মেডিটেশন বা ধ্যান হলো মনের ব্যায়াম। এটি মনের এমন এক অবস্থা যখন মন অপ্রয়োজনীয় সবকিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিমগ্ন হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ও নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে পারে।
নীরবে বসে মেডিটেশন অনুশীলন মনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করে। প্রশান্তি ও সুখানুভূতি বাড়ায়। আত্মশক্তির জাগরণ ঘটায় ভেতর থেকে। আর অন্তরের এই জাগরণই বদলে দেয় জীবনের বাকি সবকিছু।
মেডিটেশনের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক উপকার হয়। মেডিটেশন শারীরিক রোগও প্রতিরোধ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, আমাদের সকল রোগের ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক। অর্থ্যাৎ বিভিন্ন ধরনের মনের জটের শারীরিক বহিঃপ্রকাশ হলো এই সকল রোগ। নিয়মিত মেডিটেশন এবং সঠিক জীবনদৃষ্টি ধারন করলে আমরা এই ৭৫ ভাগ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারি।
পশ্চিমা বিশ্বের খ্যাতনামা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেডিটেশন নিয়ে গবেষণায় শারীরিক এবং মানসিক উপকারিতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এ নিয়ে মেডিকেল জার্নালগুলোতে আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে।
নিয়মিত মেডিটেশন করলে ধূমপান, মাদকাসক্তির মতো খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করা সহজ হয়। বাংলাদেশে কিছুদিন আগে প্রকাশিত উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন চিকিৎসার যে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে, তাতে মেডিটেশনের পরামর্শ আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্ট্রেস, ব্যথা বেদনা, বিভিন্ন মানসিক রোগ, হৃদরোগ, মাদকাসক্তি, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি, বিষণ্নতা, অতিরিক্ত ওজন, অনিদ্রায় মেডিটেশনের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
ধ্যান আমাদের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক। এই কারনেই মেডিটেশন বিপুল স্বাস্থ্যব্যয় কমাতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, সঠিকভাবে ইয়োগা ও মেডিটেশন (যোগাসন ও ধ্যান) এ দুটি বিষয় অনুশীলন করলে ৪৩ শতাংশ চিকিৎসাব্যয় কমানো সম্ভব।
ব্যায়াম ও মেডিটেশনকে মানুষের শারীরিক ও আত্মিক সুস্থতার প্রধান নিয়ামক হিসেবে এখন সব জায়গায় বলা হচ্ছে। আজকাল মেডিক্যাল সাইন্সের বই পুস্তকেও এটি উঠে এসেছে।
এই সকল কিছুকে বিবেচনা করে আমি মেডিটেশন থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ করছি। যাতে বাংলাদেশের মানুষ মেডিটেশনের সুবিধা ভোগ করে দ্রুত আত্মমর্যাদাশীল জাতি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


