চিকিৎসা বিজ্ঞানের যতগুলো শাখা আছে তারমধ্যে অন্যতম একটি কার্ডিয়াক সার্জারী। সাধারন মানুষের কাছে এটি বাইপাস সার্জারী বা হার্টের ভালভ বদল বা হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটি অপারেশন নামে বেশী পরিচিত। বাংলাদেশে কার্ডিয়াক সার্জারী বিভাগের পথচলা শুরু হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে (এনআইসিভিডি) ১৯৮১ সাল থেকে। হাটি হাটি পা পা করে আজ এই বিভাগ আজ দেশে সুনাম এবং দক্ষতার সাথে মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দেশে এখন প্রতি বছর ৫০০০ এর অধিক কার্ডিয়াক সার্জারী করা হয়, যাতে আনুমানিক ২০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়।
সরকারি খাতে শুধুমাত্র হৃদরোগ এবং কার্ডিয়াক সার্জারীর বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট (এনআইসিভিডি)। এছাড়া কার্ডিয়াক সার্জারী বিভাগ আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ), শিশু হাসপাতাল এবং চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ।
বেসরকারি খাতে আধুনিক সুবিধা সংবলিত কার্ডিয়াক সার্জারী চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক, ল্যাবএইড, অ্যাপোলো, স্কয়ার ও ইউনাইটেড, ইবনে সিনা কার্ডিয়াক হাসপাতাল। এ ছাড়াও মেট্রোপলিটন, আল হেলাল, ইউরো-বাংলা হার্ট হাসপাতালে কার্ডিয়াক সার্জারি সুবিধা রয়েছে। ঢাকার বাইরে সিরাজগঞ্জে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এবং দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে কার্ডিয়াক সার্জারি করা হয়।
বাংলাদেশে এই বিভাগের যাত্রা শুরু হয় প্রফেসর নবী আলম খান এবং প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম এর হাত ধরে। বর্তমানে দেশের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য কার্ডিয়াক সার্জনদের মধ্যে আছেন বিএসএমএমইউ'র প্রফেসর ডাঃ আফতাব উদ্দিন, প্রফেসর অসিত বরন অধিকারী, এনআইসিভিডিতে প্রফেসর ডাঃ আবুল কাশেম, ল্যাবএইড হাসপাতালে ডা. লুৎফুর রহমান, হার্ট ফাউন্ডেশনে অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ, ইউনাইটেড হাসপাতালে ডা. জাহাঙ্গীর কবির, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ডাঃ মাসুম সিরাজ, ইবনে সিনা হাসপাতালে ডাঃ জালাল উদ্দিন, ইউরো বাংলা হার্ট হাসপাতালে প্রফেসর ডাঃ কামরুল আহসান সহ আরো অনেকে।
উল্লেখযোগ্য অপারেশনের মধ্যে অন/অফ পাম্প বাইপাস সার্জারী, মাইট্রাল/ এওর্টিক ভালভ রিপ্লেসমেন্ট, এট্রিয়াল সেপ্টাল ডিফেক্ট (এএসডি), ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট (ভিএসডি), পিডিএ, টেট্রালজি অফ ফেলট (টফ) ইত্যাদি সকল কার্ডিয়াক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


