somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

উপন্যাস : পৌরুষ - কিস্তি ১২

০৫ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


৩.৫

বিজু মেয়ের লম্বা ঘন চুলের মধ্যে আঙুল চালাতে চালাতে বলে, তুই খেয়েছিস রে, ফুলটুস? নাকি, আমার সঙ্গে খাবি?

বলে বুঝতে পারে, খুব বাজে শট খেলে একখানা মোক্ষম ক্যাচ সে তুলে দিয়েছে। হয়তো এক্ষুণি শুনবে, হ্যাঁ, তুমি না থাকলে তোমার মেয়েকে আর কে খাওয়াবে!

সেরকম কোনোকিছু অবশ্য শোনা যায় না, একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলে বিজু। ফিল্ডারের অমনোযোগের সুযোগে লাইফ পাওয়া আর কি!

ফুলটুস বলে, হ্যাঁ, খেয়েছি।

কি খেলি আজ রাতে?

ভুলে গেছি।

বিজু বুঝলো, খাওয়ার সময় ও একমনে কার্টুন দেখছিলো। রানু খাইয়ে দিয়েছে। কার্টুন দেখার সময় কী মুখে যাচ্ছে, কে খেয়াল করে! চোখ ফেরালেই কিছু একটা মিস হয়ে যেতে পারে।

তুই যে বললি, বাবার সঙ্গে কী কথা আছে!

বাবা, আমার ছোটোবেলার কথা বলো।

তোর আবার ছোটোবেলা বড়োবেলা কীসের! তুই তো এখনো ছোটোই।

না, এখনকার কথা নয়, যখন আরো ছোটো ছিলাম।

বিজু হাসতে হাসতে বলে, শুধু অ্যাঁ অ্যাঁ করে কান্না করতি, কথা তো আর বলতে শিখিসনি তখন।

না, তখনকার কথা নয়। ওই যে হামটি-ডামটির গল্পটা বলো।

ফুলটুসের তখন ভালো করে কথাও ফোটেনি, ক্যাসেটে শুনে শুনে হামটি-ডামটি শিখেছিলো। হামটি-ডামটি বলতে পারতো না, বলতো ঠামটি-ঠামটি। আর পুট টুগেদার এগেন লাইনটা বুঝতে না পেরে তার কানে যেরকম পৌঁছতো সেভাবেই বলতো, পুটুরেগেন। বিজু জিজ্ঞেস করতো, পুটুরেগেন মানে কি রে? বললেই রেগে যেতো ফুলটুস। সেই কাহিনী তার বারবার শোনা চাই, আর শুনে প্রতিবার হাসিতে গড়াগড়ি।

হামটি-ডামটি পর্ব শেষ হলে ফুলটুসের নতুন বায়না, এবার স্নো হোয়াইটের কথা বলো, বাবা।

ফুলটুসকে ডিজনির স্নো হোয়াইট ভিডিও কিনে দিয়েছিলো বিজু, ওর তখন তিনও হয়নি। সেই ভিডিও সে সারাদিনমান ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতো। আসলে গিলতো। রানীর প্ররোচনায় স্নো হোয়াইটকে বনের ভেতরে নিয়ে গিয়ে জল্লাদের ছুরি উঁচিয়ে ধরার দৃশ্য এলেই ফুলটুস চোখ বুঁজে চিৎকার করে উঠতো, মারবে না, মারবে না। ডাইনিরূপী রানীর হাত থেকে স্নো হোয়াইট বিষাক্ত আপেল নিয়ে মুখে তুলছে দেখলেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠবে ফুলটুস, না, খাবে না, খাবে না।

বিজু জানে, গল্পের রশি এখুনি না গোটালে ফুলটুস টেনে টেনে সেটাকে লম্বা করতেই থাকবে। রানুর তাগাদা আবার জারি হওয়ার আগেই উঠে পড়া দরকার। সে বলে, এখন যে ঘুমাতে হবে তোকে।

আমার একটুও ঘুম পাচ্ছে না।

না পেলেও ঘুমাতে হবে। কাল স্কুল আছে না!

ফুলটুস বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলে, আজ আমি তোমার সঙ্গে ঘুমাতে যাবো।

এই বায়নাটা মাঝে মাঝে করে সে। নিজের ঘরেই ঘুমায় ফুলটুস, কোনো কোনো রাতে ঘুমিয়ে পড়া পর্যন্ত মাকে অথবা বাবাকে তার সঙ্গে গিয়ে শুয়ে থাকতে হয়।

বিজু কিছু বলার আগেই রানু সামনে এসে দাঁড়ায়। বিজু লক্ষ্য করে তার অনুমান ঠিক, রানু হালকা করে লিপস্টিক মেখেছে। কী একটা সুগন্ধিরও সুবাস পাওয়া যায়। নিজের বউ বলে নয়, সত্যিই খুব সুন্দর লাগছে ওকে।

বছরখানেক হলো রানু চশমা নিয়েছে, চশমায় ওকে খুব মানায়। আলাদা এক ধরনের ব্যক্তিত্ব ফোটে। হয়তো আরেকখানা মুখোশ।

রানুকে হাত ধরে টেনে পাশে বসিয়ে চুমু খাওয়ার একটা তীব্র ইচ্ছেকে শাসন করে সে। ফুলটুস উপস্থিত আছে বলে নয়, বাসার আবহাওয়া ফুরফুরে থাকলে চুমুটুমু পর্যন্ত ওর সামনেই চলতে পারে। রানু দু'চারবার আপত্তি তুলেছে, মেয়ে বড়ো হচ্ছে না! বিজু তখন বলেছে, টিভিতে ও সারাক্ষণই তো দেখছে, এমনকি কার্টুনেও। আমার মনে হয়, বাবা-মা ওর সামনেই চুমু খেলে মোটেই অস্বাভাবিক লাগবে না।

রানু ফুলটুসকে বলে, বাবা এখন কাপড় বদলে হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসবে। তুমি তোমার ঘরে গিয়ে লক্ষ্মী মেয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়ো, যাও।

ফুলটুস বিজুর গলা আরো শক্ত করে ধরে বলে, না, আমি বাবাকে চাই।

বিজু বলে, বেশ তো, চল। কিন্তু তার আগে আমাকে একটুখানি সময় দিতে হবে। তুই দাঁত ব্রাশ করে নে, আমি জামাকাপড়টা বদলে আসছি।

ফুলটুসকে কোল থেকে নামিয়ে উঠে দাঁড়ায় বিজু। শোয়ার ঘরের দিকে যেতে যেতে রানুকে বলতে শুনলো, এইসব আহ্লাদ পেয়ে পেয়ে তো মেয়ে মাথায় উঠছে!

একটা কানেই দিব্যি শোনা যায়, তবু মানুষের দুটো কান থাকে কেন? উত্তর হলো, ভালো ভালো কথাগুলো যাতে এক কান দিয়ে ঢুকে আরেক কান দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে!

বিজু শিখে গেছে, সব কথা শুনতে নেই, জবাবও দিতে নেই। রানুর এই কথাটাও শুনতে পায়নি ধরে নেয় সে। দুটো কানই মাঝে মাঝে ব্যবহার করতে হয় যে!
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×