somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কল্পনা ও বাস্তবের গারসিয়া অনন্য মিশেল – গ্যাব্রিয়েল মারকেজ

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মূলঃ সালমান রুশদি
অনুবাদঃ আমি

বেঁচে আছেন গ্যাবো। তার মৃত্যুর খবর বিশ্বব্যাপী যে অবিশ্বাস্য দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ে, তার বইয়ের পাঠকদের মাঝে যে অকৃত্তিম শোক পরিলক্ষিত হয়- তাতেই বোঝা যায় তার সৃষ্টিকর্ম, তার সমস্ত লেখালিখি কতটা সজীব ভাবে বেঁচে আছে তাদের মনে। পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে বেঁচে আছে সেই পুরুষবাদী স্বৈরাচারী চরিত্রটি এবং, সে হয়তো মারকেজের গপ অনুসারে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে দিয়েই নিজের অতিথিদের জন্য খাবারের আয়োজন করাচ্ছে; অথবা এক চিঠির অপেক্ষায় বসে থাকা সেই বৃদ্ধ কর্নেল- বেঁচে আছে সেও; কোথাও কোন এক নির্দয়ী মাতামহী তার পরমা সুন্দরী তরুণী তন্বী নাতনীকে দিয়ে করাচ্ছেন দেহব্যাবসা; আর বিজ্ঞান ও আলক্যামির প্রতি বিশেষ দুর্বল হোসে আর্কাদিয়ো বুয়েন্দিয়া, মিকান্দো গ্রামের পত্তনকারী লোকটি তার সন্ত্রস্ত স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ঘোষণা করছেন – “পৃথিবী কমলার মতই গোল”।

আমরা বেঁচে আছি এমন একটা সময়ে, যখন আমাদের পরিচিত পৃথিবীর সমান্তরালে বিবিধ কাল্পনিক পৃথিবীর খোঁজে ব্যাস্ত লেখকেরা। টকিনের মিডল-আর্থ, রাওলিং-এর হগওয়ার্টস, দা হাংগার গেমসের নৈরাশ্য ও নৈরাজ্যে অঙ্কিত পৃথিবী, জম্বি এবং ভ্যাম্পায়ারদের হিঁচড়ে হিঁচড়ে এগিয়ে চলা- এই সব কাল্পনিক চরিত্র এবং তাদের কাল্পনিক জগতই এখন রাজত্ব করছে বিশ্বসাহিত্যে। তবে এই সমস্ত অস্পষ্ট কাল্পনিক চরিত্র এবং জগতের উর্ধ্বে বিচরণ করে সাহিত্যের যে বিশুদ্ধ স্রোত- তাতেও এসে মিশেছে কল্পনা, কিন্তু তাতে সত্যের মিশ্রণই বেশী। ফকনারের মানসনগর ইয়াকনওপাতাওফা, আর কে নারায়নের মালগুড়ি এবং মারকেজের মিকান্দোতেও কল্পনার একই সূত্র ব্যাবহার করা হয়েছে , তবে তা সত্যের নান্দনিকতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই।

দেখতে দেখতে “ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিটিউট” এর খ্যাতি এবং সাফল্যের ৪৭ বছর হয়ে যাওয়ার পর ল্যাটিন অ্যামেরিকাতে এখন -ম্যাজিক রিয়ালিজম(মারকেজের বইটির কাহিনী যে বর্ণনাভঙ্গীতে বলা হয়েছে)- কে অন্যান্য বর্ণনাভঙ্গীর থেকে তুলনামূলক ভাবে খাটো করে দেখার একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে মারকেজের গগনচুম্বী জনপ্রিয়তা। মারকেজের পরবর্তী জেনারেশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যিক রবার্তো বোল্যানো তো একধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছেন যে মারকেজের জনপ্রিয়তা ম্যাজিক রিয়ালিজমকে একদম পঁচিয়ে দিয়েছে! কথাটি তিনি খানিকটা বাড়িয়েই বলে ফেলেছেন, তবে এও তো অনস্বীকার্য যে মারকেজের উপস্থিতি তার সমসাময়িক লেখক-সাহিত্যিকদের এতটাই ঢেকে রেখেছিল যে তাকে তারা হয়ত ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দেয়া বোঝার মতই মনে করতেন কখনও কখনও। (আমার মনে আছে, কার্লোস ফুয়েন্তে একবার আমায় বলেছিল- ল্যাটিন লেখকেরা আর কখনোই “সলিটিউড” বা “ হান্ড্রেড ইয়ারস” শব্দগুলো ব্যাবহার করতে পারবে না। কেননা, ব্যাবহার করা মাত্রই মানুষ তা মারকেজের প্রতি রেফারেন্স মনে করবে।)

