somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ziabsmmu
আমি ডাঃ জিয়াউল হক। রক্তনালীর (ভাসকুলার) রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন (Vascular, Endovascular & LASER Specialist Surgeon)। রক্তনালীর রোগ যেমন, ভ্যারিকোজ ভেইন, রক্তনালীর টিউমার, ভাস্কুলার ম্যালফরমেশন, রক্তনালী ব্লক, ডিভিটি নিয়ে কাজ করি।

হীনমন্যতা: আত্মবিনাশী শৃঙ্খল

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেখ সাদীর একটি বিখ্যাত গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। এক ব্যক্তি জুতার দোকানে ঢুকে জুতা দেখছেন। যে জুতা তিনি দেখছেন তার প্রতিটিরই অনেক দাম। ভদ্রলোক মন খারাপ করে ফেললেন, হীনমন্যতায় ভুগলেন। স্রষ্টার প্রতি তার অনেক অভিমান হলো। তার মনে হচ্ছিল স্রষ্টা তার প্রতি রহম করেননি। তাহলে তার দারিদ্রতা থাকত না, তিনি অনায়াসেই জুতা কিনতে পারতেন। এই অবস্থায় তিনি যখন দোকান থেকে বের হয়ে আসলেন, তখন তিনি লক্ষ্য করলেন, রাস্তার অপরপাশে এক ভিক্ষুক ভিক্ষা করছে, তার দুই পা’ই কাটা পড়েছে। সাথে সাথে তিনি উপলব্ধি করলেন, যদিও তার জুতা নেই, তবুও তিনি ঐ ভিক্ষুকের চেয়ে স্রষ্টার রহমত বেশী পেয়েছেন, কারন দুটি পা’ই রয়েছে।

আসলে এই হীনমন্যতা একটি বড় মাপের নেচিবাচকতা, যাতে নিজের প্রতি অনাস্থাই প্রকাশ পায়। আর হীনমন্যতা থেকে আসে ভয়।
এই হীনমন্যতা আমাদের মধ্যে শেকড় গাড়ে শিশুকালেই। বর্নমালায় আমরা পরেছি অ-তে অজগরটি ঐ আসছে তেড়ে, আ-তে আমটি আমি খাব পেড়ে, ই-তে ইদুর ছানা ভয়ে মরে, ইত্যাদি। অর্থাৎ সব নেতিবাচক চিন্তা এবং কথা।
এই নেতিবাচকতার কারনে মানুষ কোন প্রতিযোগীর সাথে প্রতিযোগিতা আগেই নিজের কাছে পরাজিত হয়। সে লড়াই করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলে।
আমাদের দৃষ্টি থাকে আমাদের কি নেই তার দিকে। ফলে আমাদের কি আছে সেদিকে আমরা নজর দিতে পারিনা। আমরা নষ্ট করে ফেলি আমাদের অমিত সম্ভাবনাকে।
আবার এটা কখনো কখনো শুরু হয় অন্যের সাথে তুলনা থেকে। স্কুলে পরীক্ষার ফল প্রতিবেশী কারও থেকে খারাপ হলে মা বাবা অজ্ঞতাবশত বলে বসেন, কি লেখাপড়া কর, যাও অমুকের পা ধোয়া পানি খেয়ে আস। ফলে সন্তান নিজের সক্ষমতার প্রতি আস্থা হারায়, সে হীনমন্যতায় ভোগে।
হীনমন্যতার ফলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের মনোদৈহিক জটিলতার সৃষ্টি হয়, যা তার সাফল্যের পথে অন্তরায় হয়ে দাড়ায়, সাফল্যের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়।
হীনমন্যতা থেকে আসে হতাশা, হতাশা থেকে আসে ব্যর্থতা এবং এই ব্যর্থতা থেকে আবার আসে হীনমন্যতা। এ হচ্ছে হীনমন্যতার দুষ্টচক্র।
মানুষ যেসব বিষয়ে হীনমন্যতায় ভোগে তা হতে পারে শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক, বংশগত, আর্থিক ইত্যাদি। কেউ কোন লেখাপড়া বা দক্ষতায় দুর্বল থাকলে সেক্ষেত্রে হীনমন্যতায় ভোগেন।


হীনমন্যতা বহুরূপী। বিভিন্ন মানুষের মাঝে এটি বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ পায়।
১। কোন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর দেখা উনি দেখেন সবাই ব্যস্ত, তো অনেকে ভাবেন আমাকে পাত্তা বা গুরুত্ব দিচ্ছেনা।
২। কেউ অন্যের প্রতি হিংসা ইর্শাকাতরতায় ভুগেন
৩। কেউ অন্যের গীবত করেন,
৪। কেউ নিজের ব্যর্থতার দায়ভার অন্যের কাধে চাপান,
৫। কেউ সবসময় জড়তায় ভুগেন,
৬। আবার অনেকেই অতি প্রশংসায় গদগদ থাকেন, নিজের যোগ্যতার ঘাটতি পুরন করেন তোষামুদি দিয়ে, ফুট ফরমাস খেটে।
৭। কেউ সেন্টিমেন্টাল হন, কথায় কথায় মন খারাপ করেন, সরল বিষয়কে অযথাই জটিল করে ফেলেন।
৮। অতি কৃপন হন কেউকেউ
৯। কেউ হোন বেশ গুরু গম্ভীর, আবার কেউবা বদমেজাজি।
১০। হামবরা ভাব নিয়ে চলেন, অহেতুক সন্দেহ প্রবনতায় ভুগেন অনেকে।
১১। কেউ হোন অনুকরন প্রিয়।
এর সবই আসলে হীনমন্যতাবোধের বিভিন্ন বহিঃপ্রকাশ।

হীনমন্যতা নিজের জীবন থেকে দীর্ঘমেয়াদে দূর করতে প্রয়োজন—
১। জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী,
২। নিজের শক্তি সামর্থ্য যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক ধারনা লাভ করা,
৩। যা আছে তার জন্য স্রষ্টার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা, শোকর গুজার হওয়া।
৪। নিয়মিত মেডিটেশন করা, ফলে-
আপনি আপনার সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করতে পারবেন। ফলে সীমাবদ্ধতা দূর করে সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন
৫। আনন্দ ও সাফল্যের অনুভূতি নিজের মধ্যে সঞ্চার করবেন। ফলে ব্যর্থতার আশংকা ও ভয় কেটে যাবে।
৬। কথায় আছে, সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ । কাজেই সৎ মানুষদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবেন, সৎসংঘে সংযুক্ত হয়ে নিজেকে সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত করবেন।

আশা করা যায়, আপনার হীনমন্যতা বোধের কারনগুলো আপনি চিহ্নিত করেছেন তার সমাধানের সূত্র পেয়েছেন। আপনার জীবন হোক সাফল্যমণ্ডিত এবং প্রাচুর্য্যময়।।

(কৃতজ্ঞতাঃ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এর একটি আলোকায়ন সেশন)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৫৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×