আমাদের দেখা হয় না বহুদিন।
আমার অভাবক্লিষ্ট টানাপোড়েনের সংসারে,
স্ত্রীর ম্লান হয়ে আসা হাসিমুখ নও তুমি।
নও তুমি আমার শৈশবের সোনাঝরা শীতের কোন সকাল
যার খোঁজে, ভূতেপাওয়া মানুষের মত -
আজও প্রায়ই আমি মাঝরাতে উঠে বসে থাকি।
তবুও ভাবি, আমাদের দেখা হয় না বহুদিন।
'তুমি মিশেছিলে মোর দেহের সনে
তুমি মিলেছিলে মোর প্রাণে মনে'
কাক ডাকা ভোরে ,
পাখিদের নীড়ফেরা সন্ধ্যায়।
'প্রেয়সী' অর্থে প্রেয়সী ছিলে না তবু
থাকতাম তোমার অপেক্ষায়।
তোমার চাঁদমুখ দর্শনে পকেটে ভর করতো দেবী লক্ষ্মী
মনে শান্তির সুবাতাসে, চুপিচুপি, পায়ে পায়।
তোমার সূত্রে কত অজানারে জানা, কত মানুষ চেনা
কত বিষাদময় বাদানুবাদ,
কত হাতাহাতি
কত চ্যাতাচেতি
পরিপাটি ধোপদুরস্ত পোশাক
গলায় অফিসের আইডি
চেহারা, রাগে রাঙ্গা।
কতবার , কত - কতবার ফিরিয়ে দিয়েছ মোরে
আমি তবু ফিরে ফিরে এসেছি তোমার দ্বারে
দেবীলক্ষ্মীর কৃপার তোড়জোড়ে
যতবার তোমার দরজায় জোড় হস্তে দাঁড়িয়েছি
অতবার কোন প্রণয়ী, অফিসের বস, বাড়িওয়ালা,
বা পাওনাদারের সামনেও দাঁড়াইনি ছোট হয়ে।
অথচ করোনা সব বদলে দিলো।
রাস্তায় রাস্তায় হরদম জান কবচ করে বেড়ানো
বাংলার আজরাইল, আজ তোমার পায়েও বেড়ি?
আজ ঘোরেনা তোমার চাকা?
তোমারো তো সংসার আছে, আজরাইল
তোমার সন্তানেরও ক্ষিদে পায়।
তাই কী স্টিয়ারিং ছেড়ে
আজ ভোরে
তুমি এসে দাঁড়িয়েছ
ছুরি হাতে, টিটিপাড়ার মোড়ে?
আজ আমার প্রার্থনায় তুমিও আছো আজরাইল
আছে তোমার অভুক্ত শিশু , ছিঁড়ে শাড়িতে বৌ
জুড়ে কদরের দোয়ার ফোঁড়ে ফোঁড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০২১ সকাল ১১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