মারকেজের যে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, বিশ্বসাহিত্যে তার অনুরূপ বিগত পঞ্চাশ বছরে আর কেউ ছিল না। ইয়ান ম্যাকওয়েন তার জনপ্রিয়তাকে তুলনা করেছিলেন চার্লস ডিকেন্সের জনপ্রিয়তার সাথে। বড়ই যথার্থ সে তুলনা। ডিকেন্সের পর মারকেজ ছাড়া আর কোন সাহিত্যিকের লেখা এতটা বহুল পঠিত এবং সমাদৃত হয় নি, বিশ্বব্যাপী।

এই মহীরুহের মৃত্যু এখন সমসাময়িক ল্যাটিন সাহিত্যিকদের তার ছায়ায় ঢাকা পড়ার ভয় থেকে মুক্তি দেবে। মারকেজের সমসাময়িক অথবা পরবর্তী প্রজন্মের লেখকেরা এখন থেকে মারকেজের ফেলে যাওয়া কাজগুলোর ছিদ্রান্বেষণের বদলে পড়বে আনন্দ অন্বেষণে এবং প্রশংসা করবে মন খুলে। ফুয়েন্তেস মারকেজের কাল্পনিক গ্রাম মিকান্দো তৈরির পেছনে ফকনারের ইয়াকনওপাতাওফার ভূমিকা উল্লেখ করেন। সাথে সাথে এও উল্লেখ করেন যে যদিও এগুলো ফকনার আর মারকেজের সৃজনশীল চিন্তার ফসল, তবে কাল্পনিক গল্পগুলো কিন্তু সত্যিকারের রক্তমাংসের মানুষদের ঘিরেই। মিকান্দো গ্রামটির অত্যন্ত বাস্তব উপস্থাপনেই উপন্যাসের জাদু বাস্তবতা নিহিত।

“ম্যাজিক রিয়ালিজম” বা “জাদু বাস্তবতা”- এই শব্দগুচ্ছ ঘিরে যে সমস্যার আবর্তন প্রায়ই হয়, তা হল মানুষ কেবলি এর প্রথমাংশ, অর্থাৎ “ম্যাজিক” বা “জাদু”-র দিকেই নজর দেয়, পরে যে “রিয়ালিজম” বা “বাস্তবতা” ও এর সাথে যুক্ত আছে, তা আর তারা খেয়াল করে না। অথচ ম্যাজিক রিয়ালিজম যদি শুধু ম্যাজিক কেন্দ্রিকই হত, তবে তার তেমন কোন বিশেষত্ব থাকত না। কেননা পাঠক আগে থেকেই জানত যে লেখক একটি জাদুর পৃথিবীর গল্প বলতে চলেছেন, কাজেই এখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। ম্যাজিক রিয়ালিজমের সৌন্দর্যটাই এখানে যে এই ম্যাজিকের ভীত অনেক গভীর রিয়ালিজম বা বাস্তবতায় প্রোথিত। বাস্তবতা হতেই এই জাদুর জন্ম এবং এ শক্ত ভীতের ওপর দাঁড়িয়েই গল্পগুলি অস্বাভাবিক সুন্দর সব মোড় নেয়। ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিটিউডের সেই বিখ্যাত প্যারাটি উল্লেখ করা যাক-

