somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি স্বপ্নভঙ্গ

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুরুতেই যখন থেমে যায় জীবন
স্বপ্ন আর আশা কেড়ে নেয় মরণ।

সাজনা বেগম এমনই একজন হতভাগ্য মা। যার বয়স ২০ বছর। গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার পাঁচপাড়িয়া নামক এক প্রত্যন্ত গ্রামে। প্রায় দুই বছর আগে একই গ্রামের সাজলু মিয়ার সাথে বিয়ে হয় সাজনা বেগমের। সাজলু মিয়া পেশায় কৃষিজীবি। রোজগার ভালই ছিল। বিয়ের পর সুখেই কাঁটছিল তাদের জীবন। জীবনকে আরো সুন্দর, অর্থবহ করে তোলার জন্য, মাতৃত্বের স্বাদ নেয়ার জন্য সাজনা বেগম গর্ভবতী হন।কিন্তু দুর্ভাগ্য বশতঃ সেটি গর্ভপাত হয়ে যায়।পরবর্তীতে তিনি আবার গর্ভধারণ করেন। তার LMP ছিল ০৮.০৬.২০১০ইং তারিখে।তাই আগামী ১৫.০৩.২০১১ইং তারিখের মধ্যে সাজনা বেগম মা হবে এমন সম্ভাবনাই উকি দিতে থাকে ধীরে ধীরে। ২ মাস, ৩ মাস, ৪ মাস, ৫ মাস এমন করে পেটের ভিতর লালন করে একটি স্বপ্ন, ধীরে ধীরে তৈরি হয় মাতৃত্বের অহংকার। এ সময়টাতে মেয়েরা তাদের মায়ের কাছে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। তাইতো সাজনা বেগম চলে আসে মা-বাবার কাছে। তারা থাকেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ড অর্ন্তগত শামীমাবাদ এলাকায়। গ্রামের বাড়ি ছেড়ে কিছু উপার্জনের আশায় এই শহরে পাড়ি জমায় প্রায় তিন বছর আগে। এখানে তারা একটি মেছ গড়ে তোলে। যার প্রধান ভোক্তা রিকসা/ভ্যান চালকেরা। উপার্জন ভালই। এখানে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন তারা। পাশেই থাকেন ব্র্যাকের স্বাস্থ্যসেবিকা নিলুফা বেগম। সাজনা বেগম এখানে আসার এক মাসের নিলুফা সংবাদ পায় সাজনা বেগম গর্ভবতী। সংবাদ দেয় ব্র্যাক স্বাস্থ্যকর্মী হোসনা আক্তারকে। উদ্দেশ্য গর্ভবতীকে চিহ্নিত করতে হবে, তাকে প্রসব পূর্ববর্তী সেবা দিতে হবে, মায়ের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে।
পূর্বে একটি গর্ভপাতের ইতিহাস থাকার কারণে সাজনা বেগমকে হাসপাতালে চেকআপ করানোর পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যকর্মী।তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চেকআপও করিয়েছেন ২ বার। কোন ধরনের সমস্যা ধরা পরেনি। তবে সাজনা বেগম প্রায় সময়ই তার কানে ব্যাথার কথা বলতো।প্রথম দিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি কেউ। তবে হঠাৎ করে একদিন প্রচন্ড রকমের অসহ্য কানের ব্যাথার কারনে তার স্বামী তাকে জালালাবাদ রাকিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য নিয়ে যায়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী অমহল্লার এক ঔষধের দোকান থেকে ঔষধ কিনে খায়। ঔষধ খাওয়ার কয়েক ঘন্টা পর সাজনা বেগমের সমস্ত শরীর ঘেমে যায় এবং আবোল-তাবোল বকতে থাকে। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরদিন অবস্থা আরো খারাপের দিকে যায়, পাগলের মতো আচরণ করতে শুরু করে। শরীর থেকে সকল কাপড়-চোপড় খুলে ফেলছে। এমতাবস্থায় সাজনার বাবা কোন প্রকার উপায় না দেখে স্থানীয় হুজুরের নিকট থেকে পানি পড়া এনে মেয়েকে খাইয়েছেন।
কাজ হচ্ছে না। মেয়ে তার ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। একে একে খসে পড়ছে লালিত স্বপ্নবৃক্ষের পাতা গুলো।সেবিকা নিলুফা বাড়ি ছিল না। যখন বাড়িতে আসলো তখন সাজনা বেগমের অবস্থা প্রায় আশংকাজনক। এমন অবস্থা দেখে নিলুফা সাজনা বেগমের বাবাকে পরামর্শ দেন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য।কালক্ষেপন না করে বাবা তার মেয়েকে নিয়ে দ্রুত সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। এখানে মেয়ের চিকিৎসার অবহেলা দেখে অন্য একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। চিকিৎসা ভাল ভাবেই চলছিল। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সাজনার বাবাকে বলল, যদি আপনার মেয়েকে বাঁচাতে চান তবে তার পেটের বাচ্চাকে বের করে ফেলতে হবে। যে কথা সে কাজ। মেয়ে বেঁচে থাকলে আরো বচ্চার জন্ম দিতে পারবে।ফরসেফ ডেলিভারীর মাধ্যমে সাজনার পেট থেকে একটি মৃত বাচ্চা বের করে আনেন হাসপাতালের ডাক্তাররা। সাজনা বেগম এক সময় জ্ঞান হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়,যা আর কোন দিন ফিরেনি।সাজনা বেগম পৃথিবীর মায়া ছেড়ে স্বপ্নলোকে পাড়ি জমান।
আর সাথে সাথেই মা-বাবার কন্নায় ভারী হয়ে উঠে হাসপাতালের বাতাস। হৃদয় বিদারক এক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে যায় হাসপাতাল চত্বরে। এই সুন্দর হাতে আর আঁকবেনা ছবি। ঘরের চার পাশে আর কোন দিন সাজিয়ে রাখবে না নিজ হাতে তৈরি সুন্দর সুন্দর ওয়ালম্যাট। পিঠের উপর লুটাবেনা আর লাল ফিতে বাঁধা চুলের বেণী। এসবই কান্নার উপকরণ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান ওয়ার্ল্ড কাপ বয়কট করে নাই কারণ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩


সেখানে একজন আসিফ নজরুল ছিলেন না, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন না! পুরো বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবলের উন্মাদনা। যে সব দেশ মাঠে লড়ছে আর যারা কোয়ালিফাই করতে পারেনি উত্তেজনা সবখানেই সমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×