আজ একটি দৈনিক পত্রিকার সুত্রে জানতে পারলাম আমাদের দেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় সাত কোঁটি। এর মধ্যে গ্রামীনের তিন কোঁটি, বাংলালিঙ্ক দুই কোটি, রবি এক কোঁটি ত্রিশ লাখ, এয়ারটেল চল্লিশ লাখ আর টেলিটকের গ্রাহক বার লাখ।
ধরে নেওয়া যেতে পারে এই হিসেবে গোজামিল আছে। যেমন আমাদের দেশের পচাত্তর ভাগ গ্রাহকের কাছে একাধিক মোবাইলের সিম আছে। সেক্ষেত্রে সমস্ত মোবাইল অপারেটর এর গ্রাহক কমে যাবে। কিন্তু খারাপ লাগছে টেলিটকের করুন দশা দেখে। আমি নিজে একজন টেলিটক ইউজার। আমার ফ্যামিলিতে আরও দুইটি টেলিটক সিম ছিল। শুধুমাত্র নেটওয়ার্ক সমস্যার কারনে একটি সিম বন্ধ রাখতে হয়েছে।
টেলিটকের বর্তমান অবস্থার পুরো দায়ভার শুধুমাত্র গ্রাহকদের উপর চাপানো যাবে না। আমার মতো আরও আনেকের মনে আছে বাংলাদেশের জনগন কি পরিমান সাড়া দিয়েছিল যখন টেলিটকের সিম প্রথম বাজারে এল। আমি তখন সে সিম কিনতে পারিনি। অথচ এখন মানুষ টেলিটকের সিম বাদ দিয়ে অন্য মোবাইল অপারেটরদের সিম ব্যাবহার করছে। এই মুহুর্তে টেলিটকের গ্রাহক ধারন ক্ষমতা ২৮ লক্ষ। অথচ গ্রাহক মাত্র ১২ লাখ এবং প্রতিদিন তা কমছে।
অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা আর উদাসিনতা টেলিটকের সবক্ষেত্রে। সর্বত্র যেখানে বাংলাভাষা প্রচলনের কথা বলা হচ্ছে সেখানে টেলিটকের ওয়েবসাইট এখনও ইংরেজিতে। যেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলা হয়, সেখানে এখনও টেলিটকের নেটওয়ার্কের স্বল্পতা। সেখানে অধিকাংশ অপারেটর ইন্টারনেটের মিনি প্যাক, ডেইলি প্যাক, সাপ্তাহিক, মাসিকসহ ১-৫ গিগাবাইটের প্যাকেজ অফার করছে সেখানে টেলিটক এখনও আদিম যুগের নো ইউজ নো পে, মাসিক আনলিমিটেড ইউজ, ডেইলি ইউজেই সীমাবদ্ধ। রিচার্জ সেন্টার আর কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস তো সোনার হরিণ।
কিছুদিন আগে বিভিন্ন অজুহাতে বিটিআরসি দেশীয় পিএসটিএন টেলিফোন সার্ভিস প্রোভাইডারদের সার্ভিস বন্ধ করে দেয়। মুহুর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় সরাসরি দেশীয় বিনিয়োগে গড়ে উঠা সম্ভাবনাময় কয়েক হাজার কোটি টাকার এই শিল্পটি। অথচ একই অপরাধ করে বিদেশি মোবাইল অপারেটররা দিব্যি ব্যাবসা করে যাছে। দেশীয় টেলিযোগাযোগশিল্পকে ধবংস করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হয়ত টেলিটকেও কার্যকর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