“ হোসে আর্কাদিয়ো বেডরুমের দরজা বন্ধ করার সাথে সাথেই পিস্তলের গুলির আওয়াজ ঘরময় প্রতিধ্বনিত হয়। রক্তের সরু একটি ধারা দরজার নীচ হয়ে, ঘরের আঙ্গিনা পেরিয়ে রাস্তায় গিয়ে পড়ে। আঁকাবাঁকা রাস্তা হয়ে, একবার ডানে একবার বামে বাঁক নেয়............ এবং এসে পৌঁছায় সে রান্নাঘরের সামনে, যেখানে রুটির সাথে মেশানোর জন্যে গোটা ছত্রিশ ডিম ফেটানোর প্রস্তুতি নিছিলেন উরসুলা।
‘ মাতা মেরী!!’ – উরসুলার চিৎকার শোনা যায়” ।

কল্পনা যেন কল্পনার শেষ মাত্রাকেও হার মানায় এখানে। মিকান্দোর অলিগলি ঘুরে এসে মায়ের পায়ের কাছে এসে যেন মৃত ব্যাক্তির রক্ত তীব্রভাবে অর্থবহ হয়ে ওঠে, যেন জীবন ফিরে পায়। বাস্তবতার নিরিখে রক্তের স্রোতের এহেন পথ পরিভ্রমণ নিঃসন্দেহে “অসম্ভব”, কিন্তু উপন্যাসের গভীরতায় নিমজ্জিত পাঠক কিন্তু এ অংশটিও পাঠ করে সত্য জেনে এবং সত্য মেনে। সন্তানের রক্তই যেন মায়ের কাছে সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ বহন করে আনে, পাঠকের কাছে তা হয়ে ওঠে নিখুঁত ট্র্যাজেডি। বাস্তবতার সাথে কল্পনা, অথবা জাদুর এ সংমিশ্রণ পাঠককে এনে দেয় আবেগ এবং নাটকীয়তার এক অভূতপূর্ব মিশেল। সব মিলিয়ে গল্প হয়ে ওঠে আরও বাস্তব।

ম্যাজিক রিয়ালিজম ধারার আবিষ্কারক মারকেজ নন, ব্রাজিলের মাচেদো ডি আসিস, আর্জেন্টিনার জর্জ লুইস বোর্হেস, ম্যাক্সিকোর হুয়ান রুলফ তার আগেই এই ধারায় লিখে এসেছেন। মারকেজ তার গল্প-উপন্যাসে রুলফের মাষ্টারপিস “পেদ্রো পারামো”-র প্রভাব কাফকার “ মেটামরফোসিস”-এর চেয়েও বেশী বলে উল্লেখ করেছেন। “পেদ্রো পারামোর” আধিভৌতিক শহর কোমালার সাথে মারকেজের মিকান্দোর মিল আছে বেশ। তবে এও স্বীকার কতে হবে যে ম্যাজিক রিয়ালিজম ল্যাটিন অ্যামেরিকার একার সম্পত্তি নয় বরং এর ব্যাবহার সমগ্র পৃথিবী জুড়েই হয়ে এসেছে। তবে যারা এই স্টাইলে লিখেছেন, মারকেজ তারমধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

ডিকেন্সের “ব্লিক হাউজ”-এর অসমাপ্ত কোর্ট কেসের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় মিকান্দোকে একসপ্তাহ ধরে অতিক্রম করে চলা- প্রায় অসমাপ্ত রেলভ্রমণের।ডিকেন্স এবং মারকেজ, দুজনেই ছিলেন “কমিক হাইপারবোল” বা অতিরঞ্জিত হাস্যরসিকতা ব্যাবহারে বিশেষ পারদর্শী। ডিকেন্সের সেই সরকারী অফিস, যেখানে কেউ কোন কাজই করে না , তার সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় মারকেজের উপন্যাসের দুর্নীতিগ্রস্থ কতৃত্বপরায়ন গভর্নরদের।

