
আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে?পুলিশ,প্রশাসন,র্যাব নাকি সরকার?আমরা আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনে এমন সব কাজ করি বা এমন সব জায়গায় যাই যে আমরা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে দেই।যেমন:আপনি শহরের বাসায় তালা দিয়ে কয়েকদিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেলেন।ফিরে এসে দেখলেন তালা ভেঙে আপনার ঘরে চুরি হয়েছে।আপনি ব্লেম দিলেন--পুলিশ কি করে? নাইট গার্ড কি করে.....ইত্যাদি। অথচ দোষ কিন্তু আপনারও কম না।যে তালাটি বাসায় লাগিয়ে গিয়েছিলেন সেটি ছিল একটি নিম্নমানের তালা।দোষ দিলে সবাইকেই দোষ দেওয়া যায়। যেমন ধরেন---রাত করে বাড়ি ফেরার সময় গলির মুখে ছিনতাইকারী আপনার সবকিছু ছিনতাই করে নিল।আমি দোষ ধরতে পারি --আপনি এতো রাত করে সেই গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন কেন?এলাকার পরিস্থিতি আপনি জানেন না?
আবার আমরা বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিত কারো ফোন পেয়ে বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়েই তার সাথে দেখা করতে চলে যাই।এরপর বিপদে পড়লে আমাদের ট্রেস করা যায় না বা করা গেলেও অনেক সময় লাগে।বিপদ যে কোন দিক থেকে আসতে পারে;আপনার পরিচিতজনদের কাছ থেকেও আসতে পারে।বলছি না যে সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে দিন বরং সচেতন থাকুন--কোথায় যাচ্ছেন তা বাড়ির কাউকে জানিয়ে তারপর যান।
কিছুদিন আগে এক তরুণী রেপের স্বীকার হয়েছে।ফোনে অল্প দিনের পরিচয়ে সে তার স্বল্প পরিচিত ছেলেটির সাথে সাভারে দেখা করতে গিয়েছিল।সেখান থেকে ছেলেটি তাকে লং ড্রাইভের/বাইক রাইডের কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। তারপর সেই ছেলে তাকে ধর্ষন করে। পরদিন সেই মেয়েকে কোন ভাবে ডেকে এনে বন্ধুদের নিয়ে গণ-ধর্ষন করে। মেয়েটির অবস্থা খারাপের দিকে গেলে তারা তাকে সাভারের একটা হাসপাতালে ভর্তি করতে যায়।তখনই তারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। যাকে আপনি ভালো মতো চেনেন না তার সাথে আপনার দেখা করার দরকারটা কি?আবার তার সাথে নিরিবিলি স্থানে চলে যাচ্ছেন।
এভাবে নিজেকে অনিরাপদ করে ফেললে কেউ নিরাপত্তা দিতে পারবে না।নিজের নিরাপত্তা প্রথমে নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে;বিশেষ করে আমাদের দেশে।তারপর বিপদে পড়লে আমরা সরকার,প্রশাসনের কাছ থেকে নিরাপত্তার না পাওয়ার অভিযোগ করতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



