন তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন- রিয়্যালিটি শো, টক শো, আইডল প্রতিযোগিতা ইত্যাদির মাধ্যমে বাঙালী মধ্যবিত্তের আতœপরিচয়কে বদলে দিচ্ছে।
চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে সুমন রহমানের ক্রিটিক হচ্ছে- সত্তরের দশকে সিনেমার অডিয়েন্স ছিল শহরাগত নি¤œবর্গের মানুষ। এরপর দর্শক ধরে রাখতে গিয়ে সিনেমা তার ফ্যান্টাসির মাত্রা যত বাড়িয়েছে, ততই দর্শক হল বিমুখ হয়েছে।
আর্ট সম্পর্কে সুমন রহমান বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সঙ্গীত হয়ে উঠেছে ঢাকাই নি¤œবর্গের আতœপরিচয় বিকাশের জায়গা।
সুমন রহমানের বইয়ের নামকরণ নিয়ে যেমন আমার প্রশ্ন আছে তেমনি তার বিশ্লেষণ পদ্ধতি এবং বিশ্লেষণ নিয়েও অসংখ্য প্রশ্ন রয়েছে। সুমন রহমান তার বইয়ের “কানার হাটবাজার” শব্দটি ধার নিয়েছেন সাধক মনমোহনের কাছ থেকে। একথা সুমন রহমান নিজেও স্বীকার করেছেন। আমার প্রশ্নটি হচ্ছে “হাটবাজার” শব্দটি শুদ্ধ না ভূল তা নিয়ে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী শব্দটি ভূল। কারণ সমার্থক শব্দযোগে কোন শব্দ গঠিত হলে তার মাঝে হাইফেন (-) থাকবে। পৃষ্ঠা- ৫৬। সেদিক দিয়ে আমি বলতে চাই “হাটবাজার” শব্দটি ভূল। এরকম আরো অনেক ভুল রয়েছে বই জুড়ে।
সুমন রহমানের বিশ্লেষণ পদ্ধতি নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেছেন- গণমাধ্যমে উৎপাদিত বিভিন্ন টেক্সটকে চিহ্নতত্ত্বীয় পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তারপর জাতিতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের সাথে এর সমন্বয় করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষণের বেশকিছু জায়গায় সুমন রহমান কোন পদ্ধতির ধার ধারেন নি। এক্ষেত্রে আমি “বুড়ো হামড়া তুঁত” লেখাটির কথা বলবো। এখানে সুমন রহমান তাঁর মনগড়া একটা ঘটনা বিশ্লেষণ করেছেন। সংবাদের সংবাদমূল্য নিয়ে বার্তাপ্রধানের সঙ্গে সাংবাদিকের ফাইট দেওয়ার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি কবি মুস্তফা আনোয়ারের মৃত্যুকে অযথা টেনে এনেছেন।
“ক তে ক্রসফায়ার”-এ সুমন রহমান বলছেন, একটি হত্যাকান্ড ঘটার পরে যে সংবাদটি বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয় তা একটি মিথ্যার প্যাকেজ। কিন্তু কেন প্রচারমাধ্যমগুলো এভাবে উপস্থাপন করছে সে ব্যাপারে সুমন রহমান পুরোপুরি চুপ। আমার মতে, তিনি এখানে মার্ক ফিশম্যানের “আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি”র আলোচনা নিয়ে আসতে পারতেন। কারণ এই আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই রিপোর্টাররা শুধু কয়েকটা উৎস থেকে সংবাদগুলো ধার করেন। এজন্য ক্রসফায়ার সম্পর্কিত সংবাদে র‌্যাবের বক্তব্যই বেশি থাকে। কিন্তু সে আলোচনায় যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করলেন না তিনি।
সুমন রহমান বইয়ের ৬৮ পৃষ্ঠায় একটা পরিসংখ্যান দিয়েছেন- “ঢাকা শহরের অর্ধেক লোক বস্তিতে থাকে”। এবছরের ৬-এপ্রিল বিবিসি বাংলার দেওয়া তথ্যমতে ঢাকা শহরে মোট বস্তিবাসীর সংখ্যা ৪০ লাখ, যেখানে ঢাকা শহরের মোট অধিবাসী ১ কোটি ৪৫ লাখ। সেখানে তিনি নির্দ্বিধায় কিভাবে বলতে পারেন অর্ধেক লোক বস্তিতে থাকে।
সুমন রহমানের লেখায় কোন রেফারেন্স নেই। মূলত তিনি রচনাকে সুখপাঠ্য করে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চেয়েছেন।
সুমন রহমান আর্টের নি¤œবর্গীয়পনা বোঝানোর জন্য বলেছেন, “গানের বাজার ধরার জন্য গরিবের হাটের মধ্যে এসে নেচে-নেচে গান গাইতে হচ্ছে তিশমাদের”। তাঁর এই কথার সূত্র ধরে বলা যায়-সুমন রহমান ব্যবসাটা ভালই বোঝেন। তিশমা বা মমতাজ ভাল করেই জানেন, তাদের গানের অডিয়েন্স নি¤œবর্গের মানুষ। আর সুমন রহমানও জানেন তাঁর এই বইয়ের পাঠক আর যাই হোক নি¤œবর্গের মানুষ নয়; তাই তিনি বাজার ধরার জন্যই বইয়ের আকার, মূল্য সবকিছুই নির্ধারণ করেছেন ধনীক শ্রেণির কথা মাথায় রেখে।




সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১২ রাত ৯:১৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×