কাফকার মেটামরফোসিসের পর বৃহদাকার তেলাপোকায় পরিণত হওয়া গ্রেগর সামসাকেও মারকেজের মিকান্দোয় জায়গা করে দেয়া যেত। উদ্ভট এ রুপান্তরকেও সেখানে দেখা হত অতিস্বাভাবিক একটা ব্যাপার হিসেবে। গোগলের কোভালভ, খসে পড়া নাক নিয়ে যে সেইন্ট পিটার্সবার্গের চারপাশে ঘুরে বেড়াতো, তাকেও বেশ মানিয়ে যায় মিকান্দোয়। ফরাসী স্যুররিয়ালিস্ট এবং অ্যামেরিকান ফ্যাবুলিস্টের মুভমেন্টের অনুসারীদেরকেও মারকেজের একই ঘরানার সাহিত্যসঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাস্তবতা থেকে খানিকটা সরে গিয়ে গল্পের প্লট তৈরি, কল্পনাকে লাগামছাড়া ভাবে ছুটতে দেয়া, বুনো সত্যের সৌন্দর্য উদঘাটনে তারা কাজ করেছেন একই সাথে।

মারকেজ জানতেন, তিনি অত্যন্ত বিস্তৃত এক সাহিত্যিক পরিসরের পরিচায়ক। উইলিয়াম কেনেডি বলেন- “ম্যাজিক রিয়ালিজম ম্যাক্সিকোর সড়কে সড়কে ছড়িয়ে আছে”। তিনি আরও বলেন – “ল্যাটিন সাহিত্যে ‘রিয়ালিটি’ বা বাস্তবতা হচ্ছে ‘র্যা বিলাইসিয়ান’” (উল্লেখ্য যে ফ্রাঙ্কো র্যা্বিলাইস ফ্রেঞ্চ রেনেসার সময়কার অন্যতম ফরাসী লেখক, ধর্মগুরুসহ বহুগুণে গুণান্বিত এক ব্যাক্তি। তার লেখনীর মধ্যে হাস্যরস এবং নান্দনিক কাল্পনিকতার ব্যাঞ্জনা বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হত।)।

তবে আবারও উল্লেখ করি, উড্ডীয়মান কল্পনাকে আগে বাস্তবতার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে হবে। যখন প্রথমবারের মত মারকেজের বই আমার হাতে আসে, আমি তখনও মধ্য অথবা দক্ষিণ অ্যামেরিকার কোন দেশ ভ্রমণ করি নি। তবুও, তার চরিত্র, তার বর্ণিত জায়গাগুলো আমার কাছে খুব চেনা মনে হয়েছে। মনে হয়েছে যে এ জায়গাগুলো, এ মানুষগুলোকে আমি ভারতে বা পাকিস্তানে দেখেছি। ভৌগলিকভাবে পৃথিবীর দু’প্রান্তে অবস্থিত দুটি মহাদেশে শহর আর গ্রামের দ্বন্দ্ব একই ভাবে প্রতীয়মান, যেমন প্রতীয়মান ধনী-দরিদ্রের বিভেদ, শাসক এবং শোষকের প্রভেদ। দুটি দেশই এক সময় উপনিবেশিক শাসকদের অধিনস্থ ছিল, ধর্ম দুই জায়গাতেই তীব্র ভাবে সক্রিয়।

মারকেজের কর্নেল এবং জেনারেলদের আমার পরিচিত, তাদের ইন্ডিয়ান অথবা পাকিস্তানী ভার্শন আমি অনেক দেখেছি; মারকেজের উপন্যাসের ভণ্ড ধর্ম ব্যাবসায়ি বিশপেদের সাথে মিল পেয়েছি আমার উপন্যাসে বর্ণিত ভণ্ড ধর্ম ব্যাবসায়িদের। আমার উপন্যাসের পৃথিবীর ল্যাটিন ভাষ্য ছিল মারকেজের উপন্যাসের পৃথিবী। মারকেজের লেখনীর এ বাস্তবতাটুকুর প্রেমেই আমি পড়ে যাই, তার জাদুকরী দিকের নয় (যদিও ইন্দো-পাকিস্তান উপমহাদেশে বেড়ে ওঠা লেখক হিসেবে এই দিকটাও আমার জন্যে ছিল যথেষ্ট আকর্ষণীয়)। তবে, আমার লেখার পরিসর ছিল মারকেজের তুলনায় অনেকটাই শহুরে। গ্রামের যে একটা সজীব স্পর্শ, এটাই মারকেজের গল্পগুলিতে এক অন্যরকম বাস্তবতার ছবি অঙ্কিত করে। তার গ্রামগুলো বড় অদ্ভুত, সেখানে প্রযুক্তিকে দেখা হয় ভীতির চোখে, কিন্তু এক ঈশ্বর প্রেমে নিমগ্ন আত্মত্যাগী কন্যার আকাশ পথে পরিভ্রমণকে মেনে নেয়া হয় সরলতার সাথে। এ যেন ঠিক ভারতেরই এক গ্রাম, যেখানে প্রতিদিনের রুটিন লাইফের সাথে অলৌকিকতা মিশে আছে ওতপ্রোত ভাবে।

সাংবাদিক হিসেবে মারকেজ ছিলেন সর্বদা নিরপেক্ষ। তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি তার স্বপ্নকেই সত্য বলে মনে করতেন। তিনি ছিলেন হাস্যরস, কল্পনা এবং সৌন্দর্যের সমন্বয়ে অনন্য এক লেখক। বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা যায় তার “লাভ ইন দা টাইম অফ কলেরা”- বইয়ের শুরুর অংশটুকু, যেখানে তিনি লেখেন- “বাদামের তীক্ষ্ণ ঘ্রাণ তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় প্রতিদানহীন ভালোবাসার ফসল” অথবা “দা অটাম অফ দা প্যাট্রিআর্ক”-এ স্বৈরাচারী একনায়ক ক্যারিবীয় লোকটিকে অ্যামেরিকানদের কাছে বিক্রি করে দেয়ার মুহূর্ত, প্রথমবারের মত মিকান্দোতে ট্রেনের আগমনে গ্রাম্য মহিলার শঙ্কিত চিৎকার- “ ভয়াবহ জিনিসটি চুল্লী জ্বালিয়ে নিজের পেছনে আমাদের গ্রামের মত একখানা গ্রাম টেনে নিয়ে এগিয়ে আসছে!” এবং সে অবিস্মরণীয় প্যারাটি-

“ কর্নেল অরেলিয়াস বুয়েন্দিয়ার দিকে ৩২বার সশস্ত্র অভুথানের আয়োজন করে ব্যার্থ হন প্রতিটিতেই । ১৭ জন পৃথক মহিলার গর্ভে তার ১৭টি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তাদের সবাইকে একই রাতে একে একে মেরে ফেলা হয়, যখন তার সবচেয়ে বড় ছেলের বয়স ৩৫। তিনি ১৪ বার পৃথকভাবে মৃত্যুর মুখ হতে ফিরে আসেন, তাকে হত্যার জন্য ৭৩টি অ্যামবুশ পরিচালনা করা হয়, তিনি একবার ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখেও পড়েন। কিন্তু তিনি বেঁচে যান প্রতিদিন কফির সাথে স্ট্রীকনিনের ডোজ নিয়ে নিয়ে, যা কিনা একটা শক্তিশালী ঘোড়াকে মেরে ফেলতে সক্ষম”।

লেখক হিসেবে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন তিনি যে, তার প্রতি আমাদের সঠিকতম অনুভূতি হতে পারে – শ্রদ্ধা। নিঃসন্দেহে তিনি ছিলেন আমাদের সময়ের সেরা লেখক।




(লেখাটি জনকণ্ঠের সাহিত্য পাতায় প্রকাশিত। আমার প্রথম অনুবাদ। অনুবাদে টুকটাক ভ্রান্তি মার্জনার চোখে দেখবার অনুরোধ )

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০২১ দুপুর ১২:১৩
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×